১
অন্য-পথের-কন্যারা
লেখকঃ Mrs. Carol. L. Anway M.S. Ed. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪
সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়া
এমন পরিবার রয়েছে যারা মেয়েদের ধর্মান্তরিত হবার সিদ্ধান্তকে মুক্ত মনে এবং মেনে নেয়ার মনোবৃত্তিতে নিয়েছে বিশেষতঃ প্রাথমিক উদ্বেগের অবসান যখন ঘটেছে এবং যখন বাবা-মা বুঝতে পেরেছেন যে তাদের মেয়েরা ভালোই থাকবে।
ধর্মান্তরিত হবার পরে, আমি নিজেকে হিজাব পরিহিত অবস্থায় প্রকাশ করি। আমি তাদের কাছে নিজেকে ব্যাখ্যা করি। আমি কখনো আমার পরিবার নিয়ে বিশেষ দুঃশ্চিন্তা করিনি। আমার জানা ছিল, আমি যাতে সুখী হবে, তা তারা মেনে নেবে। আমার এক ভাই আমাকে ওড়না নিয়ে ক্ষ্যাপাতো এবং তা খুলে ফেলতে বলতো। আমি মনে করি আমার জন্য মুসলিম হওয়াটা সহজই ছিল কারণ আমার পরিবার যে আমাকে পিঠ দেখাবে না, এ ধারণা আমার ছিল। আমি সব ব্যাখ্যা করেছি এবং খোলাখুলিভাবে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমি আমার বাবাকে কোরআন পড়তে দিয়েছি।
আমার মুসলিম হবার সিদ্ধান্ত, আমার পরিবারের সাথে আমার সম্পর্কের উপর কোন প্রভাব ফেলেনি। আমার মা এ মর্মে খুশী যে আমি একজন অধিকতর ধর্মপ্রাণ মানুষ। তিনি আমার জন্য আনন্দিত। মা ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে তেমন একটা জানেন না। কেবল এটুকু জানেন যে, আমি একমাত্র এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করি- তাই তিনি আমার ধর্ম পরিবর্তন মেনে নিয়েছেন। আমি আমার পরিবারের কাছে-পিঠে থাকি না।
আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং আমার মা-বাবাকে বললাম, তখন আমার বাবা আমাকে বুঝতে চেষ্টা করলেন এবং সমর্থন করলেন। আমার মা ভয় পেয়েছিলেন। তাঁর ব্যপারটা নিয়ে ভয় পাওয়ার বেশ কিছু কারণ ছিল ঃ (১) আমার প্রতি তার ভালোবাসা এবং আমার মঙ্গল কামনা (২) ইসলামে মেয়েদের ভূমিকা নিয়ে গতানুগতিক ধারণা (৩) তরুণ বয়সে তাঁর বৈরুত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা (৪) একজন মুসলিম পুরুষের সাথে এককালে তার একটা গভীর সম্পর্ক থাকা। আমার মনে হয় মা চেয়েছিলেন যে ঐ ধর্মের সবদিক সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে আমি যেন আমার সিদ্ধান্ত নিই। বেশীর ভাগ মা-ই তাঁর সন্তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো যা, তাই চান এবং তাদের সুরক্ষা চান- সমাজে ইসলামের প্রতি আজকাল যে দৃষ্টিভঙ্গী প্রচলিত, আমরা সবাই তা জানি। আমি এখানে একটা ব্যাপারে জোর দিয়ে বলতে চাই আমার মা আমাকে একবারের জন্যও সমর্থন করেননি তা কিন্তু নয়- তিনি শুধু তার বিচলিত হবার কথা জানিয়েছেন। আর আমি ঠিক তাই আশা করছিলাম, যখন আমি তাদের ব্যাপারটা জানাই- প্রশ্ন, ভাবনা এবং মন্তব্য।
