hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস চতুর্থ খণ্ড

লেখকঃ ড: মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪

জান্নাত লাভের উপাদান

20 - عَنْ أَبِيْ أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , يَقُوْلُ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فِيْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ؛ فَقَالَ : " اتَّقُوْا اللهَ رَبَّكُمْ , وَصَلُّوْا خَمْسَكُمْ , وَصُوْمُوْا شَهْرَكُمْ , وَأَدُّوْا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ , وَأَطِيعُوْا ذَا أَمْرِكُمْ، تَدْخُلُوْا جَنَّةَ رَبِّكُمْ ".

( جامع الترمذي , رقم الحديث 616, قَالَ الإمام الترمذي عن هذا الحديث : بأنه حسن صحيح , وصححه الألباني ).

20 - অর্থ: আবু উমামা আল্ বাহেলী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি বিদায়ী হজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে ভাষণ দিতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “তোমরা তোমাদের প্রভু আল্লাহকে ভক্তিসহকারে ভয় করে তাঁর সঠিক ভক্ত হয়ে জীবনযাপন করো, এবং তোমরা তোমাদের পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ পড়তে থাকো, রমাজান মাসের রোজা রাখতে অবিচল থাকো, মালের জাকাত প্রদান করার জন্য সজাগ থাকো, এবং প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মোতাবেক তোমরা তোমাদের নেতা ও শাসকগণের আনুগত্য করতে থাকো। তবেই তোমরা তোমাদের প্রভুর জান্নাত লাভ করতে পারবে”।

[জামে তিরমিযী, হাদীস নং 616, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান, সহীহ বলেছেন। এবং আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:

আবু উমামা সুদায় বিন আজলান বিন অহাব্‌ আলবাহেলী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] একজন সম্মানিত ধর্মপরায়ণ সাহাবী। সাহাবীগণের মধ্যে তিনি একজন বড়ো যোদ্ধা ছিলেন; জেহাদ করতে তিনি খুব ভালো বাসতেন; তাই তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে থেকে সমস্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তবে তাঁর বৃদ্ধা মাতার সেবা যত্নের জন্য তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর উপদেশ অনুসারে শুধুমাত্র বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি।

তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সঙ্গে থেকেও তাঁদের যুগে সমস্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তার বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা 205 টি। তিনি শামদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন এবং শামদেশের মাটিতেই তিনি হিম্‌স্‌ শহরে সন 81 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। পরকালে জান্নাত লাভের উপাদান হলো: আল্লাহকে ভক্তিসহকারে ভয় করে তাঁর সঠিক ভক্ত হওয়া, পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ প্রতিষ্ঠিত করা, রমাজান মাসের রোজা রাখা এবং মালের জাকাত প্রদান করা।

2। তাকওয়া বা আল্লাহকে ভক্তিসহকারে ভয় করে তাঁর সঠিক ভক্ত হওয়ার ভাবার্থ হলো এই যে, মহান আল্লাহর ভয়, ভালোবাসা এবং অতিশয় শ্রদ্ধাসহকারে তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।

3। মুসলিম জাতির নৃপতিগণ, শাসকগণ বা রাষ্ট্রের প্রধানগণ এবং ইসলাম ধর্মের ধর্মপরায়ণ বিদ্বানগণ এবং মুসলিম জাতির যে কোনো কাজের নেতাগণের আনুগত্য করা অপরিহার্য। তবে এই আনুগত্য প্রকৃত ইসলামের শিক্ষার যেন বিপরীত না হয়; কেননা সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির আনুগত্য করা বৈধ নয়।