১
অন্য-পথের-কন্যারা
লেখকঃ Mrs. Carol. L. Anway M.S. Ed. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৫
সংস্কৃতির মিশ্রণ
আমাদের কন্যারা মুসলিম হতে শিখছে এবং একই সময়ে যদি অন্য কোন দেশের একজন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকে, তবে হয়তো তারা পরিবারে অনেক নতুন আচার-আচরণের সংমিশ্রণ করে চলেছে। মেয়েরা আমেরিকান সংস্কৃতি, স্বামীর পটভূমির ঐতিহ্য এবং এ সব কিছুকে ইসলামিকভাবে ব্যাখ্যার প্রচেষ্টা- এই তিনটি ব্যাপারের সংমিশ্রণের কথা বলেছে।
অনেক আচার-আচরণ যেমন পোষা প্রাণীর ব্যাপার, যেভাবে আমরা রান্না করি, গোসল করি এবং কথা বলি, আর সৌজন্যমূলক আচরণ, এসবই আমার স্বামীর ঐতিহ্য থেকে এসেছে। এখনকার জীবন ধারা, আমার শৈশবের জীবন ধারার চেয়ে ১০০% ভিন্ন এবং শৈশবের সেই জীবন ধারা, আমাদের আচারআচরণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
কিছু ব্যাপারে আমাদের জীবন মূলতঃ ইরানী ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি দ্বারা চালিত- আমরা যে খাবার খাই এবং যেভাবে তা রান্না করা হয় এবং আমার হিজাব ইত্যাদি। (হিজাব পরারও অনেক ধরণ আছে)। আমি অনেক কিছুই করি, যা ইরানী, কিন্তু আমার শিষ্টাচার ও চিন্তা-ভাবনা এখনো পুরো মাত্রায় আমেরিকান।
একটা মিশ্রণ ঘটেছে- ঘরের ভিতরে কোন জুতা নয়, শৌচকর্ম, ফোন ধরে আসসালামু আলাইকুম (মুসলিমদের মাঝে বিশ্বজনীন সম্ভাষণ)- এসবই ইসলামিক রীতিনীতি। ৭৫% সময়ে আমরা পার্সী খাবার খাই।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইরানী আচার-আচরণ তেমন স্থান পায় না। যদিও কিছুটা আরব আচরণ হয়তো বা থেকে থাকবে। আমাদের বাচ্চারা আরবীতে কিছু খেলা করে যেগুলো আমার স্বামী তার ছোটবেলায় খেলতো। সপ্তাহে দু'বার আমার স্বামী বাচ্চাদের আরবী এবং কোরআন শিক্ষা দেয়।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমার স্বামীর দেশের, অর্থাৎ সিরিয়ার আচার-আচরণ প্রধানতঃ লক্ষণীয়। আমার বেশীরভাগ বই বিভিন্ন দেশের (অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের)। তাদের ঐতিহ্যসমূহের প্রভাবও রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আমার স্বামীর মা যখন আমাদের কাছে বেশ অনেকদিনের জন্য বেড়াতে আসেন। তিনি সব সময়েই সিরিয়ার একটা অংশ সাথে করে নিয়ে আসেন। তিনি যখন এখানে থাকেন না, তখন আমাদের জীবন মূলতঃ আমেরিকান মুসলিমের জীবন। এটা হচ্ছে সাংস্কৃতিক এক মিশ্রণ।
আমার স্বামী আমাদের আরবী ভাষা শিখতে উৎসাহ দেয় এবং একইভাবে নিজে সে আমেরিকান শিখতে চেষ্টা করে। যেমন বাচ্চাদের খেলার গান, ছড়া ও প্রবাদ ইত্যাদি। আমরা স্বস্তি সহকারে আমাদের সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটাতে চেষ্টা করি। আর আমরা দু'জনেই আমাদের আশেপাশে অন্য সংস্কৃতি এবং ভাষার মানুষের উপস্থিতিতে অভ্যস্ত।
ইসলামই হচ্ছে একমাত্র সংস্কৃতি। আমি এমনকি চেষ্টা করি, আমেরিকান সংস্কৃতি যাতে অনুসরণ করা না হয়। আমি যা কিছুই করি তাতে ইসলামকেই প্রথমে স্থান দিতে চেষ্টা করি। আমার স্বামীর পরিবার ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে আটকা পড়ে আছে। এই ব্যাপারটা আমরা বেড়াতে গেলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করেছিল।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইরানী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত। আর তা হবে নাই বা কেন আমার স্বামী একজন ইরানী। এটার পরিবর্তন কখনো হবে না। সে আমাদের গল্প বলে (ইরানী), আমরা গান গাই এবং অনেক ইরানী খাবার খাই।
