১
নির্বাচিত হাদীস চতুর্থ খণ্ড
লেখকঃ ড: মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৫
জান্নাতলাভের একটি উপকরণ
61 -عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ : " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَتِرَ مِنَ النَّارِ , وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ؛ فَلْيَفْعَلْ ".
( صحيح مسلم , رقم الحديث 66- (1016), وصحيح البخاري , رقم الحديث 1413, واللفظ لمسلم ).
61 - অর্থ: আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে থেকে যে ব্যক্তি জাহান্নামের অগ্নি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার ক্ষমতা রাখে, সে যেন নিজেকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে মুক্ত করে, যদিও তা একটি মাত্র খেজুরের একাংশ দান প্রদানের মাধ্যমে হয়”।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 66 -(1016) এবং সহীহ বুখারী, হাদীস নং 1413, তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ মুসলিম থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু তারিফ ও আবু ওয়াহাব, আদী বিন হাতেম বিন আব্দুল্লাহ আততায়ী। তিনি ছিলেন একজন মহাদানবীর ও বুদ্ধিমান সাহাবী। এবং তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পূর্বে ও পরে তাঁর আততায়ী বংশের প্রধান ব্যক্তি ও নেতা ছিলেন।
তিনি ভদ্র, দয়ালু, দয়াশীল, বড়ো বক্তা এবং বাকপটু ও তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দেওয়ার প্রখর বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন।
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রত্যাশী ছিলেন। যেন সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর আল্লাহর রাসূলের সাথে সহযোগিতা করেন।
আদী বিন হাতেম আততায়ী সপ্তম হিজরীতে সর্ব প্রথমে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর নিকটে আগমন করেন। তবে তার আগমন ছিল আল্লাহর রাসূলের অবস্থার সমস্ত বিষয়ে জ্ঞানলাভ করার উদ্দেশ্যে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে নয়। তিনি যখন মাদীনায় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে তাঁর মাসজিদে সাক্ষাৎ করলেন এবং দেখলেন যে, আল্লাহর রাসূলকে রাজা বা নেতা হিসেবে আখ্যাত বা প্রখ্যাত করা হয় না, তখন তিনি জানতে পারলেন যে, আল্লাহর রাসূল কোনো রাজত্ব বা নেতৃত্বের প্রত্যাশী নন। তারপর আল্লাহর রাসূল তাকে নিজের বাসভবনে বা বাসগৃহে নিয়ে গেলেন, এবং তার যথাযথভাবে সম্মান করলেন এবং তাকে সঠিক পন্থায় মর্যাদা প্রদান করলেন। এবং ইসলামের প্রতি আহ্বান জানালেন; সুতরাং তিনি স্বেচ্ছাক্রমে স্বাধীনভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন এবং সঠিকভাবে ইসলামের উপরে অটল থাকলেন ।
আবু বাকর [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর যুগে ইসলাম ত্যাগ বা রিদ্দার ফিতনা কঠোরভাবে ছড়িয়ে পড়েছিলো, সে সময় আদী বিন হাতেম আততায়ী [রাদিয়াল্লাহু আনহু]এর মহা ভূমিকা ও মহা অবদান ছিলো, প্রকৃত ইসলাম ধর্মের সংরক্ষণের বিষয়ে। সুতরাং তিনি নিজেই তাঁর স্বজাতিকে নিয়ে এবং নিজের বংশের লোকজনকে নিয়ে ইসলাম ধর্মের উপর স্থায়ীভাবে অটল ছিলেন। অনুরূপভাবে তিনি ইসলামের মহা বিজয়ে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এবং তিনি ইরাক, মাদায়েন, কাদেসীয়াসহ অন্যান্য বিজয়েও উপস্থিত ছিলেনে এবং অংশগ্রহণ করেছেন।
ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] আদী বিন হাতেম আততায়ী [রাদিয়াল্লাহু আনহু]এর অনেক প্রশংসা করেছেন। তাই এই বিষয়ে হাদীস গ্রন্থে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তাতে থেকে কিছু কথা এখানে অতি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:
আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে, আমি এক দল লোকের সাথে ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] আমলে তাঁর নিকটে আগমন করেছিলাম, তাই তিনি একজন একজন করে সকলের নাম উল্লেখ করে সকলকে আহ্বান করছিলেন। তখন আমি বললাম: হে আমিরুল মুমেনিন! আপনি কি আমাকে চিনতে পারেন নি? তিনি উত্তরে বললেন: হ্যাঁ! আমি আপনাকে ভালোভাবে জানি; কেননা বিভিন্ন প্রকারের মানুষ যখন ইসলাম হতে বিমুখ হয়েছে, তখন আপনি ইসলামের অনুগামী হয়েছেন, যখন তারা পশ্চাদগামী হয়েছে, তখন আপনি অগ্রগামী হয়েছেন, যখন তারা অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছে, তখন আপনি আপনার অঙ্গিকার রক্ষা করেছেন, এবং যখন তারা ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন আপনি ইসলামকে রক্ষা করেছেন।
ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর মুখ থেকে যখন আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] তাঁর এই বিভূষিত প্রশংসা শুনলেন, তখন তিনি বললেন: তাহলে আমার নাম আপনি উচ্চারণ করুন বা না করুন আমি আর কোনো পরোয়া করিনা। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং 4394]।
আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হতে এটাও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন যে, আমি যখন ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর আমলে তাঁর নিকটে আগমন করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন:
সর্ব প্রথমে যে অনুদানটি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এবং তাঁর সাহাবীগণের মুখ উজ্জ্বল করেছিলো, তা হলো আততায়ী গোত্রের অনুদান, যেই অনুদানটি আপনি স্বয়ং আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছে নিয়ে এসেছিলেন।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 196 -(2523)]।
অতঃপর আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কুফায় অবস্থান করেন এবং আলী বিন আবি তালেবের সহযোগিতার কাজে তৎপর থাকেন।
তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা 66 টি।
আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কুফায় অনেক দিন অবস্থান করেন এবং সেখানেই 120 বছর বয়সে 67 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। এই হাদীসটির দ্বারা সাদকা বা দান প্রদান করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এবং অতি অল্প বস্তু হলেও সাদকা বা দান প্রদান করা থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। কেননা অতি অল্প বস্তু সাদকা বা দান প্রদান করার মাধ্যমে জাহান্নামের অগ্নি হতে মক্তি লাভ করাও সম্ভব।
2। এই হাদীসটির ভাবার্থ হলো এই যে, হে মুসলিম সমাজ! তোমরা সাদাকা অথবা দান প্রদানের মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে এবং জাহান্নামের আগুনের মধ্যে একটি পর্দা ও প্রতিবন্ধ তৈরি করো। যদিও সেই সাদাকা অথবা দান অতি অল্প ও সামান্য পরিমাণেও হয়। যেমন একটি মাত্র খেজুরের একটি অংশ অথবা অর্ধেক অংশ কিংবা একটি খেজুরের একটি ক্ষুদ্র অংশবিশেষ। কেননা একটি খেজুরের ক্ষুদ্র অংশবিশেষের দ্বারা একটি ছোটো শিশুর ক্ষুধা নিবারণ করা যেতে পারে। সুতরাং সামান্য বস্তুকেও অবহেলা করা বৈধ নয়। এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষার অর্থ হলো পাপের ক্ষমা ও মার্জনা প্রাপ্ত হওয়া।
3। এই হাদীটির মধ্যে খেজুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং অন্যান্য কোনো খাদ্যের কথা উল্লেখ করা হয় নি যেমন, এক লোকমা খাদ্য। এই জন্য যে, সেই সময় হিজাজবাসীদের তথা মাক্কা ও মাদীনাবাসীদের প্রধান খাদ্য ছিলো খেজুর। তাই খেজুরের কথা এই হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
4। জান্নাত লাভ করার উপকরণ অনেকগুলি রয়েছে। তার মধ্যে থেকে একটি বিষয় হলো এই যে,
অভাবগ্রস্ত বা দরিদ্র লোকদের দারিদ্র দূর করা। এবং তাদের উপকার করা বা তাদেরকে দান প্রদান করা। যদিও তা অল্প বস্তু হয়।
আর এই অল্প বস্তুর দ্বারা দরিদ্র লোকদের উপকার করার বিষয়টি হলো মহান আল্লাহর দয়া বা অনগ্রহ। কিন্তু এই বিষয়টি অধিকাংশ লোক জানে না এবং মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে না।
( صحيح مسلم , رقم الحديث 66- (1016), وصحيح البخاري , رقم الحديث 1413, واللفظ لمسلم ).
