১
অন্য-পথের-কন্যারা
লেখকঃ Mrs. Carol. L. Anway M.S. Ed. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
আধ্যাত্মিক শূন্যস্থান পূরণের জন্য অনুসন্ধান।
অনেক সাড়াদানকারী মেয়ে আধ্যাত্মিক জগতের এমন কিছুর খোঁজে ছিল যা তাদের জীবনের শূন্যতাকে ভরে দেবে। এই উন্মুক্ততার মাঝে দিয়েই অনেকেই ইসলামের প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে শুরু করে। ধর্মান্তরিত হবার অভিজ্ঞতার যে বর্ণনা মেয়েরা দিয়েছে, তার প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই শূন্যতা পূরণের প্রয়োজনটা প্রতিফলিত হয়। তারা বিভিন্ন অবস্থা থেকে ধর্মান্তরিত হবার মুহূর্তে পৌছায় কিন্তু অধিকাংশ মেয়েই যেন গ্রহণ করার জন্য তৈরি হয়েই ছিল, কারণ তাদের ভিতরের এই প্রয়োজন এবং মুসলমান কোন জনের মার্জিত আহবান বা অন্য কোন সূত্রের তরফ থেকে আহবান, যা তাদের হৃদয় ও আত্মাকে ছুঁয়ে যায় ।
আমি এমন একজনকে বিয়ে করি যে খৃস্টান ছিল না আর আমরা দুজনেই কোন ধর্মীয় আচার-আচরণের ধার ধারতাম না। আমি তখনও নিজেকে একজন খৃস্টানই মনে করতাম। এছাড়া আর কিইবা রয়েছে, আমি ভাবতাম । আমি তখনও ঈশ্বরে এবং তার পৃথিবী সৃষ্টিতে বিশ্বাস ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু বড় হতে হতে শেখা বাকি বিশ্বাসগুলো সম্বন্ধে আমি নিশ্চিত ছিলাম না।
১৯৯০ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আমি ভাবতে শুরু করলাম যে, আমার আসলে কি প্রয়োজন আর আমার বিশ্বাসই বা কি? ১৯৯১ সালের গোড়ার দিকে আমি লাইব্রেরীতে বই খুঁজতে শুরু করি এবং ইসলাম সম্বন্ধে পড়তে শুরু করিমূলতঃ এই জন্য যে, আমি অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে এর প্রতি বেশী কৌতুহল অনুভব করি। আমি ধীরে ধীরে এর উপর বেশ কিছু বই পড়ি, কিন্তু আমি আমার জীবন যেভাবে যাপন করে আসছিলাম সবকিছু তেমনই চলছিল। ১৯৯২ সালের শরৎকালে, আমি ঠিক করলাম যে এ ব্যাপারে আমার কিছু করা উচিত হয় গুরুত্বের সাথে ও গভীরভাবে এ সম্বন্ধে জানা উচিত, নয় বাদ দেয়া উচিত। আমি যে ছোট শহরে থাকতাম, তারচেয়ে কুড়ি মাইল দূরে, MANHATTAN-এ, আমি অনেক আমেরিকান-মুসলিম বোনদের দেখা পেলাম। আমি তাদের সাথে পড়াশোনা করলাম এবং গত দেড় বছর ধরে আমি যে সমস্ত পুঁথিগত বিদ্যা সাত করেছি, তার বাস্তব প্রয়োগ সম্বন্ধে শিখলাম। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে আমি আমার শাহাদা গ্রহণ করি।
আমার সংগ্রাম শুরু হয় বহু বছর আগে, যখন আমি আমার আত্মপরিচিতির খোজে ছিলাম। ১৯৬০ এবং ১৯৭০-এর দশকে আমেরিকাতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে বড় হওয়াতে, আমি অনেক অর্থপূর্ণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হই। অনেকগুলো বর্ণবাদ ইস্যুতে মিছিল করে আর MISSISIPPI ও TEXASএর শুরুর দিকের আত্মীকরণের চাপ অনুভব করে- একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে জীবনে আমার ভূমিকাকে, আমি প্রশ্ন করতে শুরু করলাম।
পেশায় আমি সফল ব্যক্তিত্ব হলেও, আমার ব্যক্তিগত জীবন একবারে হযবরল অবস্থায় ছিল। খারাপ বিয়ে, বাবা-মা-ভাই-বোনদের সাথে খারাপ সম্পর্ক, চার্চ ও ঈশ্বর নিয়ে অতৃপ্তি- এই সবকিছুই আমাকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন করলো যে, আমি কে? কেন? এবং কিভাবে আমি এই সমস্ত আপনজনের সাথে, তথা সাধারণভাবে সমগ্র পৃথিবীর সাথে আমার সম্পর্কের উন্নয়ন করতে পারি।
