hadith book logo

আলোচিত রাত-দিন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

যাচাই-বাছাই করে আমল করতে হবে

প্রতিটি বান্দার জন্য আমল হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা পরকালের ভালো-মন্দ আমলের উপরই নির্ভরশীল। যার ভালো আমলের পরিমাণ যতবেশি হবে, সে তত সহজেই মুক্তি লাভ করতে পারবে। সুতরাং প্রতিটি বান্দাকে অবশ্যই আমলের প্রতি যত্নবান হতে হবে এবং যাচাই-বাছাই করে গ্রহণযোগ্য হওয়ার মতো আমল করতে হবে। নতুবা সকল আমল বাতিল হিসেবে গণ্য হবে, যা পরকালে বান্দার জন্য কোন কাজে আসবে না। আমল কবুল হওয়ার শর্তাবলি সম্পর্কে সামনে আলোচনা করা হবে- ইনশাআল্লাহ।

দলীলবিহীন আমল গ্রহণযোগ্য নয় :

আমল করতে হবে কুরআন ও হাদীসের সহীহ দলীলভিত্তিক। অন্যথায় উক্ত আমল বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : مَنْ اَحْدَثَ فِيْ اَمْرِنَا هٰذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدٌّ

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে নতুন কিছু সংযোজন করবে, যা মূলত তাতে নেই, সেটি পরিত্যাজ্য। [সহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; সহীহ মুসলিম, হা/৪৫৮৯; আবু দাউদ, হা/৪৬০৬; ইবনে মাজাহ, হা/১৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬০৩৩।]

সর্বক্ষেত্রে বাপ-দাদার অনুসরণ করা যাবে না :

আমাদের সমাজে এমন অনেক আমল চালু আছে, যা কেবল বাপ-দাদারা করতেন বলেই করা হয়ে থাকে। অথচ এ ধরনের কোন ইবাদাত ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং কুরআন মাজীদে এ ব্যাপারে বার বার সতর্ক করা হয়েছে। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَاۤ اَلْفَيْنَا عَلَيْهِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَلَوْ كَانَ اٰبَآؤُهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ شَيْئًا وَّلَا يَهْتَدُوْنَ﴾

যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার অনুসরণ করো, তখন তারা বলে- বরং আমরা তাঁরই অনুসরণ করব যার উপর আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি। যদি তাদের পিতৃপুরুষরা না বুঝে থাকে এবং তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত না হয়ে থাকে (তবুও কি তারা তাদের অনুসরণ করবে)? (সূরা বাকারা- ১৭০)

অতএব ইবাদাতের ক্ষেত্রে বাপ-দাদাদের অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ইবাদাত করতে হবে স্পষ্ট দলীলের ভিত্তিতে কেবলমাত্র আল্লাহর সমত্মুষ্টির উদ্দেশ্যে।

অধিকাংশ মানুষের অনুসরণ করা যাবে না :

আমাদের সমাজে আরো একটি ভ্রামিত্ম চালু আছে যে, অধিকাংশ মানুষ যা করে আমরা সেটিকেই সঠিক হিসেবে ধরে নেই। অথচ এরূপ মানদন্ড সম্পূর্ণ শরীয়ত বিরোধী। কেননা অধিকাংশ লোক নির্ভুল জ্ঞানের পরিবর্তে অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। তাদের আকীদা-বিশ্বাস, দর্শন, চিন্তাধারা ও জীবনযাপনের মূলনীতি সবকিছুই ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে গড়ে উঠে। কুরআন মাজীদে এ ব্যাপারেও কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَاِنْ تُطِعْ اَكْثَرَ مَنْ فِى الْاَرْضِ يُضِلُّوْكَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِؕ اِنْ يَّتَّبِعُوْنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنْ هُمْ اِلَّا يَخْرُصُوْنَ ‐ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ مَنْ يَّضِلُّ عَنْ سَبِيْلِهٖۚ وَهُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِيْنَ﴾

আর যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথা অনুযায়ী চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে দেবে। কেননা এরা নিছক অনুমানের উপর ভিত্তি করে চলে এবং (অধিকাংশ ব্যাপারে) মিথ্যা ছাড়া অন্য কিছুই বলে না। আর তোমার প্রতিপালক (এ কথা) ভালো করেই জানেন যে, কে তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হচ্ছে। তাছাড়া তিনি হেদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও ভালো জানেন। (সূরা আন‘আম- ১১৬, ১১৭)

অতএব আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, কোন আমল করার পূর্বে সেটি যাচাই-বাছাই করে নেয়া এবং এ ক্ষেত্রে বাপ-দাদা অথবা সমাজের রসম-রেওয়াজের অনুসরণ না করা। তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহর কাছে আমাদের আমল গ্রহণযোগ্য হবে - ইনশাআল্লাহ।