১
চোখের গুনাহ
লেখকঃ মফিজুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
২৬. মস্তিষ্কের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে
নোংরামী, অশ্লীলতা-পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যাস মাদকদ্রব্য সেবন করার মতোই একটি জঘন্য ক্ষতিকর অভ্যাস। যার ফলে মস্তিষ্কের সম্মুখভাগ Fronta Loob নষ্ট হয়ে যায়। Cambridge University এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, Pornography দর্শনের ফলে দর্শকের মস্তিষ্ক মাদকদ্রব্য সেবনকারীর মস্তিষ্কের মতো হয়ে যায়। গবেষক Gordon’s Bruin বলেন, ‘আমরা ২০ বছর বয়সী নোংরা ফিল্ম দর্শনের অভ্যাসীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে লক্ষ্য করছি। যৌন মিলনের পর্নো বা ফিল্ম দেখার অভ্যাস মাদকদ্রব্য সেবনের মতো একটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি। মাদক সেবন না করে যেমন মাদক সেবনকারীদের শান্তি বা স্বস্তি আসে না, ঠিক তেমনই অবস্থা ঘটে পর্নো দর্শনে অভ্যাসীদের। আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে যত্র-তত্রভাবে তৈরি হচ্ছে নোংরা, অশ্লীল ছবি। স্যাটেলাইট, ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সকলের কাছে। এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এরই মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে ২৮,০০০ মানুষ নোংরা সাইটে প্রবেশ করছে এবং পশুবৎ, যৌনমিলন দর্শন করছে। ২০০৬ ও ২০১১ সালের এক জরিপে বলা হয়েছে, প্রতি সেকেন্ডে পর্নো দেখছে ২৮২৫৮ - ৩৫০০০ মানুষ। [. তথ্য সূত্রে ইন্টারনেট ।] এখন তো এর সংখ্যা আরো বহুগুণ বেড়ে গেছে। দুঃখের বিষয় হলো এদের মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মহিলা। এর ফলে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নোংরা, অকেজো ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী দৃশ্য দেখার সাথে সাথে Dopamine, Oxytocin, Testosterone পদার্থ ক্ষরণ হতে থাকে এবং এমন তুফান সৃষ্টি করে, যা মস্তিষ্ককে তছনছ করে ফেলে। ব্রেনের সিস্টেমকেই অস্বাভাবিক করে তোলে এবং পড়াশোনার সর্বনাশ ঘটিয়ে ছাড়ে। তাতে ব্রেনের গুরুত্বপূর্ণ কোষ নষ্ট হতেও পারে। নোংরা, অশ্লীল, যৌনমিলনের ভিডিও দেখার সময় Dopamine পদার্থ খুব বেশি আকারে বের হতে থাকে। আর তার ফলে মস্তিষ্কের সম্মুখ অংশ দুর্বল হতে থাকে। পরিশেষে সর্বনাশই তাদের ভাগ্যে জোটে। [.তথ্য সূত্রে ইন্টারনেট ও আব্দুল হামিদ ফাইযী প্রণীত ‘পাপ, তার শাস্তি ও মুক্তির উপায়’ পৃ.৬৪-৬৯।]