১
চোখের গুনাহ
লেখকঃ মফিজুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭০
১৬. দুনিয়ার মোহগ্রস্ত হওয়া যাবে না
হে যুবক-যুবতী! যে ব্যক্তি বিবেকহীনভাবে দুনিয়ায় রং তামাশা, নোংরা, অশ্লীল পর্নোগ্রাফি, গান-বাজনা নিয়ে মত্ত আছে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। কারণ যে দুনিয়াকে ভালোবাসে, তার প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং পরকালকে ভুলে যায় নিশ্চিত সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইহকাল ও পরকালে। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿فَأَمَّا مَنْ طَغٰى ‐ وَاٰثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ‐ فَإِنَّ الْجَحِيْمَ هِيَ الْمَأْوٰى﴾
অতঃপর (দুনিয়ায়) যে লোক সীমালঙ্ঘন করেছিল, আর দুনিয়ার জীবনকে (পরকালের উপর) প্রাধান্য দিয়েছিল জাহান্নামই হবে তার আবাসস্থল।
(সূরা নাযিয়াত ৭৯:৩৭-৩৯)
দুনিয়ার ব্যাপারে নিমেণর বাণীগুলো স্মরণযোগ্য। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿اِعْلَمُوْاۤ أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَّلَهْوٌ وَّزِيْنَةٌ وَّتَفَاخُرٌ ۢبَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهٗ ثُمَّ يَهِيْجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُوْنُ حُطَامًا وَّفِي الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيْدٌ وَّمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللّٰهِ وَرِضْوَانٌ وَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ﴾
তোমরা জেনে রেখো যে, দুনিয়ার জীবন তো ক্রিয়া কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক অহংকার প্রকাশ, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছুই নয়। (দুনিয়ার উপমা) বৃষ্টি, যার দ্বারা উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দিত করে, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়; ফলে তুমি তা পীতবর্ণ দেখতে পাও। অবশেষে তা টুকরা টুকরা (খড়কুটায়) পরিণত হয় এবং পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়। (সূরা হাদীদ ৫৭:২০)
তিনি আরো বলেন,
﴿وَمَا هٰذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ إِلَّا لَهْوٌ وَّلَعِبٌ وَّإِنَّ الدَّارَ الْاٰخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ لَوْ كَانُوْا يَعْلَمُوْنَ﴾
এ পার্থিব জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। আর পরকালীন জীবনই হলো আসল জীবন, যদি তোমরা জানতে। (সূরা আনকাবূত ২৯:৬৪)
মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَا الدُّنْيَا فِي الْاٰخِرَةِ إِلَّا مِثْلُ مَا يَجْعَلُ أَحَدُكُمْ إِصْبَعَهٗ فِي الْيَمِّ فَلْيَنْظُرْ بِمَ تَرْجِعُ إِلَيْهِ
আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার দৃষ্টান্ত ঐরূপ, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রে আঙ্গুল ডুবায় এবং (তা বের করে) দেখে যে, আঙ্গুলটি সমুদ্রের কতটুকু পানি নিয়ে ফিরছে। [মুসলিম হা/২৮৫৮, তিরমিযি হা/২৩২৩, ইবনু মাজাহ হাদিস/৪১০৮।]
