১
নির্বাচিত হাদীস চতুর্থ খণ্ড
লেখকঃ ড: মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
সূরা বাকারার শেষের দুইটি আয়াত পাঠ করার মর্যাদা
2 - عَنْ أَبِيْ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ البَقَرَةِ فِيْ لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ ".
( صحيح البخاري , رقم الحديث 5009, وصحيح مسلم , رقم الحديث 256 - (808), واللفظ للبخاري ).
2 - অর্থ: আবু মাসউদ [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সূরা বাকারার শেষের দুইটি আয়াত পাঠ করবে, সে ব্যক্তির সমস্ত প্রকার অমঙ্গল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই দুইটি আয়াতই যথেষ্ট হয়ে যাবে”।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং 5009 এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 256 -(808), তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ বুখারী থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু মাসউদ ওকবা বিন আম্র্ আল আনসারী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] একজন অন্যতম বিশিষ্ট সাহাবী। তিনি আকাবার দ্বিতীয় বায়আত (আনুগত্যের শপথ গ্রহণ) এর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই দ্বিতীয় বায়আত (আনুগত্যের শপথ গ্রহণে) অংশগ্রহণকারীগণের মধ্যে তিনিই ছিলেন সব চেয়ে কম বয়সের সাহাবী। এবং সর্বপ্রথমে তিনি ওহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে তিনি আরো সমস্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি কূফা শহরে চলে যান এবং সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। তাই আমীরুল মুমেনীন আলী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] যখন সিফ্ফিন্ অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন এবং সিফ্ফিন্ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তখন তিনি তাঁকে কূফা শহরের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন।
হাদীস গ্রন্থে তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 102 টি। তিনি মাদীনাতে 41 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন [রাদিয়াল্লাহু আনহু]। এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। সূরা বাকারার শেষের দুইটি আয়াত প্রত্যেক রাতে পাঠ করার বিষয়টি হলো: সুখময় জীবন লাভ এবং সমস্ত প্রকারের অমঙ্গল থেকে সুরক্ষিত হওয়ার উপাদান।
2। সূরা বাকারার শেষের দুইটি আয়াত প্রত্যেক রাতে পাঠ করলে মহান আল্লাহর সাথে মুসলিম ব্যক্তির ভরসা সঠিক পন্থায় দৃঢ় হয়।
3। মুসলিম ব্যক্তির জন্য এই দুইটি আয়াত মুখস্থ করা উচিত। উক্ত আয়াত দুটি হলো এই যে, মহান আল্লাহ বলেছেন:
ﭽ ﮗ ﮘ ﮙ ﮚ ﮛ ﮜ ﮝ ﮞﮟ ﮠ ﮡ ﮢ ﮣ ﮤ ﮥ ﮦ ﮧ ﮨ ﮩ ﮪ ﮫﮬ ﮭ ﮮ ﮯﮰ ﮱ ﯓ ﯔ ﯕ ﯖ ﯗ ﯘ ﯙ ﯚ ﯛ ﯜﯝ ﯞ ﯟ ﯠ ﯡ ﯢ ﯣﯤ ﯥ ﯦ ﯧ ﯨ ﯩ ﯪ ﯫﯬ ﯭ ﯮ ﯯ ﯰ ﯱ ﯲ ﯳ ﯴ ﯵ ﯶ ﯷﯸ ﯹ ﯺ ﯻ ﯼ ﯽ ﯾ ﯿ ﰀﰁ ﰂ ﰃ ﰄ ﰅ ﰆﰇ ﰈ ﰉ ﰊ ﰋ ﰌ ﰍ ﰎ ﭼ , ( سورة البقرة , الآيتان ٢٨٥ – ٢٨٦ ).
ভাবার্থের অনুবাদ: “আল্লাহর রাসূল তদীয় প্রতিপালকের পক্ষ হতে তৎপ্রতি যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে, তাতে সে বিশ্বাস স্থাপন করেছে। এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে প্রকৃত ঈমানদার মুসলিম জাতি। তারা সবাই সঠিক পন্থায় ঈমান স্থাপন করেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। তারা সবাই বলে: আমরা মুসলিম জাতি আল্লাহর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করি না। কেননা আমরা তো সকল রাসূলগণের প্রতি সঠিক পন্থায় বিশ্বাস স্থাপন করেছি। তারা আরো বলে: আমরা আমাদের প্রতিপালকের বাণী শুনেছি এবং তা সাদরে বরণ করেছি। সুতরাং হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমাদেরকে আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতেই হবে। আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কোনো কর্ম সম্পাদনের দায়িত্ব অর্পণ করেন না। সুতরাং সে ব্যক্তি যে সমস্ত সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, সে সমস্ত সৎকর্ম তার কল্যাণের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে। এবং যে সমস্ত অপকর্ম সম্পাদন করেছে, সে সমস্ত অপকর্ম তার অমঙ্গলের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে। তারা আরো বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যায় অথবা ভুল করি, তাহলে আপনি আমাদেরকে উভয় বিষয়ের শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা প্রদান করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের উপর এমন বোঝার ভার অর্পণ করবেন না, যেমন বোঝার ভার অর্পণ করেছিলেন আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের উপর এমন গুরুভার অর্পণ করবেন না, যে গুরুভার বহন করার শক্তি আমাদের নেই। এবং আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি কৃপা করুন। আপনি আমাদের সহায়ক। অতএব আপনি অমুসলিম সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় আমাদেরকে সাহায্য করুন”।
(সূরা আল্ বাকারা, আয়াত নং 285 হতে 286 পর্যন্ত)।
( صحيح البخاري , رقم الحديث 5009, وصحيح مسلم , رقم الحديث 256 - (808), واللفظ للبخاري ).