দুর্ভাগ্যবশত আমরা এখনো sWITZERLAND-এ আমাদের পরিবারের কাছে যেতে পারিনি (যদিও তা আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে)। আমি যখন ধর্মান্তরিত হলাম ও বিয়ে করলাম, তখন তাদের আমেরিকাতে আসতে হয়েছিল। একবার যখন তারা বুঝলো যে, আমি ঠিক আছি এবং আমার স্বামী ভালোবাসার যোগ্য একজন মানুষ, তারা আমার সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করেছে। কিছু প্রশ্ন যদিও থেকে গেছে। আমরা খুব সম্ভবত ভবিষ্যতে অনেক কথা বলবো। আমার প্রার্থনা হচ্ছে- আমার বাবাকে মুসলিম হওয়াতে পারা, কারণ মনের মাঝে তিনি ইতিমধ্যেই একজন মুসলিম।
আমার মূল পরিবার বলতে কিছু নেই, শুধু একজন ভাই ছাড়া, যাকে ধর্মান্তরিত হবার আগেও বহু বছর যাবত আমি দেখিনি। আমার মনে হয়, সে আমার ধর্মান্তরিত হবার খবরে বেশ খুশিই, কারণ সে দেখতে পাবে আমি অপেক্ষাকৃত বাস্তবধর্মী লক্ষ্য স্থির করেছি।
আমার পরিবারের সাথে আমার বড় ধরণের কোন সমস্যা নেই। তারা আমাকে মুসলিম হিসেবে মেনে নিয়েছে, যতক্ষণ তারা জানছে যে এটাই আমার চাওয়া। কেউ কেউ আমাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে করে, কারণ আমি হিজাব পরি আর আমার স্বামীর চাল-চলন বরং একজন আমেরিকানের মতো। পরিবারের কারো সাথে অবশ্য আমার কখনো এ নিয়ে ঝগড়া হয়নি। আমরা যতটা সম্ভব নিজেদের মাঝে সময় কাটাই, হয় সামনা-সামনি বা ফোনে (পরিবারের সদস্যদের মধ্যে)।
আমার জন্য আমার পরিবার ঠিকই আছে। এ ব্যাপারে কোন সমস্যা ছিল না, কারণ আমার জীবনধারা বদলানোর পিছনের কারণসমূহ সম্বন্ধে আমি নীরব ছিলাম। আমার বাবা-মা, আমি কলেজে থাকা অবস্থায়, আমার দৃষ্টিভঙ্গীর যে পরিবর্তন ঘটেছে- তা চেয়ে দেখেছে। আমি যখন আফ্রো চুলের ঢং নিয়ে বাড়ি এসেছি- তারা প্রায় মারা যাবার উপক্রম। আমি পরিবারের প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাই- ওটা তাদের না মানার তালিকার শীর্ষে ছিল। যখন তারা বুঝলো যে, আমার নিজস্ব একটা জীবন রয়েছে, তখন তারা আমার জন্য যা সবচেয়ে মঙ্গলজনক তাই চেয়েছে এবং কখনোই আমাকে বা ইসলামকে সমালোচনা করেনি। তারা এটুকুতেই খুশি যে আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি এবং আমি ভালো নৈতিকতা এবং মূল্যবোধকে নিজে ধরে রেখেছি ও আমার ছেলেদের মাঝেও তা বিতরণ করেছি।
এই পরিবারগুলো মেয়েদের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে নিজেদের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ঘটিয়েছে- যখন তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে যে তাদের মেয়ে নিরাপদ রয়েছে এবং কিছুটা হলেও মেয়ের একাত্মতা ও ইচ্ছাকে তারা বুঝতে পেরেছে। সম্ভবতঃ এই পরিবারগুলো এমন ছিল, যারা তাদের মেয়েদের ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিল এবং মেয়েকে নিজস্ব গন্ডির মাঝে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে জীবন যাপন করতে দিতে প্রস্তুত ছিল- তা মেয়ে মুসলিম হোক বা না হোক। এটার অর্থ এই নয় যে, ভবিষ্যতে কোন সম্পর্ক গড়ে উঠবে না, পারিবারিক সম্পর্ক সব সময়েই বদলায়, বাড়ে এবং পুনর্বিন্যস্ত হয়, সময় এবং জীবনের ধারার সাথে সাথে।