অত্র হাদীস থেকে বুঝা যায় আঙ্গুলটিতে জড়িয়ে থাকা সামান্য পানি হল দুনিয়া। আর বিশাল সমুদ্রের পানি হল পরকাল।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ أَنَّ رَسُولَ اللّٰهِ مَرَّ بِالسُّوقِ دَاخِلًا مِنْ ۢبَعْضِ الْعَالِيَةِ وَالنَّاسُ كَنَفَتَهٗ فَمَرَّ بِجَدْىٍ أَسَكَّ مَيِّتٍ فَتَنَاوَلَهٗ فَأَخَذَ بِأُذُنِهٖ ثُمَّ قَالَ أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنَّ هٰذَا لَهٗ بِدِرْهَم فَقَالُوا مَا نُحِبُّ أَنَّهٗ لَنَا بِشَىْءٍ وَمَا نَصْنَعُ بِهٖ قَالَ أَتُحِبُّونَ أَنَّهٗ لَكُمْ قَالُوا وَاللّٰهِ لَوْ كَانَ حَيًّا كَانَ عَيْبًا فِيهِ لِأَنَّهٗ أَسَكُّ فَكَيْفَ وَهُوَ مَيِّتٌ فَقَالَ فَوَاللّٰهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللّٰهِ مِنْ هٰذَا عَلَيْكُمْ
জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) একদা রাসূল ﷺ বাজারের পাশ দিয়ে গেলেন। এমতাবস্থায় তাঁর দুই পাশে লোকজন ছিল। অতঃপর তিনি ছোট কানবিশিষ্ট একটি মৃত ছাগলছানার পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি তার কান ধরে বললেন, তোমাদের কেউ কি এক দিরহামের বিনিময়ে এটাকে নেয়া পছন্দ কর? তারা বলল, আমরা কোন জিনিসের বিনিময়ে এটা নেয়া পছন্দ করব না এবং আমরা এটা নিয়ে করবই বা কী? তিনি বললেন, তোমরা কি পছন্দ কর (বিনামূল্যে) এটা তোমাদের হোক? তারা বলল, আল্লাহর কসম! যদি এটা জীবিত থাকত তবুও সে ছোট কানের কারণে দোষযুক্ত ছিল। এখন সে তো মৃত (সেহেতু একে কে নেবে)? তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তোমাদের নিকট এই মৃত ছাগলছানাটা যতটা নিকৃষ্ট, দুনিয়া আল্লাহর কাছে এর চেয়ে বেশি নিকৃষ্ট। [মুসলিম হা /২৯৫৭,আবু দাউদ হা/১৮৬,আহমাদ হা/১৪৫১৩।]
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত। [মুসলিম হা/২৯৫৬, তিরমিযি হা/২৩২৪, ইবনু মাজাহ হা/৪১১৩, আহমাদ হা/৮০৯০।]
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : أَخَذَ رَسُولُ اللهِ بِمَنْكِبِي فَقَالَ كُنَّ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيْبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيْلٍ
ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার দুই কাঁধ ধরে বললেন, তুমি এ দুনিয়াতে একজন মুসাফির অথবা পথচারীর মতো থাকো। [বুখারি হা/৬৪১৬, তিরমিযি হা/২৩৩৩, ইবনু মাজাহ হা/৪১১৪।]
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدِ السَّاعِدِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ : لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللهِ جُنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقٰى كَافِرًا مِنْهَا شَرْبَةَ مَاءٍ
সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, যদি আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান দুনিয়ার (মূল্য বা ওজন) থাকত, তিনি কোন কাফেরকে তার (দুনিয়ার) এক ঢোক পানিও পান করাতে দিতেন না। [তিরমিযি হা/২৩২০, হাসান ছহীহ, ইবনু মাজাহ হা/ ৪১১০।]
ইয়াহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু-অমুসলিম, নাস্তিক ও দুনিয়া আল্লাহর কাছে কতই না নিকৃষ্ট তা উপরের হাদীসগুলো থেকে সহজে অনুমান করা যায়।
অপর হাদীসে এসেছে,
حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ وَهُوَ يَقُولُ : اَلدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا ، إِلاَّ ذِكْرَ اللهِ وَمَا وَالَاهُ ، أَوْ عَالِمًا ، أَوْ مُتَعَلِّمًا .