আমি কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাসে গবেষণা শুরু করে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করি। আমি জেনে আশ্চর্য হলাম যে, বেশীরভাগ কৃষ্ণাঙ্গই ইসলামিক দেশসমূহ থেকে এদেশে আসে। আমার কিছু সুন্নী মুসলিমের সাথে পরবর্তীতে দেখা হয়, যাদের স্বর্গ এবং নরকের ধারণা আমার সূফী হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। ঐ সময় আমি WASHINGTON D.c'র একটা CATHOLIC স্কুলে বক্তৃতা ও নাটক সম্বন্ধে শিক্ষা দিতাম।
১৯৭৪ সালে আমি মুসলমান হই। বছর শেষে আমাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়, কারণ অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাও ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়।
ইসলাম আমাকে প্রশান্তি দেয়। খৃস্টান হিসেবে আমি যে সমস্ত অপরাধ বোধ অনুভব করতাম, সে সব ছাড়াই ইসলাম আমাকে ঈশ্বরকে পেতে সাহায্য করে। আমি সব সময়ই ঈশ্বরকে ভালোবাসতাম, আর আমি সরাসরিই (ধর্ম যাজক। ছাড়া) তার সাথে কথা বলতে পারি, এই জ্ঞানটা যেন ছিল এক স্বাগত আপ্যায়ন।
ইসলামের সাথে আমার পরিচয় ঘটে ১৪ বছর বয়সে, কিন্তু পারিবারিক সংঘাতের কারণে আমি শিখতে বা অনুশীলন করতে পারিনি। কলেজে যাবার জন্য বাড়ি ছাড়ার পরে আমার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা লাভ করি। সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন আমাকে সাধন করতে হয়েছিল (বেশ-ভূষা ও খাবারের মতো স্পষ্ট ব্যাপারগুলোর বাইরে), তা ছিল আমার ও আমার পরিবার তথা প্রাক্তন বন্ধুদের সাথে একটা দূরত্ব সৃষ্টি করা। আমি এটা করেছিলাম, নিজের একটা সংরক্ষণ হিসেবে, যা আমাকে আমার ধর্মে শক্তি সঞ্চয় করতে দেবে- কোন বিচ্যুতি ছাড়া। কিছু হারানোর অনুভূতি আমার সামান্যই ছিল, কারণ নতুন পাওয়া মুসলিম বন্ধু ও পরবর্তীতে আমার স্বামী দ্বারা সে শূন্যস্থান পূরণ হয়ে যায়।
আমি এমন একজনকে বিয়ে করি যে খৃস্টান ছিল না আর আমরা দুজনেই কোন ধর্মীয় আচার-আচরণের ধার ধারতাম না। আমি তখনও নিজেকে একজন খৃস্টানই মনে করতাম। এছাড়া আর কিইবা রয়েছে, আমি ভাবতাম । আমি তখনও ঈশ্বরে এবং তার পৃথিবী সৃষ্টিতে বিশ্বাস ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু বড় হতে হতে শেখা বাকি বিশ্বাসগুলো সম্বন্ধে আমি নিশ্চিত ছিলাম না।
১৯৯০ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আমি ভাবতে শুরু করলাম যে, আমার আসলে কি প্রয়োজন আর আমার বিশ্বাসই বা কি? ১৯৯১ সালের গোড়ার দিকে আমি লাইব্রেরীতে বই খুঁজতে শুরু করি এবং ইসলাম সম্বন্ধে পড়তে শুরু করিমূলতঃ এই জন্য যে, আমি অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে এর প্রতি বেশী কৌতুহল অনুভব করি। আমি ধীরে ধীরে এর উপর বেশ কিছু বই পড়ি, কিন্তু আমি আমার জীবন যেভাবে যাপন করে আসছিলাম সবকিছু তেমনই চলছিল। ১৯৯২ সালের শরৎকালে, আমি ঠিক করলাম যে এ ব্যাপারে আমার কিছু করা উচিত হয় গুরুত্বের সাথে ও গভীরভাবে এ সম্বন্ধে জানা উচিত, নয় বাদ দেয়া উচিত। আমি যে ছোট শহরে থাকতাম, তারচেয়ে কুড়ি মাইল দূরে, MANHATTAN-এ, আমি অনেক আমেরিকান-মুসলিম বোনদের দেখা পেলাম। আমি তাদের সাথে পড়াশোনা করলাম এবং গত দেড় বছর ধরে আমি যে সমস্ত পুঁথিগত বিদ্যা সাত করেছি, তার বাস্তব প্রয়োগ সম্বন্ধে শিখলাম। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে আমি আমার শাহাদা গ্রহণ করি।