আমাদের জীবন সাদামাটা দৈনন্দিন জীবন। আমাদের পরিবারের স্বাতন্ত্র এখানেই যে, আমরা জীবনকে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাই এবং আমরা আমাদের বাচ্চাদের কাছে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ঘটনার মাধ্যমে, ইসলামকে ব্যাখ্যা করি।
আমরা দুজনেই যেহেতু মুসলিম, আমাদের পরিবারের উপর প্রধান প্রভাবই হচ্ছে ইসলাম। অবশ্যই তার সাথে মিশে রয়েছে ওর দেশের খাবার এবং ঘুম থেকে উঠে, গোসলের সময় এবং ঘুমুতে যাবার সময়কার ঘোট ঘোট বক্তব্য (SAYINGs) সমূহ। আমি বোধ করি পরিবারে আমি আমার নিজস্ব ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছি, কেননা আমি সত্যিই চাই যে, আমার পরিবার একটা ইসলামিক পরিবার হোক। আমরা অনেক নতুন আচার -আচরণ গঠন করেছি। আমেরিকায় আমার স্বামী খুবই নিঃসঙ্গ। আঠারো বছর বয়সে ফেলে আসা পরিবারকে সে কখনোই হতে পারে না এবং তাদের অভাব বোধ করে। আমি তার দুঃখ ভরে দিতে চেষ্টা করি- ঘরের আমার ভূমিকাকে গুরুত্ব সহকারে পালন করে এবং ভালোবাসা দিয়ে।
এই জরিপের মেয়েদের প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়ার সময় তাদের বিয়ে নিয়ে অপেক্ষাকৃত সুখী মনে হয়েছে (আমেরিকান মান অনুযায়ী)। তারা বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এইসব মুসলিম পুরুষদের প্রতি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখে আকৃষ্ট হয়েছে, যা তাদের কাছে পূর্ণতা সম্পন্ন এবং ইতিবাচক মনে হয়েছ। ধর্মান্তরিত হবার সময়ে সব মেয়েরাই কোন মুসলিমকে বিয়ে করেনি- কেউ কেউ ধর্মান্তরিত হবার সময় অবিবাহিতা ছিল এবং পরবর্তীতে তারা চেয়েছে একজন অনুশীলনরত মুসলিমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে। যে কোন ধর্মের ব্যাপারেই একটা যুগল যদি ধর্মীয় ব্যাপারে সমমনা হয়, তবে তা তাদের জীবনে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করে।
অনেক আচার-আচরণ যেমন পোষা প্রাণীর ব্যাপার, যেভাবে আমরা রান্না করি, গোসল করি এবং কথা বলি, আর সৌজন্যমূলক আচরণ, এসবই আমার স্বামীর ঐতিহ্য থেকে এসেছে। এখনকার জীবন ধারা, আমার শৈশবের জীবন ধারার চেয়ে ১০০% ভিন্ন এবং শৈশবের সেই জীবন ধারা, আমাদের আচারআচরণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
কিছু ব্যাপারে আমাদের জীবন মূলতঃ ইরানী ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি দ্বারা চালিত- আমরা যে খাবার খাই এবং যেভাবে তা রান্না করা হয় এবং আমার হিজাব ইত্যাদি। (হিজাব পরারও অনেক ধরণ আছে)। আমি অনেক কিছুই করি, যা ইরানী, কিন্তু আমার শিষ্টাচার ও চিন্তা-ভাবনা এখনো পুরো মাত্রায় আমেরিকান।
একটা মিশ্রণ ঘটেছে- ঘরের ভিতরে কোন জুতা নয়, শৌচকর্ম, ফোন ধরে আসসালামু আলাইকুম (মুসলিমদের মাঝে বিশ্বজনীন সম্ভাষণ)- এসবই ইসলামিক রীতিনীতি। ৭৫% সময়ে আমরা পার্সী খাবার খাই।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইরানী আচার-আচরণ তেমন স্থান পায় না। যদিও কিছুটা আরব আচরণ হয়তো বা থেকে থাকবে। আমাদের বাচ্চারা আরবীতে কিছু খেলা করে যেগুলো আমার স্বামী তার ছোটবেলায় খেলতো। সপ্তাহে দু'বার আমার স্বামী বাচ্চাদের আরবী এবং কোরআন শিক্ষা দেয়।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমার স্বামীর দেশের, অর্থাৎ সিরিয়ার আচার-আচরণ প্রধানতঃ লক্ষণীয়। আমার বেশীরভাগ বই বিভিন্ন দেশের (অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের)। তাদের ঐতিহ্যসমূহের প্রভাবও রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আমার স্বামীর মা যখন আমাদের কাছে বেশ অনেকদিনের জন্য বেড়াতে আসেন। তিনি সব সময়েই সিরিয়ার একটা অংশ সাথে করে নিয়ে আসেন। তিনি যখন এখানে থাকেন না, তখন আমাদের জীবন মূলতঃ আমেরিকান মুসলিমের জীবন। এটা হচ্ছে সাংস্কৃতিক এক মিশ্রণ।
