১
নির্বাচিত হাদীস চতুর্থ খণ্ড
লেখকঃ ড: মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮০
নামাজের রুকু ও সিজদায় পঠনীয় জিকির
76 - عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِيْ رُكُوْعِهِ وَسُجُوْدِهِ : " سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ ".
( صحيح مسلم , رقم الحديث 223 - (487), ).
76 - অর্থ: নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর প্রিয়তমা আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা] থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর স্বীয় নামাজের রুকু ও সিজদাতে এই বাণীটি পাঠ করতেন:
" سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ ".
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি অতি নিরঞ্জন, পরম পবিত্র, আপনি ফেরেশতাগণ ও জিবরীল এর প্রকৃত প্রভু”।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 223 -(487) ]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারিণী সাহাবীয়ার পরিচয় পূর্বে 5 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর অনুসরণ করে মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সেও যেন স্বীয় নামাজের রুকু ও সিজদাতে কোনো কোনো সময় এই জিকিরটি পাঠ করে:
" سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ ".
2। সুব্বুহুন ( سُبُّوْحٌ ) এই শব্দটি তাসবীহ্ শব্দ থেকে এসেছে। এবং তাসবীহ্ এর অর্থ হলো: পরাক্রমশালী আল্লাহর অতিশয় সম্মান করা এবং যে সমস্ত বস্তুর তিনি উপযোগী নন, সেই সমস্ত বস্তু হতে তাঁর পবিত্রতা ও মহা উৎকৃষ্টতার ঘোষণা দেওয়া।
* কুদ্দুসুন ( قُدُّوْسٌ ) এই শব্দটির অর্থ হলো: পরাক্রমশালী আল্লাহ মহা পবিত্র এবং তিনি সমস্ত দোষ ত্রুটি এবং অসম্পূর্ণতা হতে সম্পূর্ণ মুক্ত।
* আর্রূহ ( الروح ) এই শব্দটির অর্থ হলো: জিবরীল আলাইহিস সালাম। তাঁর সম্মানার্থে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার আর্রূহ ( الروح ) এই শব্দটির দ্বারা দেহের মধ্যে চৈতন্যময় সত্তা, আত্মা বা জীবাত্মাকে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং মহান আল্লাহ সমস্ত ফেরেশতাদের এবং সকল আত্মা বা জীবাত্মার প্রতিপালক। এই বিষয়ের সঠিক জ্ঞান আল্লাহর নিকটে অধিকতর রয়েছে।
3। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কোনো কোনো সময় তাঁর স্বীয় নামাজের রুকু ও সিজদাতে এই বাণীটি বা জিকিরটি পাঠ করতেন।
4। এই হাদীসটির দ্বারা এটাও প্রমাণিত হয় যে, নামাজের রুকু ও সিজদাতে আল্লাহর জিকির এবং দোয়া পাঠ করা বৈধ। কিন্তু আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যেখানে বলেছেন:
" أَمَّا الرُّكُوْعُ؛ فَعَظِّمُوْا فِيْهِ الرَّبَّ عَزَّ وَجَلَّ، وَأَمَّا السُّجُوْدُ فَاجْتَهِدُوْا فِي الدُّعَاءِ؛ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ ".
( صحيح مسلم , رقم الحديث 207 - (479),)
অর্থ: “সুতরাং তোমরা নামাজের রুকুতে মহান প্রতিপালকের অতিশয় সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার বাণী উচ্চারণ করবে এবং সিজদাতে অধিকতর দোয়া করবে। কেননা এই অবস্থায় তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার অনুকূলেই নির্দিষ্ট রয়েছে” ।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 207 -(479) ]।
উক্ত হাদীসটির দাবি অনুযায়ী এটা প্রমাণিত হয় যে, সিজদাতে অধিকতর দোয়া করা উচিত। এবং অধিকতর রুকুতে মহান প্রতিপালক আল্লাহর অতিশয় সম্মান, প্রশংসা এবং শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কিংবা তাসবীহ পাঠ করা উচিত। সুতরাং নামাজের রুকুতে দোয়া করাও বৈধ যেমন সিজদাতেও মহান প্রতিপালক আল্লাহর অতিশয় সম্মান, প্রশংসা এবং শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কিংবা তাসবীহ পাঠ করা বৈধ।
* ( قَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ ) এর অর্থ হলো: নামাজের সিজদাতে অধিকতর দোয়া করা উচিত। কেননা এই অবস্থায় তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার অনুকূলেই সময়টি নির্দিষ্ট রয়েছে” ।
( صحيح مسلم , رقم الحديث 223 - (487), ).
