hadith book logo

চোখের গুনাহ

লেখকঃ মফিজুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৩

১৯. মৃত্যুকে স্মরণ করতে হবে

পৃথিবীতে যাবতীয় অন্যায়, পাপাচার, অশ্লীলতা, নোংরামী ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে মরণকে স্মরণ রাখা। কারণ যার মধ্যে মরণের চিন্তা কাজ করে, তার দ্বারা পাপাচারে লিপ্ত হওয়া সম্ভব নয়। কত যুবক-যুবতী মরণকে ভুলে সকাল-সন্ধ্যায় ইন্টারনেটের অশ্লীলতায় নিমগ্ন। অথচ তাদের অলক্ষেই মরণের কাফন প্রস্ত্তত হচ্ছে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَآءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّلَا يَسْتَقْدِمُوْنَ﴾

প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সুতরাং যখন তাদের সময় আসবে তখন তারা মুহূর্তকালও বিলম্ব বা ত্বরান্বিত করতে পারবে না।

(সূরা আরাফ ৭:৩৪)

অন্যত্র তিনি বলেন,

﴿وَلَنْ يُّؤَخِّرَ اللّٰهُ نَفْسًا إِذَا جَآءَ أَجَلُهَا وَاللّٰهُ خَبِيْرٌ ۢبِمَا تَعْمَلُوْنَ﴾

আল্লাহ কাউকে কখনো অবকাশ দেন না, যখন তার নির্ধারিত সময় এসে যায়। (সূরা মুনাফিকুন ৬৩:১১)

আল্লাহ আরো বলেন,

﴿كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُوْنَ﴾

প্রতিটি জীবনই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, অতঃপর তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। (সূরা আনুকাবুত ২৯:৫৭)

সুতরাং মৃত্যু থেকে পালানোর কোন সুযোগ নেই। সহসাই তা এসে যাবে যেখানে যে অবস্থায় থাকেন না কেন। আল্লাহর বাণী,

﴿قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِيْ تَفِرُّوْنَ مِنْهُ فَإِنَّهٗ مُلَاقِيْكُمْ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ إِلٰى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ﴾

বলো! তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালাচ্ছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেই। অতঃপর তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে যা তোমরা করতে।

(সূরা জুমুআহ ৬২:৮)

কার মৃত্যু কখন কোথায় ঘটবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আল্লাহ বলেন,

﴿وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَّمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ ۢبِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوْتُ﴾

কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে তার মৃত্যু ঘটবে। (সূরা লুকমান ৩১:৩৪)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَطَّ النَّبِيُّ خُطُوطًا فَقَالَ هٰذَا الْأَمَلُ وَهٰذَا أَجَلُهٗ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذٰلِكَ إِذْ جَاءَهُ الْخَطُّ الْأَقْرَبُ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী ﷺ কয়েকটি রেখা আঁকলেন এবং বললেন, এটা হল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং এটা হল তার জীবনের নির্দিষ্ট মেয়াদ (মৃত্যু)। সে এ অবস্থার মধ্যেই থাকে এবং হঠাৎ নিকটবর্তী রেখা (মৃত্যু) এসে পড়ে। [বুখারী হাদিস/৬৪১৮, তিরমিযি হাদিস/২৩৩৪, ইবনু মাজাহ ৪২৩২ আহমাদ হাদিস/১১৮২৯।]

প্রিয় পাঠক! হঠাৎ মৃত্যু এসে যাবে, জীবন প্রদীপ চিরদিনের জন্য নিভে যাবে।

মরণকে স্মরণ করে দুনিয়াতে নোংরা, অশ্লীল গান-বাজনা পর্নোগ্রাফির সাথে জড়িত- এমন লোকদের সাথী হয়ো না। নতুবা আফসোস করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿حَتّٰۤى إِذَا جَآءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُوْنِ ‐ لَعَلِّيْۤ أَعْمَلُ صَالِحًا فِيْمَا تَرَكْتُ﴾

এমনকি যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু এসে হাজির হয় তখন সে বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আবার (দুনিয়াতে) পাঠিয়ে দাও যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি করিনি। (সূরা মুমিনুন ২৩:৯৯-১০০)