hadith book logo

আলোচিত রাত-দিন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

খতীব সাহেবের করণীয়

১. খতীব সাহেব মিম্বরে বসার সময় প্রথমে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে সালাম প্রদান করবেন। হাদীসে এসেছে,

عَنْ جَابِرٍ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ - - إِذَا صَعِدَ الْمِنْبَرَ سَلَّمَ

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন মিম্বরে আরোহণ করতেন তখন সালাম প্রদান করতেন। [ইবনে মাজাহ, হা/১১০৯; বায়হাকী, হা/৫৫৩২; শারহুস সুন্নাহ, হা/১০৬৯; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২০৭৬।]

২. জুমু‘আর দিন খতীবের জন্য সুন্নাত হলো, মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে দু’টি খুতবা প্রদান করা।

৩. আযান শেষ না হওয়া পর্যমত্ম মিম্বরে বসে থাকবেন। আযান শেষ হওয়ার পর দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করবেন।

৪. হাতে একটি লাঠি নেবেন এবং এর উপর ভর দিয়ে খুতবা দেবেন। [মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৮৮৯।]

৫. দুই খুতবার মাঝখানে একবার বসবেন। [সহীহ মুসলিম, হা/২০৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৯১৬; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৯৫২; বায়হাকী, হা/৫৫৬৪; দারেমী, হা/১৫৫৯; মিশকাত হা/১৪০৫।]

৬. মুসল্লীদের দিকে তাকিয়ে খুতবা প্রদান করবেন এবং একটু পর পর ডানে ও বামে মুখ ফেরাবেন।

৭. খতীব সাহেব প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করবেন, তারপর নবী ﷺ এর প্রতি দরূদ পাঠ করবেন, অতঃপর মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে তাকওয়া ও অন্যান্য বিষয়ে নসীহত করবেন, ২য় খুতবায় হামদ ও দরূদসহ সকল মুসলিমের জন্য দু‘আ করবেন এবং প্রয়োজনীয় উপদেশ দেবেন। [নাসাঈ, হা/১৪১৭-১৮; তিরমিযী, হা/৫০৬।]

৮. খুতবা উচ্চ আওয়াজে হওয়া সুন্নাত। নবী ﷺ উচ্চ আওয়াজে খুতবা প্রদান করতেন।

৯. খতীবের উচিত হলো, খুতবায় সকল মুসলিম ও মুসল্লীর জন্য তাদের কল্যাণের বিষয়ে দু‘আ করা।

১০. খুতবা থেকে অবসর হওয়ার পর কোন ওজর না থাকলে খতীব নিজেই জুমু‘আর সালাতের ইমামতি করবেন।

১১. খুতবা শেষ হওয়ার পর নামায শুরু করতে বেশি সময় দেরি না করা।

১২. খুতবা প্রদানকালীন অনর্থক কাজে জড়িয়ে না পড়া।

১৩. খতীবের জন্য জায়েয আছে যে, খুতবার শুরুতে অথবা পরে কিংবা খুতবায় বসাকালীন সময়ে কোন প্রয়োজনীয় কথা বলা।

১৪. দ্বিতীয় খুতবা কেবল দু‘আ দ্বারা সমাপ্ত না করে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে কিছু উপদেশ প্রদান করে তারপর খুতবা শেষ করা।

১৫. খুতবায় কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদীস দ্বারা দলীল উপস্থাপন করা।

১৬. খুতবার মধ্যে যঈফ ও মাওযূ হাদীস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা।

১৭. খতীব সাহেব খুতবা বেশি লম্বা করবেন না। আবার এমন সংক্ষিপ্তও করবেন না যে, খুতবার হক আদায় হবে না এবং মুসল্লীগণ এর থেকে কোন ফায়দা পাবে না।

عَنْ وَاصِلِ بْنِ حَيَّانَ قَالَ قَالَ أَبُوْ وَائِلٍ خَطَبَنَا عَمَّارٌ فَأَوْجَزَ وَأَبْلَغَ فَلَمَّا نَزَلَ قُلْنَا يَا أَبَا الْيَقْظَانِ لَقَدْ أَبْلَغْتَ وَأَوْجَزْتَ فَلَوْ كُنْتَ تَنَفَّسْتَ . فَقَالَ إِنِّىْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ - يَقُوْلُ إِنَّ طُوْلَ صَلَاةِ الرَّجُلِ وَقِصَرَ خُطْبَتِه مَئِنَّةٌ مِنْ فِقْهِه فَأَطِيْلُوا الصَّلَاةَ وَاقْصُرُوا الْخُطْبَةَ وَإِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا

ওয়াসিল ইবনে হাইয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু ওয়ায়িল (রহ.) বলেছেন, একদা আম্মার (রাঃ) আমাদের উদ্দেশ্যে সংক্ষেপে একটি ভাষণ প্রদান করলেন। তারপর যখন তিনি মিম্বর থেকে নামলেন তখন আমরা বললাম, হে আবুল ইয়াকযান! আপনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহুল ভাষণ প্রদান করেছেন, তবে যদি তা কিছুটা দীর্ঘ করতেন (তাহলে ভালো হতো)। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তির দীর্ঘ সালাত ও সংক্ষিপ্ত ভাষণ তার প্রজ্ঞার পরিচায়ক। অতএব, তোমরা সালাতকে দীর্ঘ করো এবং ভাষণকে সংক্ষিপ্ত করো। অবশ্যই কোন কোন ভাষণে যাদুকরি প্রভাব থাকে। [সহীহ মুসলিম, হা/৮৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৩১৭; বায়হাকী, হা/৫৯৭৩; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৭৯১; মিশকাত, হা/১৪০৬।]