76 - অর্থ: নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর প্রিয়তমা আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা] থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর স্বীয় নামাজের রুকু ও সিজদাতে এই বাণীটি পাঠ করতেন:
" سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ ".
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি অতি নিরঞ্জন, পরম পবিত্র, আপনি ফেরেশতাগণ ও জিবরীল এর প্রকৃত প্রভু”।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 223 -(487) ]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারিণী সাহাবীয়ার পরিচয় পূর্বে 5 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর অনুসরণ করে মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সেও যেন স্বীয় নামাজের রুকু ও সিজদাতে কোনো কোনো সময় এই জিকিরটি পাঠ করে:
" سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ ".
2। সুব্বুহুন ( سُبُّوْحٌ ) এই শব্দটি তাসবীহ্ শব্দ থেকে এসেছে। এবং তাসবীহ্ এর অর্থ হলো: পরাক্রমশালী আল্লাহর অতিশয় সম্মান করা এবং যে সমস্ত বস্তুর তিনি উপযোগী নন, সেই সমস্ত বস্তু হতে তাঁর পবিত্রতা ও মহা উৎকৃষ্টতার ঘোষণা দেওয়া।
* কুদ্দুসুন ( قُدُّوْسٌ ) এই শব্দটির অর্থ হলো: পরাক্রমশালী আল্লাহ মহা পবিত্র এবং তিনি সমস্ত দোষ ত্রুটি এবং অসম্পূর্ণতা হতে সম্পূর্ণ মুক্ত।
* আর্রূহ ( الروح ) এই শব্দটির অর্থ হলো: জিবরীল আলাইহিস সালাম। তাঁর সম্মানার্থে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার আর্রূহ ( الروح ) এই শব্দটির দ্বারা দেহের মধ্যে চৈতন্যময় সত্তা, আত্মা বা জীবাত্মাকে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং মহান আল্লাহ সমস্ত ফেরেশতাদের এবং সকল আত্মা বা জীবাত্মার প্রতিপালক। এই বিষয়ের সঠিক জ্ঞান আল্লাহর নিকটে অধিকতর রয়েছে।
3। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কোনো কোনো সময় তাঁর স্বীয় নামাজের রুকু ও সিজদাতে এই বাণীটি বা জিকিরটি পাঠ করতেন।
4। এই হাদীসটির দ্বারা এটাও প্রমাণিত হয় যে, নামাজের রুকু ও সিজদাতে আল্লাহর জিকির এবং দোয়া পাঠ করা বৈধ। কিন্তু আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যেখানে বলেছেন:
" أَمَّا الرُّكُوْعُ؛ فَعَظِّمُوْا فِيْهِ الرَّبَّ عَزَّ وَجَلَّ، وَأَمَّا السُّجُوْدُ فَاجْتَهِدُوْا فِي الدُّعَاءِ؛ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ ".
( صحيح مسلم , رقم الحديث 207 - (479),)
অর্থ: “সুতরাং তোমরা নামাজের রুকুতে মহান প্রতিপালকের অতিশয় সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার বাণী উচ্চারণ করবে এবং সিজদাতে অধিকতর দোয়া করবে। কেননা এই অবস্থায় তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার অনুকূলেই নির্দিষ্ট রয়েছে” ।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 207 -(479) ]।
উক্ত হাদীসটির দাবি অনুযায়ী এটা প্রমাণিত হয় যে, সিজদাতে অধিকতর দোয়া করা উচিত। এবং অধিকতর রুকুতে মহান প্রতিপালক আল্লাহর অতিশয় সম্মান, প্রশংসা এবং শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কিংবা তাসবীহ পাঠ করা উচিত। সুতরাং নামাজের রুকুতে দোয়া করাও বৈধ যেমন সিজদাতেও মহান প্রতিপালক আল্লাহর অতিশয় সম্মান, প্রশংসা এবং শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কিংবা তাসবীহ পাঠ করা বৈধ।
* ( قَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ ) এর অর্থ হলো: নামাজের সিজদাতে অধিকতর দোয়া করা উচিত। কেননা এই অবস্থায় তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার অনুকূলেই সময়টি নির্দিষ্ট রয়েছে” ।