hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস চতুর্থ খণ্ড

লেখকঃ ড: মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪০

প্রকৃত ইসলাম ধর্মে উত্তরাধিকার এবং উত্তরাধিকারীর বিধান

36 - عَنْ أُسَامَةَ بنِ زيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا , أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " لاَ يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ , وَلاَ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ ".

( صحيح البخاري , رقم الحديث 6764, وصحيح مسلم , رقم الحديث 1 - (1614), واللفظ للبخاري ).

37 - অর্থ: উসামা বিন য্যায়দ [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয় নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “কোনো মুসলিম ব্যক্তি কোনো অমুসলিম ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে না। এবং কোনো অমুসলিম ব্যক্তিও কোনো মুসলিম ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে না”।

[সহীহ বুখারী, হাদীস নং 6764 এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 1 -(1614), তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ বুখারী থেকে নেওয়া হয়েছে]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:

আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর প্রিয় সাহাবী উসামা বিন য্যায়দ [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] । তার পিতা য্যায়দ বিন হারেসা আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর খাদেম ছিলেন, তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে স্বীয় পিতা-মাতা ও পরিবারের উপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

উসামা সকল প্রকার মহাগুণের অধিকারী ছিলেন;তাই তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর হৃদয়ের নিকটবর্তী হতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন।

এই মহাসাহাবী অত্যন্ত বুদ্ধিমান, অত্যন্ত সাহসী এবং অত্যন্ত বিচক্ষণ ছিলেন; তাই সমস্ত কার্যক্রম সঠিক পন্থায় তিনি সম্পাদন করতেন। সকল প্রকার কলুষ বিষয় হতে তিনি মুক্ত ছিলেন। সকল মানুষের কাছে তিনি অতি প্রিয় ছিলেন। এবং আল্লাহরও তিনি সঠিক ভক্ত ছিলেন। তাই তাকে অল্প বয়সে যখন তার বয়স বিশ বছরে উপনীত হয় নি, তখনই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে একটি যুদ্ধে সৈন্যদের সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। এবং সেই সৈন্যদের মধ্যে ছিলেন আবু বাকর, ওমার এবং আনসার ও মুহাজিরদের বড়ো বড়ো নেতাগণ।

সেই সেনাবাহিনী মাদীনা শহর থেকে বের হওয়ার পূর্বেই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মৃত্যুবরণ করেন।

অতঃপর আবু বাকর [রাদিয়াল্লাহু আনহু] সেই সেনাবাহিনীকে উসামা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর নেতৃত্বে প্রেরণ করেন। এবং আবু বাকর [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কে মাদীনায় তার সাথে রেখে যাওয়ার জন্য উসামা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করেন।

উসামা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর নেতৃত্বে এই সেনাবাহিনী জয়লাভ করে নিরাপদে যুদ্ধলব্ধ বা গানীমাতের মালসহ ফিরে আসেন। তার বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 118 টি।

ওসমান বিন আফফান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর শাহাদাত বরণের পরবর্তী ফেতনা থেকে উসামা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] নিজেকে সমস্ত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম থেকে দূরে রাখেন। অতঃপর তিনি দামেস্কের নিকটবর্তী এক এলাকায় বসবাস করতে থাকেন। এবং সেখান থেকে মাদীনায় ফিরে এসে জুর্ফ নামক স্থানে 61 বছর বয়সে 54 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। এবং তাঁকে মাদীনায় দাফন করা হয়।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোন মুসলিম ব্যক্তির উত্তরাধিকারী কোন অমুসলিম ব্যক্তি হতে পারবে না। আর কোন অমুসলিম ব্যক্তিও কোন মুসলিম ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হতে পারবে না। তাতে কোন অমুসলিম ব্যক্তি উত্তরাধিকারের সম্পদ বন্টনের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করুক বা না করুক। আর এটাই হলো মুসলিম ওলামাদের অধিকাংশের মত। আর এটাই হলো সঠিক বিষয়।

অনুরূপ মুর্তাদেরও বিধান। অর্থাৎ কোন মুর্তাদ মুসলিমের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না, আর কোন মুসলিমও মুর্তাদের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না ।

2। আবার কতকগুলি আলেমের মতে মুসলিম ব্যক্তি কাফেরের উত্তরাধীকারী হতে পারবে, আর এর বিপরীত হতে পারবে না । অর্থাৎ কোন অমুসলিম ব্যক্তি মুসলিম ব্যক্তির উত্তরাধীকারী হতে পারবে না। তবে যদি সেই অমুসলিম ব্যক্তিটি উত্তরাধীকার বন্টনের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সে উত্তরাধীকারী হয়ে যাবে বা হতে পারবে ।

3। প্রকৃত ইসলাম ধর্মের একটি সুন্দর দিক ও বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, এই ধর্ম উত্তরাধিকার এবং উত্তরাধিকারীর বিধান সঠিক পন্থায় স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছে।

অন্য দিকে হিন্দুত্ববাদের পবিত্র বেদে তা বর্ণনা করা হয় নি।