ধর্মান্তরিত হবার পরে, আমি নিজেকে হিজাব পরিহিত অবস্থায় প্রকাশ করি। আমি তাদের কাছে নিজেকে ব্যাখ্যা করি। আমি কখনো আমার পরিবার নিয়ে বিশেষ দুঃশ্চিন্তা করিনি। আমার জানা ছিল, আমি যাতে সুখী হবে, তা তারা মেনে নেবে। আমার এক ভাই আমাকে ওড়না নিয়ে ক্ষ্যাপাতো এবং তা খুলে ফেলতে বলতো। আমি মনে করি আমার জন্য মুসলিম হওয়াটা সহজই ছিল কারণ আমার পরিবার যে আমাকে পিঠ দেখাবে না, এ ধারণা আমার ছিল। আমি সব ব্যাখ্যা করেছি এবং খোলাখুলিভাবে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমি আমার বাবাকে কোরআন পড়তে দিয়েছি।
আমার মুসলিম হবার সিদ্ধান্ত, আমার পরিবারের সাথে আমার সম্পর্কের উপর কোন প্রভাব ফেলেনি। আমার মা এ মর্মে খুশী যে আমি একজন অধিকতর ধর্মপ্রাণ মানুষ। তিনি আমার জন্য আনন্দিত। মা ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে তেমন একটা জানেন না। কেবল এটুকু জানেন যে, আমি একমাত্র এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করি- তাই তিনি আমার ধর্ম পরিবর্তন মেনে নিয়েছেন। আমি আমার পরিবারের কাছে-পিঠে থাকি না।
আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং আমার মা-বাবাকে বললাম, তখন আমার বাবা আমাকে বুঝতে চেষ্টা করলেন এবং সমর্থন করলেন। আমার মা ভয় পেয়েছিলেন। তাঁর ব্যপারটা নিয়ে ভয় পাওয়ার বেশ কিছু কারণ ছিল ঃ (১) আমার প্রতি তার ভালোবাসা এবং আমার মঙ্গল কামনা (২) ইসলামে মেয়েদের ভূমিকা নিয়ে গতানুগতিক ধারণা (৩) তরুণ বয়সে তাঁর বৈরুত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা (৪) একজন মুসলিম পুরুষের সাথে এককালে তার একটা গভীর সম্পর্ক থাকা। আমার মনে হয় মা চেয়েছিলেন যে ঐ ধর্মের সবদিক সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে আমি যেন আমার সিদ্ধান্ত নিই। বেশীর ভাগ মা-ই তাঁর সন্তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো যা, তাই চান এবং তাদের সুরক্ষা চান- সমাজে ইসলামের প্রতি আজকাল যে দৃষ্টিভঙ্গী প্রচলিত, আমরা সবাই তা জানি। আমি এখানে একটা ব্যাপারে জোর দিয়ে বলতে চাই আমার মা আমাকে একবারের জন্যও সমর্থন করেননি তা কিন্তু নয়- তিনি শুধু তার বিচলিত হবার কথা জানিয়েছেন। আর আমি ঠিক তাই আশা করছিলাম, যখন আমি তাদের ব্যাপারটা জানাই- প্রশ্ন, ভাবনা এবং মন্তব্য।