2 - অর্থ: আবু মাসউদ [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সূরা বাকারার শেষের দুইটি আয়াত পাঠ করবে, সে ব্যক্তির সমস্ত প্রকার অমঙ্গল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই দুইটি আয়াতই যথেষ্ট হয়ে যাবে”।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং 5009 এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 256 -(808), তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ বুখারী থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু মাসউদ ওকবা বিন আম্র্ আল আনসারী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] একজন অন্যতম বিশিষ্ট সাহাবী। তিনি আকাবার দ্বিতীয় বায়আত (আনুগত্যের শপথ গ্রহণ) এর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই দ্বিতীয় বায়আত (আনুগত্যের শপথ গ্রহণে) অংশগ্রহণকারীগণের মধ্যে তিনিই ছিলেন সব চেয়ে কম বয়সের সাহাবী। এবং সর্বপ্রথমে তিনি ওহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে তিনি আরো সমস্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি কূফা শহরে চলে যান এবং সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। তাই আমীরুল মুমেনীন আলী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] যখন সিফ্ফিন্ অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন এবং সিফ্ফিন্ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তখন তিনি তাঁকে কূফা শহরের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন।
হাদীস গ্রন্থে তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 102 টি। তিনি মাদীনাতে 41 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন [রাদিয়াল্লাহু আনহু]। এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। সূরা বাকারার শেষের দুইটি আয়াত প্রত্যেক রাতে পাঠ করার বিষয়টি হলো: সুখময় জীবন লাভ এবং সমস্ত প্রকারের অমঙ্গল থেকে সুরক্ষিত হওয়ার উপাদান।
2। সূরা বাকারার শেষের দুইটি আয়াত প্রত্যেক রাতে পাঠ করলে মহান আল্লাহর সাথে মুসলিম ব্যক্তির ভরসা সঠিক পন্থায় দৃঢ় হয়।
3। মুসলিম ব্যক্তির জন্য এই দুইটি আয়াত মুখস্থ করা উচিত। উক্ত আয়াত দুটি হলো এই যে, মহান আল্লাহ বলেছেন:
ﭽ ﮗ ﮘ ﮙ ﮚ ﮛ ﮜ ﮝ ﮞﮟ ﮠ ﮡ ﮢ ﮣ ﮤ ﮥ ﮦ ﮧ ﮨ ﮩ ﮪ ﮫﮬ ﮭ ﮮ ﮯﮰ ﮱ ﯓ ﯔ ﯕ ﯖ ﯗ ﯘ ﯙ ﯚ ﯛ ﯜﯝ ﯞ ﯟ ﯠ ﯡ ﯢ ﯣﯤ ﯥ ﯦ ﯧ ﯨ ﯩ ﯪ ﯫﯬ ﯭ ﯮ ﯯ ﯰ ﯱ ﯲ ﯳ ﯴ ﯵ ﯶ ﯷﯸ ﯹ ﯺ ﯻ ﯼ ﯽ ﯾ ﯿ ﰀﰁ ﰂ ﰃ ﰄ ﰅ ﰆﰇ ﰈ ﰉ ﰊ ﰋ ﰌ ﰍ ﰎ ﭼ , ( سورة البقرة , الآيتان ٢٨٥ – ٢٨٦ ).
ভাবার্থের অনুবাদ: “আল্লাহর রাসূল তদীয় প্রতিপালকের পক্ষ হতে তৎপ্রতি যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে, তাতে সে বিশ্বাস স্থাপন করেছে। এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে প্রকৃত ঈমানদার মুসলিম জাতি। তারা সবাই সঠিক পন্থায় ঈমান স্থাপন করেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। তারা সবাই বলে: আমরা মুসলিম জাতি আল্লাহর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করি না। কেননা আমরা তো সকল রাসূলগণের প্রতি সঠিক পন্থায় বিশ্বাস স্থাপন করেছি। তারা আরো বলে: আমরা আমাদের প্রতিপালকের বাণী শুনেছি এবং তা সাদরে বরণ করেছি। সুতরাং হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমাদেরকে আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতেই হবে। আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কোনো কর্ম সম্পাদনের দায়িত্ব অর্পণ করেন না। সুতরাং সে ব্যক্তি যে সমস্ত সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, সে সমস্ত সৎকর্ম তার কল্যাণের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে। এবং যে সমস্ত অপকর্ম সম্পাদন করেছে, সে সমস্ত অপকর্ম তার অমঙ্গলের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে। তারা আরো বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যায় অথবা ভুল করি, তাহলে আপনি আমাদেরকে উভয় বিষয়ের শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা প্রদান করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের উপর এমন বোঝার ভার অর্পণ করবেন না, যেমন বোঝার ভার অর্পণ করেছিলেন আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের উপর এমন গুরুভার অর্পণ করবেন না, যে গুরুভার বহন করার শক্তি আমাদের নেই। এবং আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি কৃপা করুন। আপনি আমাদের সহায়ক। অতএব আপনি অমুসলিম সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় আমাদেরকে সাহায্য করুন”।
(সূরা আল্ বাকারা, আয়াত নং 285 হতে 286 পর্যন্ত)।