hadith book logo

চোখের গুনাহ

লেখকঃ মফিজুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৯

১৫. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জবাবদিহিতাকে ভয় করতে হবে

প্রতিটি মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিয়ামতের দিন জিজ্ঞেসিত হবে এবং তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করবে। মহান আল্লাহ এ মর্মে বলেন,

﴿وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهٖ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولٰٓئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُوْلًا﴾

আর যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও অন্তকরণ এদের প্রত্যেকটি জিজ্ঞেসিত হবে। (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:৩৬)

প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে যখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, তখন তাদের দ্বারা সংঘটিত সকল কর্মের কথা তারা বলে দিবে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيْهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ﴾

সেদিন তাদের জিহবাগুলো, তাদের হাতগুলো ও তাদের পা-গুলো তারা যা করত সে ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। (সূরা আন-নূর ২৪:২৪)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন,

﴿اَلْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰۤى أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَاۤ أَيْدِيْهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ﴾

আজ আমি তাদের মুখে মোহর মেরে দিব এবং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে ও তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দিবে। (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৬৫)

মহান আল্লাহ আরো বলেন,

﴿شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُوْدُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ﴾

তাদের কান, তাদের চোখ ও তাদের শরীরের চামড়া তাদের বিরুদ্ধে তাদের কৃতকর্মের যাবতীয় আমল সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করবে। (সূরা হা-মীম-সাজদাহ ৪১:২০)

হে মুসলিম যুবক-যুবতী! যে পা দিয়ে আপনি চোখ ধাঁধানো রঙ্গ মঞ্চের নৃত্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন, যে হাত দিয়ে আপনি স্মার্ট মোবাইল, কম্পিউটার ও টিভির রিমোটের বাটন চেপে নগ্নতা, যৌনতা, অশ্লীলতার দৃশ্য আনয়ন করে চোখ দিয়ে দেখে ও কান দিয়ে শুনে মজা লুটছেন, এই সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই আপনার বিপক্ষে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবে। কোটি কোটি মানুষ ও ফেরেশতার সামনে আপনাকে লাঞ্ছিত, অপমানিত-অপদস্থ করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا﴾

সেদিন পৃথিবী তার (নিজের উপর সংঘটিত) সকল বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে।

(সূরা যিলযাল ৯৯:৪)

তাহলে জেনে রাখুন! কোন্ গাছ তলায়, কোন্ চত্বরে, কোন্ আঙ্গিনায়, কোন্ বাড়িতে, কোন্ ছাদে, কোন্ ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বা বসে আপত্তিকর দৃশ্য উপভোগ করছেন ঐ স্থানই কিয়ামতের দিন আপনার বিপক্ষে কথা বলবে। তাই নিজেকে বাঁচাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অপব্যবহার বন্ধ করুন। চোখ, কান, হাত, পা আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কাজে ব্যবহার করুন।

দুনিয়ার জীবনে যা কিছু করা হচ্ছে সবই লিখা হচ্ছে। সম্মানিত ফেরেশতাদেরকে মহান আল্লাহ মানুষের দুনিয়াবী সকল কর্মকান্ড লেখার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِيْنَ ‐ كِرَامًا كَاتِبِيْنَ ‐ يَعْلَمُوْنَ مَا تَفْعَلُوْنَ﴾

আর নিশ্চয় তোমাদের উপর সংরক্ষকগণ রয়েছেন। সম্মানিত লেখকবৃন্দ। তারা জানে, তোমরা যা কর। (সূরা ইনফিত্বার ৮২:১০-১২)

তিনি আরো বলেন,

﴿وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ كِتَابًا﴾

আমি সবকিছুই লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করছি। (সূরা আবাসা ৭৮:২৯)

তিনি আরো বলেন,

﴿إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِيْنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيْدٌ ‐ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ﴾

যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে (মানুষের) আমল লিখছে। সে যে কথা-ই উচ্চারণ করে তাই গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্ত্তত প্রহরী রয়েছে। (সূরা ক্বাফ ৫০:১৭-১৮)

মানুষ কোথায় কী করছে, কোন সময় করছে, কী পরিমাণ করেছে মহান আল্লাহর সম্মানিত লেখকবৃন্দ যখন তা পেশ করবেন, তখন অপরাধীরা চিৎকার দিয়ে বলবে এ কেমন কিতাব যাতে কোন কিছুই বাদ পড়েনি। কুরআনুল কারীমে এর বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে,

﴿وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِيْنَ مُشْفِقِيْنَ مِمَّا فِيْهِ وَيَقُوْلُوْنَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هٰذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيْرَةً وَّلَا كَبِيْرَةً إِلَّاۤ أَحْصَاهَا وَوَجَدُوْا مَا عَمِلُوْا حَاضِرًا وَّلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا﴾

আমলনামা পেশ করা হবে। তখন তুমি অপরাধীদেরকে দেখতে পাবে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত তাতে (খাতায়) যা রয়েছে তার কারণে। তখন তারা বলবে, হায় ধ্বংস আমাদের! কী হলো এ কিতাবের যাতে আমাদের ছোট বড় কোন কিছুই বাদ পড়েনি। সবই লিপিবদ্ধ এ কিতাবে। তারা যে যা করেছিল তা সবই নিজের সামনে উপস্থিত পাবে। আর তোমার রব কারো প্রতি যুলুম করেন না। (সূরা কাহফ ১৮:৪৯)

প্রিয় বন্ধু! আমাদের সকল কথা ও কর্ম লিখা হচ্ছে। কাজেই আমাদেরকে মোবাইল ফোনে, টিভিতে অশ্লীল সিনেমা, নাটক ও ইন্টারনেটের পর্নোগ্রাফিসহ সকল অন্যায় দেখা বন্ধ করতে হবে। কারণ দুনিয়ার এই হলঘরে আল্লাহ আমাদেরকে পরীক্ষা নিচ্ছেন যে কে উত্তম আমল করে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿اَلَّذِيْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَّهُوَ الْعَزِيْزُ الْغَفُوْرُ﴾

যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন আমলের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল। (সূরা মুলক ৬৭:২)

অতএব স্থায়ী জীবনে সফলতার জন্য সর্বোত্তম কর্মে লিপ্ত হয়ে আমলনামা সুন্দর করতে হবে।

হাশরের ময়দানে যাদের আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তারাই হবে সৌভাগ্যবান। আর যাদের আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে তারাই হবে দুর্ভাগ্যবান। আল্লাহ বলেন,

﴿فَأَمَّا مَنْ أُوْتِيَ كِتَابَهٗ بِيَمِيْنِهٖ ‐ فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَّسِيْرًا ‐ وَيَنْقَلِبُ إِلٰۤى أَهْلِهٖ مَسْرُوْرًا ‐ وَأَمَّا مَنْ أُوْتِيَ كِتَابَهٗ وَرَآءَ ظَهْرِهٖ ‐ فَسَوْفَ يَدْعُوْ ثُبُوْرًا ‐ وَيَصْلٰى سَعِيْرًا﴾

অতঃপর যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব সহজভাবেই নেয়া হবে। সে তার স্বজনদের কাছে আনন্দ চিত্তে ফিরে যাবে। আর যাকে তার আমলনামা তার পিছন দিক থেকে দেয়া হবে, সে মৃত্যু কামনা করবে এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। (সূরা ইনশিক্বাক ৮৪:৭-১২)

ডান হাতে আমলনামা পেয়ে চিরসুখের স্থান জান্নাত লাভে ধন্য হওয়ার জন্য এবং জাহান্নামের প্রজ্বলিত আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার নিমিত্তে কল্যাণকর কাজে নিমগ্ন হওয়া জরুরী।