hadith book logo

অন্য-পথের-কন্যারা

লেখকঃ Mrs. Carol. L. Anway M.S. Ed. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

ইসলামের মাঝে পরিচিত কিছু পাওয়া

নবীদের সাথে ইসলামের একাত্মতা, আল্লাহ্ যে খৃস্টান ও ইহুদীদের উপাস্য ঈশ্বরই একথা জোর দিয়ে বলা, JESUS কে একজন বিশেষ নবী এবং শিক্ষক হিসেবে স্বীকার করা, নিজেদের মূল ABRAHAM (ইব্রাহীম) পর্যন্ত চিহ্নিত করা- এই সবকিছুই শেষ কথা' নিয়ে নবী মুহাম্মদের আসার পরিবেশটাকে বেশ পরিচিত করে তোলে বা স্বাভাবিক করে তোলে- তিনি এসেছিলেন সরাসরি ঈশ্বরের বাণী দিয়ে মানুষকে সঠিক পথের নির্দেশনা দিতে।

এই পরিচিত ভাবটা বা স্বাভাবিক মনে হওয়াটা, এই সব মেয়েদের কারো কারো বেলায় মুসলিম বিশ্বাসের কথা শুনে তাদের সহজে বদলে যেতে সাহায্য করেছে।

আমার স্বামীর সাথে আমার দেখা হবার পর আমরা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসও ভাগাভাগি করে নিতাম, যা সদৃশ ছিল। JESUS কে ঈশ্বর মনে করার আমার বিশ্বাস নিয়ে, সে যখন প্রশ্ন করলো, তখন আমি আমার ধর্মীয় অনুভূতিগুলোকে খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করি। এছাড়া সে আমাকে নবুয়ত ও মুহাম্মদ সম্বন্ধে ব্যাখ্যা দিল। আমি ইসলামের এই সমস্ত ব্যাখ্যার সাথে একমত হই। আগ্রহভরে আমি ইসলাম সম্বন্ধে পড়তে শুরু করি। আমাদের বিয়ের ৬ মাস পরে আমি নামাজ পড়তে শুরু করি আর রমজান মাসে রোজাও রাখি। এই সময়ে আমি বুঝলাম যে ইসলাম আমার নিজের বিশ্বাসই প্রকাশ করে। কেবল কিছু মানুষ কষ্ট পাবে ভেবে, আমি আর আমার বিশ্বাসকে অস্বীকার করতে পারলাম না।

যে মানুষটি পরবর্তীতে আমার স্বামী হবে, আমার যখন তার সাথে দেখা হলো আর আমি জানলাম যে, সে মুসলিম, আমি শঙ্কিতবোধ করলাম এবং যা আমার ভয়ের কারণ ছিল, সে সব নিয়ে সব প্রশ্ন করলাম। ইসলাম ও সামাজিক পরিবর্তন' নামে একটা কোর্সও আমি নিলাম এবং ইসলাম সম্বন্ধে এমনকি আরও বেশী জানলাম। আমি এ কোর্সে যত বেশী জানতে লাগলাম, ততই আমার প্রশ্ন সংখ্যা বাড়তে লাগলো আর ততই আমি ভয় পেতে লাগলাম। এই ভয়টা অবশ্য অজানাকে জানার ভয়ের চেয়ে আলাদা ছিল- এই ভয় ছিল নিজেকে আবিষ্কার করার একটা ভয়। আমি আবিষ্কার করলাম যে, ইসলামের মাধ্যমে শেখানো বিশ্বাসগুলো আমার মাঝে সারা জীবনই ছিল, কেবল আমি তার নাম জানতাম না। ঐ কোর্স, কোরআন এবং আমার স্বামী আমাকে বুঝতে সাহায্য করে যে, বেশ ক'বছর ধরেই নিজের অজান্তেই আমি একটা মুসলিম জীবন যাপন করছিলাম। (ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ সম্বন্ধে জানার আগ পর্যন্ত, আমি মুসলিম হিসেবে সম্পূর্ণ জীবন যাপন বা অনুশীলন শুরু করিনি অবশ্য)। তাই আমাকে যখন কেউ জিজ্ঞেস করে যে, আমি কতদিন যাবত মুসলিম- আমি তাদের বলতে পারি না, কিন্তু আমার মনে হয়, আমি এগারো বছর যাবত একজন মুসলিম। তারা যদি জিজ্ঞেস করে আমি কবে ধর্মান্তরিত হয়েছি, আমি তাদের সহজেই বলতে পারি- ১৯৯২-এ। সত্যি কথা বলতে কি, আমার নিজের আগে আমার স্বামী বুঝতে পারে যে ভিতরে ভিতরে আমি একজন মুসলিম, কিন্তু সে আমাকে বলেনি। সে চেয়েছিল আমি নিজে নিজেই যেন সে সত্য অনুধাবন করি ।

আর এভাবেই এই মেয়েদের বিশ্বাসের যাত্রা শুরু হয় যা তাদের প্রতিবেশকে প্রভাবিত করে- প্রভাবিত করে সেই সব পরিবারকে যেখানে তারা বড় হয়েছিল, তাদের বন্ধুদের, কর্মস্থলে বা স্কুলে তাদের সহকর্মীদের। সবচেয়ে বড় কথা, এটা তাদের নিজেদের জীবনের দিক ও প্রবাহ বদলে দেয়- শুধুমাত্র ধর্মীয় ব্যাপারেই নয়, তাদের অস্তিত্বের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারেই কথাটা সত্যি।