আমার সংগ্রাম শুরু হয় বহু বছর আগে, যখন আমি আমার আত্মপরিচিতির খোজে ছিলাম। ১৯৬০ এবং ১৯৭০-এর দশকে আমেরিকাতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে বড় হওয়াতে, আমি অনেক অর্থপূর্ণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হই। অনেকগুলো বর্ণবাদ ইস্যুতে মিছিল করে আর MISSISIPPI ও TEXASএর শুরুর দিকের আত্মীকরণের চাপ অনুভব করে- একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে জীবনে আমার ভূমিকাকে, আমি প্রশ্ন করতে শুরু করলাম।
পেশায় আমি সফল ব্যক্তিত্ব হলেও, আমার ব্যক্তিগত জীবন একবারে হযবরল অবস্থায় ছিল। খারাপ বিয়ে, বাবা-মা-ভাই-বোনদের সাথে খারাপ সম্পর্ক, চার্চ ও ঈশ্বর নিয়ে অতৃপ্তি- এই সবকিছুই আমাকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন করলো যে, আমি কে? কেন? এবং কিভাবে আমি এই সমস্ত আপনজনের সাথে, তথা সাধারণভাবে সমগ্র পৃথিবীর সাথে আমার সম্পর্কের উন্নয়ন করতে পারি।
আমি কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাসে গবেষণা শুরু করে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করি। আমি জেনে আশ্চর্য হলাম যে, বেশীরভাগ কৃষ্ণাঙ্গই ইসলামিক দেশসমূহ থেকে এদেশে আসে। আমার কিছু সুন্নী মুসলিমের সাথে পরবর্তীতে দেখা হয়, যাদের স্বর্গ এবং নরকের ধারণা আমার সূফী হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। ঐ সময় আমি WASHINGTON D.c'র একটা CATHOLIC স্কুলে বক্তৃতা ও নাটক সম্বন্ধে শিক্ষা দিতাম।
১৯৭৪ সালে আমি মুসলমান হই। বছর শেষে আমাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়, কারণ অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাও ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়।
ইসলাম আমাকে প্রশান্তি দেয়। খৃস্টান হিসেবে আমি যে সমস্ত অপরাধ বোধ অনুভব করতাম, সে সব ছাড়াই ইসলাম আমাকে ঈশ্বরকে পেতে সাহায্য করে। আমি সব সময়ই ঈশ্বরকে ভালোবাসতাম, আর আমি সরাসরিই (ধর্ম যাজক। ছাড়া) তার সাথে কথা বলতে পারি, এই জ্ঞানটা যেন ছিল এক স্বাগত আপ্যায়ন।
ইসলামের সাথে আমার পরিচয় ঘটে ১৪ বছর বয়সে, কিন্তু পারিবারিক সংঘাতের কারণে আমি শিখতে বা অনুশীলন করতে পারিনি। কলেজে যাবার জন্য বাড়ি ছাড়ার পরে আমার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা লাভ করি। সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন আমাকে সাধন করতে হয়েছিল (বেশ-ভূষা ও খাবারের মতো স্পষ্ট ব্যাপারগুলোর বাইরে), তা ছিল আমার ও আমার পরিবার তথা প্রাক্তন বন্ধুদের সাথে একটা দূরত্ব সৃষ্টি করা। আমি এটা করেছিলাম, নিজের একটা সংরক্ষণ হিসেবে, যা আমাকে আমার ধর্মে শক্তি সঞ্চয় করতে দেবে- কোন বিচ্যুতি ছাড়া। কিছু হারানোর অনুভূতি আমার সামান্যই ছিল, কারণ নতুন পাওয়া মুসলিম বন্ধু ও পরবর্তীতে আমার স্বামী দ্বারা সে শূন্যস্থান পূরণ হয়ে যায়।