আমার স্বামী আমাদের আরবী ভাষা শিখতে উৎসাহ দেয় এবং একইভাবে নিজে সে আমেরিকান শিখতে চেষ্টা করে। যেমন বাচ্চাদের খেলার গান, ছড়া ও প্রবাদ ইত্যাদি। আমরা স্বস্তি সহকারে আমাদের সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটাতে চেষ্টা করি। আর আমরা দু'জনেই আমাদের আশেপাশে অন্য সংস্কৃতি এবং ভাষার মানুষের উপস্থিতিতে অভ্যস্ত।
ইসলামই হচ্ছে একমাত্র সংস্কৃতি। আমি এমনকি চেষ্টা করি, আমেরিকান সংস্কৃতি যাতে অনুসরণ করা না হয়। আমি যা কিছুই করি তাতে ইসলামকেই প্রথমে স্থান দিতে চেষ্টা করি। আমার স্বামীর পরিবার ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে আটকা পড়ে আছে। এই ব্যাপারটা আমরা বেড়াতে গেলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করেছিল।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইরানী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত। আর তা হবে নাই বা কেন আমার স্বামী একজন ইরানী। এটার পরিবর্তন কখনো হবে না। সে আমাদের গল্প বলে (ইরানী), আমরা গান গাই এবং অনেক ইরানী খাবার খাই।
আমাদের জীবন সাদামাটা দৈনন্দিন জীবন। আমাদের পরিবারের স্বাতন্ত্র এখানেই যে, আমরা জীবনকে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাই এবং আমরা আমাদের বাচ্চাদের কাছে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ঘটনার মাধ্যমে, ইসলামকে ব্যাখ্যা করি।
আমরা দুজনেই যেহেতু মুসলিম, আমাদের পরিবারের উপর প্রধান প্রভাবই হচ্ছে ইসলাম। অবশ্যই তার সাথে মিশে রয়েছে ওর দেশের খাবার এবং ঘুম থেকে উঠে, গোসলের সময় এবং ঘুমুতে যাবার সময়কার ঘোট ঘোট বক্তব্য (SAYINGs) সমূহ। আমি বোধ করি পরিবারে আমি আমার নিজস্ব ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছি, কেননা আমি সত্যিই চাই যে, আমার পরিবার একটা ইসলামিক পরিবার হোক। আমরা অনেক নতুন আচার -আচরণ গঠন করেছি। আমেরিকায় আমার স্বামী খুবই নিঃসঙ্গ। আঠারো বছর বয়সে ফেলে আসা পরিবারকে সে কখনোই হতে পারে না এবং তাদের অভাব বোধ করে। আমি তার দুঃখ ভরে দিতে চেষ্টা করি- ঘরের আমার ভূমিকাকে গুরুত্ব সহকারে পালন করে এবং ভালোবাসা দিয়ে।
এই জরিপের মেয়েদের প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়ার সময় তাদের বিয়ে নিয়ে অপেক্ষাকৃত সুখী মনে হয়েছে (আমেরিকান মান অনুযায়ী)। তারা বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এইসব মুসলিম পুরুষদের প্রতি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখে আকৃষ্ট হয়েছে, যা তাদের কাছে পূর্ণতা সম্পন্ন এবং ইতিবাচক মনে হয়েছ। ধর্মান্তরিত হবার সময়ে সব মেয়েরাই কোন মুসলিমকে বিয়ে করেনি- কেউ কেউ ধর্মান্তরিত হবার সময় অবিবাহিতা ছিল এবং পরবর্তীতে তারা চেয়েছে একজন অনুশীলনরত মুসলিমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে। যে কোন ধর্মের ব্যাপারেই একটা যুগল যদি ধর্মীয় ব্যাপারে সমমনা হয়, তবে তা তাদের জীবনে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করে।