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে, নিঃসন্দেহে দুনিয়া অভিশপ্ত। অভিশপ্ত তার মধ্যে যা কিছু আছে সবই। তবে আল্লাহর যিকির এবং তার সাথে সম্পৃক্ত জিনিস আলেম ও তালেবে-ইলম নয়। [তিরমিযি হা/২৩২২, ইবনু মাজাহ হা/৪১১২।]
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيَّ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ فَإِنَّ الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ وَإِنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَنَاظِرٌ كَيْفَ تَعْمَلُونَ ، أَلَا فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ
আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। রাসূল ﷺ বলেন, দুনিয়া হচ্ছে সুমিষ্ট ও সবুজ শ্যামল এবং আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তাতে প্রতিনিধি করেছেন। অতঃপর তিনি দেখবেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ কর। অতএব তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে সাবধান হও এবং সাবধান হও নারীজাতির ব্যাপারে। [মুসলিম হা/২৭৪২,তিরমিযি হা/২১৯১,ইবনু মাজাহ হা/৪০০০,আহমাদ হা/১০৭৫৯।]
কাজেই দুনিয়ার মোহে পড়ে পরকালের রেজাল্ট যেন খারাপ না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকুন।
﴿فَأَمَّا مَنْ طَغٰى ‐ وَاٰثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ‐ فَإِنَّ الْجَحِيْمَ هِيَ الْمَأْوٰى﴾
অতঃপর (দুনিয়ায়) যে লোক সীমালঙ্ঘন করেছিল, আর দুনিয়ার জীবনকে (পরকালের উপর) প্রাধান্য দিয়েছিল জাহান্নামই হবে তার আবাসস্থল।
(সূরা নাযিয়াত ৭৯:৩৭-৩৯)
দুনিয়ার ব্যাপারে নিমেণর বাণীগুলো স্মরণযোগ্য। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿اِعْلَمُوْاۤ أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَّلَهْوٌ وَّزِيْنَةٌ وَّتَفَاخُرٌ ۢبَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهٗ ثُمَّ يَهِيْجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُوْنُ حُطَامًا وَّفِي الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيْدٌ وَّمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللّٰهِ وَرِضْوَانٌ وَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ﴾
তোমরা জেনে রেখো যে, দুনিয়ার জীবন তো ক্রিয়া কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক অহংকার প্রকাশ, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছুই নয়। (দুনিয়ার উপমা) বৃষ্টি, যার দ্বারা উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দিত করে, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়; ফলে তুমি তা পীতবর্ণ দেখতে পাও। অবশেষে তা টুকরা টুকরা (খড়কুটায়) পরিণত হয় এবং পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়। (সূরা হাদীদ ৫৭:২০)
তিনি আরো বলেন,
﴿وَمَا هٰذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ إِلَّا لَهْوٌ وَّلَعِبٌ وَّإِنَّ الدَّارَ الْاٰخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ لَوْ كَانُوْا يَعْلَمُوْنَ﴾
এ পার্থিব জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। আর পরকালীন জীবনই হলো আসল জীবন, যদি তোমরা জানতে। (সূরা আনকাবূত ২৯:৬৪)
মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَا الدُّنْيَا فِي الْاٰخِرَةِ إِلَّا مِثْلُ مَا يَجْعَلُ أَحَدُكُمْ إِصْبَعَهٗ فِي الْيَمِّ فَلْيَنْظُرْ بِمَ تَرْجِعُ إِلَيْهِ
আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার দৃষ্টান্ত ঐরূপ, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রে আঙ্গুল ডুবায় এবং (তা বের করে) দেখে যে, আঙ্গুলটি সমুদ্রের কতটুকু পানি নিয়ে ফিরছে। [মুসলিম হা/২৮৫৮, তিরমিযি হা/২৩২৩, ইবনু মাজাহ হাদিস/৪১০৮।]
অত্র হাদীস থেকে বুঝা যায় আঙ্গুলটিতে জড়িয়ে থাকা সামান্য পানি হল দুনিয়া। আর বিশাল সমুদ্রের পানি হল পরকাল।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ أَنَّ رَسُولَ اللّٰهِ مَرَّ بِالسُّوقِ دَاخِلًا مِنْ ۢبَعْضِ الْعَالِيَةِ وَالنَّاسُ كَنَفَتَهٗ فَمَرَّ بِجَدْىٍ أَسَكَّ مَيِّتٍ فَتَنَاوَلَهٗ فَأَخَذَ بِأُذُنِهٖ ثُمَّ قَالَ أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنَّ هٰذَا لَهٗ بِدِرْهَم فَقَالُوا مَا نُحِبُّ أَنَّهٗ لَنَا بِشَىْءٍ وَمَا نَصْنَعُ بِهٖ قَالَ أَتُحِبُّونَ أَنَّهٗ لَكُمْ قَالُوا وَاللّٰهِ لَوْ كَانَ حَيًّا كَانَ عَيْبًا فِيهِ لِأَنَّهٗ أَسَكُّ فَكَيْفَ وَهُوَ مَيِّتٌ فَقَالَ فَوَاللّٰهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللّٰهِ مِنْ هٰذَا عَلَيْكُمْ
জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) একদা রাসূল ﷺ বাজারের পাশ দিয়ে গেলেন। এমতাবস্থায় তাঁর দুই পাশে লোকজন ছিল। অতঃপর তিনি ছোট কানবিশিষ্ট একটি মৃত ছাগলছানার পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি তার কান ধরে বললেন, তোমাদের কেউ কি এক দিরহামের বিনিময়ে এটাকে নেয়া পছন্দ কর? তারা বলল, আমরা কোন জিনিসের বিনিময়ে এটা নেয়া পছন্দ করব না এবং আমরা এটা নিয়ে করবই বা কী? তিনি বললেন, তোমরা কি পছন্দ কর (বিনামূল্যে) এটা তোমাদের হোক? তারা বলল, আল্লাহর কসম! যদি এটা জীবিত থাকত তবুও সে ছোট কানের কারণে দোষযুক্ত ছিল। এখন সে তো মৃত (সেহেতু একে কে নেবে)? তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তোমাদের নিকট এই মৃত ছাগলছানাটা যতটা নিকৃষ্ট, দুনিয়া আল্লাহর কাছে এর চেয়ে বেশি নিকৃষ্ট। [মুসলিম হা /২৯৫৭,আবু দাউদ হা/১৮৬,আহমাদ হা/১৪৫১৩।]
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত। [মুসলিম হা/২৯৫৬, তিরমিযি হা/২৩২৪, ইবনু মাজাহ হা/৪১১৩, আহমাদ হা/৮০৯০।]
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : أَخَذَ رَسُولُ اللهِ بِمَنْكِبِي فَقَالَ كُنَّ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيْبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيْلٍ
ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার দুই কাঁধ ধরে বললেন, তুমি এ দুনিয়াতে একজন মুসাফির অথবা পথচারীর মতো থাকো। [বুখারি হা/৬৪১৬, তিরমিযি হা/২৩৩৩, ইবনু মাজাহ হা/৪১১৪।]
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدِ السَّاعِدِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ : لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللهِ جُنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقٰى كَافِرًا مِنْهَا شَرْبَةَ مَاءٍ
সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, যদি আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান দুনিয়ার (মূল্য বা ওজন) থাকত, তিনি কোন কাফেরকে তার (দুনিয়ার) এক ঢোক পানিও পান করাতে দিতেন না। [তিরমিযি হা/২৩২০, হাসান ছহীহ, ইবনু মাজাহ হা/ ৪১১০।]
ইয়াহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু-অমুসলিম, নাস্তিক ও দুনিয়া আল্লাহর কাছে কতই না নিকৃষ্ট তা উপরের হাদীসগুলো থেকে সহজে অনুমান করা যায়।
অপর হাদীসে এসেছে,
حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ وَهُوَ يَقُولُ : اَلدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا ، إِلاَّ ذِكْرَ اللهِ وَمَا وَالَاهُ ، أَوْ عَالِمًا ، أَوْ مُتَعَلِّمًا .
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে, নিঃসন্দেহে দুনিয়া অভিশপ্ত। অভিশপ্ত তার মধ্যে যা কিছু আছে সবই। তবে আল্লাহর যিকির এবং তার সাথে সম্পৃক্ত জিনিস আলেম ও তালেবে-ইলম নয়। [তিরমিযি হা/২৩২২, ইবনু মাজাহ হা/৪১১২।]
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيَّ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ فَإِنَّ الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ وَإِنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَنَاظِرٌ كَيْفَ تَعْمَلُونَ ، أَلَا فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ
আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। রাসূল ﷺ বলেন, দুনিয়া হচ্ছে সুমিষ্ট ও সবুজ শ্যামল এবং আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তাতে প্রতিনিধি করেছেন। অতঃপর তিনি দেখবেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ কর। অতএব তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে সাবধান হও এবং সাবধান হও নারীজাতির ব্যাপারে। [মুসলিম হা/২৭৪২,তিরমিযি হা/২১৯১,ইবনু মাজাহ হা/৪০০০,আহমাদ হা/১০৭৫৯।]
কাজেই দুনিয়ার মোহে পড়ে পরকালের রেজাল্ট যেন খারাপ না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকুন।