hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস চতুর্থ খণ্ড

লেখকঃ ড: মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

নামাজের যত্নবান হওয়া অপরিহার্য

25 - عَنْ بُرَيْدَةِ بْنِ الحُصَيْبِ الْأَسْلَمِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " اَلْعَهْدُ الَّذِيِ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ : اَلصَّلاَةُ؛ فَمَنْ تَرَكَهَا؛ فَقَدْ كَفَرَ ".

( جامع الترمذي , رقم الحديث 2621, وسنن ابن ماجه , رقم الحديث 1079, قال الإمام الترمذي عن هذا الحديث : بأنه حسن صحيح غريب , وصححه الألباني ).

25 - অর্থ: বোরাইদা ইবনুল হোসাইব আল্ আসলামী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “আমাদের এবং তাদের মধ্যে যে বিষয়টির প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সে বিষয়টি হলো নামাজ। তাই যে ব্যক্তি নামাজ পরিত্যাগ করে দিবে, সে ব্যক্তি একজন অমুসলিম অথবা কাফের হয়ে যাবে”।

[জামে তিরমিযী, হাদীস নং 2621 এবং সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস নং 1079, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান, সহীহ এবং গারীব (এক পন্থায় বর্ণিত) বলেছেন। আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:

বোরাইদা ইবনুল হোসাইব আল্ আসলামী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] একজন সম্মানিত সাহাবী। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মাক্কা ত্যাগ করে মাদীনা অভিমুখে হিজরত করে যাওয়ার সময় রাস্তায় তার সাথে এবং তার গ্রামবাসীর সাথে দেখা হয়। তাদের সংখ্যা ছিলো তখন 80 জন। সেই সময়েই তারা সবাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলো। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাদের সাথে সেখানে এশার নামাজ পড়েছিলেন। তার বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা 177 টি।

বোরাইদা ইবনুল হোসাইব আল্ আসলামী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর নিজের গ্রামেই থাকেন। ওহুদের যুদ্ধের পর তিনি মাদীনায় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছে উপস্থিত হন। এবং আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে থেকে সমস্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে তিনি বাসরা শহরে গমন করেন এবং সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু তিনি সেখান থেকে আল্লাহর পথে জেহাদ করার উদ্দেশ্যে আবার খোরাসান চলে যান। তারপর তিনি মার্ভ অঞ্চলে গিয়ে অবস্থান করেন এবং সেখানেই ইয়াজিদ বিন মোয়াবিয়ার খেলাফতের আমলে 62 অথবা 63 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। প্রকৃত ইসলাম ধর্মে এই বিষয়টি নির্ধারিত রয়েছে যে, নামাজ হলো মুসলিম এবং অমুসলিম ব্যক্তির মধ্যে তফাত করার একটি প্রকাশ্য নিদর্শন।

2। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোনো সময় নামাজ প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে অবহেলা করা বৈধ নয়।

3। আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের আত্মা হলো নামাজ। সুতরাং নামাজ বর্জন করে দেওয়ার পর বা নামাজ পরিত্যাগ করার পর প্রকৃত ইসলামের আর্ কোনো প্রকাশ্য নিদর্শন থেকে যায় না।