hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস চতুর্থ খণ্ড

লেখকঃ ড: মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৮

যে ব্যক্তি দুনিয়ার অমঙ্গল হতে সংরক্ষিত থাকবে, সে ব্যক্তি নিশ্চয় কল্যাণময় জীবন লাভ করতে পারবে

34 - عَنْ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , قَالَ أَيْمُ اللهِ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : " إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ , إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنُ , إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنُ , وَلَمَنْ ابْتُلِيَ؛ فَصَبَرَ فَوَاهًا ".

( سنن أبي داود , رقم الحديث 4263, وصححه الألباني ).

34 - অর্থ: মেকদাদ ইবনুল আসওয়াদ [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়ার অমঙ্গল হতে সংরক্ষিত থাকবে, সে ব্যক্তি নিশ্চয় কল্যাণময় জীবন লাভ করতে পারবে। যে ব্যক্তি দুনিয়ার অমঙ্গল হতে সংরক্ষিত থাকবে, সে ব্যক্তি নিশ্চয় কল্যাণময় জীবন লাভ করতে পারবে। যে ব্যক্তি দুনিয়ার অমঙ্গল হতে সংরক্ষিত থাকবে, সে ব্যক্তি নিশ্চয় কল্যাণময় জীবন লাভ করতে পারবে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার অমঙ্গলে পড়ে নিপীড়িত হবে এবং তাতে ধৈর্যধারণ করবে। সে ব্যক্তির ধৈর্যধারণ অতি মঙ্গলময় কর্ম বলে বিবেচিত হবে”।

[সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং 4263। আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী এই হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:

আলমেকদাদ বিন আমর, তিনি আল-মেকদাদ ইবনুল আসওয়াদ আলকিনদী নামে প্রসিদ্ধ এবং তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সান্নিধ্য প্রাপ্তদের অন্যতম একজন সাহাবী। তিনি ইসলামের প্রথম অশ্বারোহী যোদ্ধা। এবং তিনি নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সম্মানিত ও উত্তম সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাকে জিহাদের জন্য আহ্বান করা হলে তিনি তাতে দ্রুত সাড়া দানকারী ছিলেন এমনকি তিনি তার জীবনের শেষ দিকেও জিহাদের জন্য অগ্রগামী ছিলেন । আর ইসলামে তিনিই সর্বপ্রথম অশ্বারোহী সৈন্য হিসেবে যুদ্ধ করেছেন এবং তিনি বদর, ওহুদ এবং খন্দক সহ সমস্ত যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে অংশগ্রহণ করেছেন।

তার বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলা 42 টি।

আলমেকদাদ সাহাবী মহা দানশীল পরোপকারী ছিলেন। নিজের সম্পদ থেকে তিনি হাসান ও হোসাইন [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা]কে ছত্রিশ হাজার এবং আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর স্ত্রীদের প্রত্যেককে সাত হাজার দিরহাম করে দেওয়ার জন্য অসিয়ত করেছিলেন।

আলমেকদাদ বিন আমর [রাদিয়াল্লাহু আনহু] আমীরুল মুমেনীন ওসমান বিন আফফান এর খেলাফতের যুগে 70 বছর বয়সে মাদীনা হতে তিন মাইল দূরে জুর্ফ নামক স্থানে 33 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তারপর তাকে মাদীনায় নিয়ে আসা হয় এবং ওসমান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] তার জানাজার নামাজ পড়ান এবং আলবাকী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। তাকওয়া বা আল্লাহকে ভক্তিসহকারে ভয় করে তাঁর সঠিক ভক্ত হওয়ার দ্বারা ফেতনা হতে নিরাপত্তা, শান্তি ও সহজলভ্য জীবিকা এবং সর্ব প্রকার মঙ্গল ও দেশে অধিকতর কল্যাণ অর্জিত হয়।

2। ইসলাম হলো: রহমত, শান্তি এবং নিরাপত্তার ধর্ম; তাই মহান আল্লাহ মুসলিম জাতিকে অমঙ্গলে বা বিপদে পতিত হওয়া থেকে সতর্ক করেছেন। এই সম্পর্কে তিনি বলেছেন:

ﭽ ﯱ ﯲ ﯳ ﯴ ﯵ ﯶ ﯷ ﯸ ﯹ ﯺ ﯻ ﯼ ﯽ ﯾ ﯿ ﭼ , ( سورة الأنفال , الآية ٢٥ ).

ভাবার্থের অনুবাদ: “তোমরা সতর্ক হয়ে যাও সেই শাস্তি হতে, যা বিশেষভাবে তোমাদের জালিম লোকদেরকেই শুধু আক্রমন করবে না । আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ শাস্তিদানে খুবই কঠোর”।

(সূরা আল আনফাল, আয়াত নং 25) ।

3। ফিতনা বা অমঙ্গল আপতিত হওয়ার সময় ধৈর্যধারণ করা, সৎ কাজের আগ্রহী হওয়া এবং আল্লাহর ইবাদতরত থাকা প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির অপরিহার্য কাজ।

4। ফাওয়াহা এর অনেক অর্থ রয়েছে, তার মধ্যে হলো এই যে, দুনিয়ার অমঙ্গলে পড়ে নিপীড়িত হওয়া এবং তাতে অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক আপসোস ও দুঃখ প্রকাশ করা। আবার এটাও বলা হয়েছে যে, দুনিয়ার অমঙ্গলে পড়ে নিপীড়িত হয়ে ধৈর্যধারণ করতে পারলে এই ধৈর্যধারণই হবে সর্বোত্তম ও অতি মঙ্গলময় কর্ম। আর এই অর্থটিই বেশি উপযোগী।