দুর্ভাগ্যবশত আমরা এখনো sWITZERLAND-এ আমাদের পরিবারের কাছে যেতে পারিনি (যদিও তা আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে)। আমি যখন ধর্মান্তরিত হলাম ও বিয়ে করলাম, তখন তাদের আমেরিকাতে আসতে হয়েছিল। একবার যখন তারা বুঝলো যে, আমি ঠিক আছি এবং আমার স্বামী ভালোবাসার যোগ্য একজন মানুষ, তারা আমার সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করেছে। কিছু প্রশ্ন যদিও থেকে গেছে। আমরা খুব সম্ভবত ভবিষ্যতে অনেক কথা বলবো। আমার প্রার্থনা হচ্ছে- আমার বাবাকে মুসলিম হওয়াতে পারা, কারণ মনের মাঝে তিনি ইতিমধ্যেই একজন মুসলিম।
আমার মূল পরিবার বলতে কিছু নেই, শুধু একজন ভাই ছাড়া, যাকে ধর্মান্তরিত হবার আগেও বহু বছর যাবত আমি দেখিনি। আমার মনে হয়, সে আমার ধর্মান্তরিত হবার খবরে বেশ খুশিই, কারণ সে দেখতে পাবে আমি অপেক্ষাকৃত বাস্তবধর্মী লক্ষ্য স্থির করেছি।
আমার পরিবারের সাথে আমার বড় ধরণের কোন সমস্যা নেই। তারা আমাকে মুসলিম হিসেবে মেনে নিয়েছে, যতক্ষণ তারা জানছে যে এটাই আমার চাওয়া। কেউ কেউ আমাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে করে, কারণ আমি হিজাব পরি আর আমার স্বামীর চাল-চলন বরং একজন আমেরিকানের মতো। পরিবারের কারো সাথে অবশ্য আমার কখনো এ নিয়ে ঝগড়া হয়নি। আমরা যতটা সম্ভব নিজেদের মাঝে সময় কাটাই, হয় সামনা-সামনি বা ফোনে (পরিবারের সদস্যদের মধ্যে)।
আমার জন্য আমার পরিবার ঠিকই আছে। এ ব্যাপারে কোন সমস্যা ছিল না, কারণ আমার জীবনধারা বদলানোর পিছনের কারণসমূহ সম্বন্ধে আমি নীরব ছিলাম। আমার বাবা-মা, আমি কলেজে থাকা অবস্থায়, আমার দৃষ্টিভঙ্গীর যে পরিবর্তন ঘটেছে- তা চেয়ে দেখেছে। আমি যখন আফ্রো চুলের ঢং নিয়ে বাড়ি এসেছি- তারা প্রায় মারা যাবার উপক্রম। আমি পরিবারের প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাই- ওটা তাদের না মানার তালিকার শীর্ষে ছিল। যখন তারা বুঝলো যে, আমার নিজস্ব একটা জীবন রয়েছে, তখন তারা আমার জন্য যা সবচেয়ে মঙ্গলজনক তাই চেয়েছে এবং কখনোই আমাকে বা ইসলামকে সমালোচনা করেনি। তারা এটুকুতেই খুশি যে আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি এবং আমি ভালো নৈতিকতা এবং মূল্যবোধকে নিজে ধরে রেখেছি ও আমার ছেলেদের মাঝেও তা বিতরণ করেছি।
এই পরিবারগুলো মেয়েদের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে নিজেদের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ঘটিয়েছে- যখন তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে যে তাদের মেয়ে নিরাপদ রয়েছে এবং কিছুটা হলেও মেয়ের একাত্মতা ও ইচ্ছাকে তারা বুঝতে পেরেছে। সম্ভবতঃ এই পরিবারগুলো এমন ছিল, যারা তাদের মেয়েদের ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিল এবং মেয়েকে নিজস্ব গন্ডির মাঝে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে জীবন যাপন করতে দিতে প্রস্তুত ছিল- তা মেয়ে মুসলিম হোক বা না হোক। এটার অর্থ এই নয় যে, ভবিষ্যতে কোন সম্পর্ক গড়ে উঠবে না, পারিবারিক সম্পর্ক সব সময়েই বদলায়, বাড়ে এবং পুনর্বিন্যস্ত হয়, সময় এবং জীবনের ধারার সাথে সাথে।