61 - অর্থ: আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে থেকে যে ব্যক্তি জাহান্নামের অগ্নি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার ক্ষমতা রাখে, সে যেন নিজেকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে মুক্ত করে, যদিও তা একটি মাত্র খেজুরের একাংশ দান প্রদানের মাধ্যমে হয়”।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 66 -(1016) এবং সহীহ বুখারী, হাদীস নং 1413, তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ মুসলিম থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু তারিফ ও আবু ওয়াহাব, আদী বিন হাতেম বিন আব্দুল্লাহ আততায়ী। তিনি ছিলেন একজন মহাদানবীর ও বুদ্ধিমান সাহাবী। এবং তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পূর্বে ও পরে তাঁর আততায়ী বংশের প্রধান ব্যক্তি ও নেতা ছিলেন।
তিনি ভদ্র, দয়ালু, দয়াশীল, বড়ো বক্তা এবং বাকপটু ও তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দেওয়ার প্রখর বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন।
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রত্যাশী ছিলেন। যেন সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর আল্লাহর রাসূলের সাথে সহযোগিতা করেন।
আদী বিন হাতেম আততায়ী সপ্তম হিজরীতে সর্ব প্রথমে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর নিকটে আগমন করেন। তবে তার আগমন ছিল আল্লাহর রাসূলের অবস্থার সমস্ত বিষয়ে জ্ঞানলাভ করার উদ্দেশ্যে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে নয়। তিনি যখন মাদীনায় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে তাঁর মাসজিদে সাক্ষাৎ করলেন এবং দেখলেন যে, আল্লাহর রাসূলকে রাজা বা নেতা হিসেবে আখ্যাত বা প্রখ্যাত করা হয় না, তখন তিনি জানতে পারলেন যে, আল্লাহর রাসূল কোনো রাজত্ব বা নেতৃত্বের প্রত্যাশী নন। তারপর আল্লাহর রাসূল তাকে নিজের বাসভবনে বা বাসগৃহে নিয়ে গেলেন, এবং তার যথাযথভাবে সম্মান করলেন এবং তাকে সঠিক পন্থায় মর্যাদা প্রদান করলেন। এবং ইসলামের প্রতি আহ্বান জানালেন; সুতরাং তিনি স্বেচ্ছাক্রমে স্বাধীনভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন এবং সঠিকভাবে ইসলামের উপরে অটল থাকলেন ।
আবু বাকর [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর যুগে ইসলাম ত্যাগ বা রিদ্দার ফিতনা কঠোরভাবে ছড়িয়ে পড়েছিলো, সে সময় আদী বিন হাতেম আততায়ী [রাদিয়াল্লাহু আনহু]এর মহা ভূমিকা ও মহা অবদান ছিলো, প্রকৃত ইসলাম ধর্মের সংরক্ষণের বিষয়ে। সুতরাং তিনি নিজেই তাঁর স্বজাতিকে নিয়ে এবং নিজের বংশের লোকজনকে নিয়ে ইসলাম ধর্মের উপর স্থায়ীভাবে অটল ছিলেন। অনুরূপভাবে তিনি ইসলামের মহা বিজয়ে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এবং তিনি ইরাক, মাদায়েন, কাদেসীয়াসহ অন্যান্য বিজয়েও উপস্থিত ছিলেনে এবং অংশগ্রহণ করেছেন।
ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] আদী বিন হাতেম আততায়ী [রাদিয়াল্লাহু আনহু]এর অনেক প্রশংসা করেছেন। তাই এই বিষয়ে হাদীস গ্রন্থে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তাতে থেকে কিছু কথা এখানে অতি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:
আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে, আমি এক দল লোকের সাথে ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] আমলে তাঁর নিকটে আগমন করেছিলাম, তাই তিনি একজন একজন করে সকলের নাম উল্লেখ করে সকলকে আহ্বান করছিলেন। তখন আমি বললাম: হে আমিরুল মুমেনিন! আপনি কি আমাকে চিনতে পারেন নি? তিনি উত্তরে বললেন: হ্যাঁ! আমি আপনাকে ভালোভাবে জানি; কেননা বিভিন্ন প্রকারের মানুষ যখন ইসলাম হতে বিমুখ হয়েছে, তখন আপনি ইসলামের অনুগামী হয়েছেন, যখন তারা পশ্চাদগামী হয়েছে, তখন আপনি অগ্রগামী হয়েছেন, যখন তারা অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছে, তখন আপনি আপনার অঙ্গিকার রক্ষা করেছেন, এবং যখন তারা ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন আপনি ইসলামকে রক্ষা করেছেন।
ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর মুখ থেকে যখন আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] তাঁর এই বিভূষিত প্রশংসা শুনলেন, তখন তিনি বললেন: তাহলে আমার নাম আপনি উচ্চারণ করুন বা না করুন আমি আর কোনো পরোয়া করিনা। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং 4394]।
আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হতে এটাও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন যে, আমি যখন ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর আমলে তাঁর নিকটে আগমন করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন:
সর্ব প্রথমে যে অনুদানটি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এবং তাঁর সাহাবীগণের মুখ উজ্জ্বল করেছিলো, তা হলো আততায়ী গোত্রের অনুদান, যেই অনুদানটি আপনি স্বয়ং আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছে নিয়ে এসেছিলেন।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 196 -(2523)]।
অতঃপর আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কুফায় অবস্থান করেন এবং আলী বিন আবি তালেবের সহযোগিতার কাজে তৎপর থাকেন।
তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা 66 টি।
আদী বিন হাতেম [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কুফায় অনেক দিন অবস্থান করেন এবং সেখানেই 120 বছর বয়সে 67 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। এই হাদীসটির দ্বারা সাদকা বা দান প্রদান করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এবং অতি অল্প বস্তু হলেও সাদকা বা দান প্রদান করা থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। কেননা অতি অল্প বস্তু সাদকা বা দান প্রদান করার মাধ্যমে জাহান্নামের অগ্নি হতে মক্তি লাভ করাও সম্ভব।
2। এই হাদীসটির ভাবার্থ হলো এই যে, হে মুসলিম সমাজ! তোমরা সাদাকা অথবা দান প্রদানের মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে এবং জাহান্নামের আগুনের মধ্যে একটি পর্দা ও প্রতিবন্ধ তৈরি করো। যদিও সেই সাদাকা অথবা দান অতি অল্প ও সামান্য পরিমাণেও হয়। যেমন একটি মাত্র খেজুরের একটি অংশ অথবা অর্ধেক অংশ কিংবা একটি খেজুরের একটি ক্ষুদ্র অংশবিশেষ। কেননা একটি খেজুরের ক্ষুদ্র অংশবিশেষের দ্বারা একটি ছোটো শিশুর ক্ষুধা নিবারণ করা যেতে পারে। সুতরাং সামান্য বস্তুকেও অবহেলা করা বৈধ নয়। এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষার অর্থ হলো পাপের ক্ষমা ও মার্জনা প্রাপ্ত হওয়া।
3। এই হাদীটির মধ্যে খেজুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং অন্যান্য কোনো খাদ্যের কথা উল্লেখ করা হয় নি যেমন, এক লোকমা খাদ্য। এই জন্য যে, সেই সময় হিজাজবাসীদের তথা মাক্কা ও মাদীনাবাসীদের প্রধান খাদ্য ছিলো খেজুর। তাই খেজুরের কথা এই হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
4। জান্নাত লাভ করার উপকরণ অনেকগুলি রয়েছে। তার মধ্যে থেকে একটি বিষয় হলো এই যে,
অভাবগ্রস্ত বা দরিদ্র লোকদের দারিদ্র দূর করা। এবং তাদের উপকার করা বা তাদেরকে দান প্রদান করা। যদিও তা অল্প বস্তু হয়।
আর এই অল্প বস্তুর দ্বারা দরিদ্র লোকদের উপকার করার বিষয়টি হলো মহান আল্লাহর দয়া বা অনগ্রহ। কিন্তু এই বিষয়টি অধিকাংশ লোক জানে না এবং মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে না।