hadith book logo

অন্য-পথের-কন্যারা

লেখকঃ Mrs. Carol. L. Anway M.S. Ed. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩০

বিশ্বাসের বিষয়সমূহ

তিনটি মূল বিশ্বাস হচ্ছে ইসলামিক বিশ্বাসের ভিত্তি : ঈশ্বরের একত্ব, নবুয়ত ও মৃত্যুর পরের জীবন।

ঈশ্বরের একত্ব হচ্ছে তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিপ্রস্তর । আল্লাহ্ হচ্ছেন সেই এক এবং একমাত্র ঈশ্বর। আল্লাহ্ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে- “কেবল ঈশ্বর” বা “একমাত্র ঈশ্বর” (THE GOD) আর এর কোন পুংলিঙ্গ বা স্ত্রী লিঙ্গ বা বহু বচনও নেই; তাই আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোচ্চ সত্তা। আল্লাহ্ হচ্ছেন সব মানুষের সৃষ্টিকর্তা। মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ হচ্ছেন খৃষ্টান, ইহুদী, মুসলিম ও অন্যান্যদের ঈশ্বর। কাউকে বা কোন কিছুকে আল্লাহর সমপর্যায়ের মনে করাকে ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচারণ বলে গণ্য করা হয়। আল্লাহর একতুকে বলা হয় তৌহিদ আর তৌহিদ আত্মাহর বা ঈশ্বরের একত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে। খৃষ্টানদের ত্রয়ী ধারণা- অর্থাৎ পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা (HOLY SPIRIT)-এর ধারণাকে ইসলাম প্রত্যাখ্যান করে- JESUS-কে কোন ঐশ্বরিক আসন দেয় না ইসলাম। কিন্তু মুসলিমরা JESUS-কে একজন শ্রদ্ধেয় নবী ও ঈশ্বরের বার্তাবহ রসূল মনে করে।

বিশ্বাসের দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে আদম, ইব্রাহিম, ISAAC, ইয়াকুব, মূসা, সুলাইমান ও দাউদ- আদি পুস্তকের কিছু নবী আর জন ও JESUS-এর মতো নতুন পুস্তকের নবী তথা সর্বশেষ নবী মুহাম্মদের মাধ্যমে ঈশ্বর জীবন যাপনের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন

-মুহাম্মদ নিয়ে এসেছেন পৃথিবীর কাছে আল্লাহর শেষ বাণী এবং আক্ষরিক বাণী। প্রত্যেক নবীর নাম উচ্চারণ করলে বা লিখলে তারা বলে তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক বা নামের শেষে (Pbuh) অর্থাৎ PEACE BE UPON HIM । তারা খৃস্টান, ইহুদী ও মুসলিমদের ‘আসমানী কিতাব প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী" বলে মনে করে এবং নবীদের মাধ্যমে এদের মাঝে একটা যোগসূত্র ও আত্মীয়তা অনুভব করে।

নবী মুহাম্মদকে ঈশ্বরের বার্তাবহ বলে শ্রদ্ধা করা হয় (কিন্তু ঐশ্বরিক ভেবে পূজা করা হয় না) আর JESUS-কেও ঈশ্বরের বার্তাবহ মনে করা হয়। যদিও মুসলিমরা ও খৃস্টানরা, JESUS-এর ঐশ্বরিক গুণাবলীর ব্যাপারে একমত নয়। কিন্তু নৈতিকতার অনেক বিষয়ে, মৃত্যুর পরের জীবনে, শেষ বিচারের দিনে ইত্যাদিতে তারা একমত। কোরআন শিক্ষা দেয় যে, ব্যাভিচার, খুন, মিথ্যাচার, চুরি এবং প্রতারণা হচ্ছে ভুল কাজ বা পাপকর্ম।

মৃত্যুর পরের জীবন হচ্ছে ইসলামের তৃতীয় মৌলিক বিশ্বাস। জীবনে বিশ্বাস এবং সে অনুযায়ী কাজ দুইটাই জরুরী। তারা এক বিচারের দিনে বিশ্বাস করে, যে দিন ঈশ্বরের সামনে আমাদের স্বীয় কাজকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিটি কাজে সেটা ঈশ্বরের নির্দেশ মোতাবেক হচ্ছে কিনা, তা ভেবে দেখা অত্যন্ত জরুরী।