hadith book logo

আলোচিত রাত-দিন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

ইবাদাত বা নেক আমলের গুরুত্ব

ইবাদাত বা নেক আমলের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদাত করার জন্য। কুরআন মাজীদে তিনি বলেন,

﴿وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْاِنْسَ اِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ﴾

আমি জিন ও মানুষকে এজন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদাত করবে। (সূরা যারিয়াত- ৫৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتّٰى يَاْتِيَكَ الْيَقِيْنُ﴾

(হে নবী!) যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার কাছে নিশ্চিত বিষয় (মৃত্যু) না আসবে, ততক্ষণ পর্যমত্ম তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদাত করতে থাকো। (সূরা হিজর- ৯৯)

অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَا عِبَادِيَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِنَّ اَرْضِيْ وَاسِعَةٌ فَاِيَّايَ فَاعْبُدُوْنِ﴾

হে আমার মুমিন বান্দাগণ! নিশ্চয় আমার পৃথিবী প্রশস্ত; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত করো। (সূরা আনকাবূত- ৫৬)

এসব আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আমাদেরকে অবশ্যই ইবাদাত করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জন্য বিভিন্ন ইবাদাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যাতে করে এসবের মাধ্যমে আমরা তাঁরই দাসত্ব প্রকাশ করতে পারি।

মানুষের উপর আল্লাহর হক বা অধিকার হচ্ছে কোন প্রকার শিরক না করে শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদাত করা। হাদীসে এসেছে, নবী ﷺ বলেন,

فَاِنَّ حَقَّ اللهِ عَلَى الْعِبَادِ اَنْ يَعْبُدُوْهُ وَلَا يُشْرِكُوْا بِهٖ شَيْئًا‏

বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো, তারা তাঁর ইবাদাত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক (অংশীদার স্থাপন) করবে না। [সহীহ মুসলিম, হা/১৫৪।]

অপর হাদীসে এসেছে,

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ : بَادِرُوْا بِالْأَعْمَالِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِىْ كَافِرًا أَوْ يُمْسِىْ مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا يَبِيْعُ دِيْنَهٗ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা আমলের ব্যাপারে দ্রুতগামী হও- অন্ধকার রাতের মতো ঘনিয়ে আসা ফেতনা আগমনের পূর্বে। তখন কোন ব্যক্তি সকাল করবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধ্যা করবে কাফির অবস্থায়। আবার সন্ধ্যা করবে মুমিন অবস্থায় এবং সকাল করবে কাফির অবস্থায়। দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের কারণে সে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দেবে। [সহীহ বুখারী, হা/২৫৫০; সহীহ মুসলিম, হা/৩২৮/১৭১৮; আবু দাউদ, হা/৩৯২; ইবনে মাজাহ, হা/৭।]