১
আলোচিত রাত-দিন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
বিদআত থেকে সাবধান
বিদআত হচ্ছে, শরীয়তে নব আবিষ্কৃত ঐ সকল ইবাদাত, যার কোন ভিত্তি নেই। [মির‘আতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, ১৬৫ নং হাদীসের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।]
দ্বীন পরিপূর্ণ, সুতরাং তাতে কোন জিনিস বৃদ্ধি করা বা কোন নতুন বিষয়কে দ্বীনের অংশ মনে করে তদানুযায়ী আমল করা এবং আমল করলে সওয়াব হবে বলে মনে করাই হচ্ছে বিদআতের মূল কথা। আর সকল বিদআতই গোমরাহী। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ .. قَالَ رَسُوْلُ اللهِ وَاِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُوْرِ فَاِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَاِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
ইরবায বিন সারিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের উপর আবশ্যক হচ্ছে, তোমরা প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বিষয় থেকে দূরে থাকবে। কেননা প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী। [আবু দাউদ, হা/৪৬০৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭১৪৪।]
বিদআত থেকে দূরে থাকার জন্য নবী ﷺ কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِيْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَآءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ فَتَمَسَّكُوْا بِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَاِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْاُمُوْرِ
তোমাদের উপর আবশ্যক হলো, আমার সুন্নাত ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে ধারণ করা। তোমরা একে শক্তভাবে ধারণ করো এবং তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরো। সাবধান! সকল নব উদ্ভাবিত কাজ থেকে বিরত থাকো। [আবু দাউদ, হা/৪৬০৭; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হা/২০১২৫; দারেমী, হা/৯৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭১৪৫।]
অপর হাদীসে এসেছে,
عَنْ مَالِكٍ ... اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ تَرَكْتُ فِيْكُمْ اَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوْا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهٖ
মালেক (রহ.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে গেলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা সে দুটি জিনিস কড়ে ধরবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা কিছুতেই পথভ্রষ্ট হবে না। সে দুটি জিনিস হচ্ছে, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৫৯৪; মিশকাত, হা/১৮৬।]
সুতরাং সমাজে যেসব ইবাদাত চালু আছে এবং আলেম, বুযুর্গ, পীর সাহেব, মুরববী সাহেব যেসব ইবাদাত করতে বলেন, তা অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত মাপকাঠি দ্বারা যাচাই করতে হবে। তারপর যদি তা সঠিক হয় তাহলে তা মানতে হবে; আর যদি সঠিক না হয়, তাহলে তা কোনভাবেই মানা যাবে না।
বিদআতীরা নেক আমল করা সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রসত্ম :
সাধারণত বিদআতীরা মনে করে যে, তারা সৎকর্মই করে যাচ্ছে এবং উক্ত কর্মের মাধ্যমে তারা অনেক সওয়াব অর্জন করছে। অথচ একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায় যে, মক্কার মুশরিকরাও তাদের আমলের ব্যাপারে অনুরূপ ধারণা পোষণা করত। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে বলেন,
﴿قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْاَخْسَرِيْنَ اَعْمَالًا – اَلَّذِيْنَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ يُحْسِنُوْنَ صُنْعًا﴾
(হে নবী) বলে দাও, আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রসত্মদের সম্পর্কে সংবাদ দেব? তারা তো ঐসব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে; অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্মই করছে। (সূরা কাহফ- ১০৩, ১০৪)
অতএব সৎকর্ম করলেই যে সেটা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে- এরূপ ধারণা করা ঠিক নয়। কেননা অনেক আমল নিজেদের অজ্ঞতার কারণে বিদআত হিসেবেও গণ্য হতে পারে। আর যদি এরূপ হয় তাহলে সকল আমল বাতিল হিসেবে গণ্য হবে এবং ক্ষতিগ্রসত্মদের কাতারে পতিত হতে হবে। সুতরাং আমাদেরকে অবশ্যই সর্বদা বিদআত থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বিশুদ্ধ আমলের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
দ্বীন পরিপূর্ণ, সুতরাং তাতে কোন জিনিস বৃদ্ধি করা বা কোন নতুন বিষয়কে দ্বীনের অংশ মনে করে তদানুযায়ী আমল করা এবং আমল করলে সওয়াব হবে বলে মনে করাই হচ্ছে বিদআতের মূল কথা। আর সকল বিদআতই গোমরাহী। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ .. قَالَ رَسُوْلُ اللهِ وَاِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُوْرِ فَاِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَاِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
ইরবায বিন সারিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের উপর আবশ্যক হচ্ছে, তোমরা প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বিষয় থেকে দূরে থাকবে। কেননা প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী। [আবু দাউদ, হা/৪৬০৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭১৪৪।]
বিদআত থেকে দূরে থাকার জন্য নবী ﷺ কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِيْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَآءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ فَتَمَسَّكُوْا بِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَاِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْاُمُوْرِ
তোমাদের উপর আবশ্যক হলো, আমার সুন্নাত ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে ধারণ করা। তোমরা একে শক্তভাবে ধারণ করো এবং তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরো। সাবধান! সকল নব উদ্ভাবিত কাজ থেকে বিরত থাকো। [আবু দাউদ, হা/৪৬০৭; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হা/২০১২৫; দারেমী, হা/৯৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭১৪৫।]
অপর হাদীসে এসেছে,
عَنْ مَالِكٍ ... اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ تَرَكْتُ فِيْكُمْ اَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوْا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهٖ
মালেক (রহ.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে গেলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা সে দুটি জিনিস কড়ে ধরবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা কিছুতেই পথভ্রষ্ট হবে না। সে দুটি জিনিস হচ্ছে, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৫৯৪; মিশকাত, হা/১৮৬।]
সুতরাং সমাজে যেসব ইবাদাত চালু আছে এবং আলেম, বুযুর্গ, পীর সাহেব, মুরববী সাহেব যেসব ইবাদাত করতে বলেন, তা অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত মাপকাঠি দ্বারা যাচাই করতে হবে। তারপর যদি তা সঠিক হয় তাহলে তা মানতে হবে; আর যদি সঠিক না হয়, তাহলে তা কোনভাবেই মানা যাবে না।
বিদআতীরা নেক আমল করা সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রসত্ম :
সাধারণত বিদআতীরা মনে করে যে, তারা সৎকর্মই করে যাচ্ছে এবং উক্ত কর্মের মাধ্যমে তারা অনেক সওয়াব অর্জন করছে। অথচ একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায় যে, মক্কার মুশরিকরাও তাদের আমলের ব্যাপারে অনুরূপ ধারণা পোষণা করত। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে বলেন,
﴿قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْاَخْسَرِيْنَ اَعْمَالًا – اَلَّذِيْنَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ يُحْسِنُوْنَ صُنْعًا﴾
(হে নবী) বলে দাও, আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রসত্মদের সম্পর্কে সংবাদ দেব? তারা তো ঐসব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে; অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্মই করছে। (সূরা কাহফ- ১০৩, ১০৪)
অতএব সৎকর্ম করলেই যে সেটা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে- এরূপ ধারণা করা ঠিক নয়। কেননা অনেক আমল নিজেদের অজ্ঞতার কারণে বিদআত হিসেবেও গণ্য হতে পারে। আর যদি এরূপ হয় তাহলে সকল আমল বাতিল হিসেবে গণ্য হবে এবং ক্ষতিগ্রসত্মদের কাতারে পতিত হতে হবে। সুতরাং আমাদেরকে অবশ্যই সর্বদা বিদআত থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বিশুদ্ধ আমলের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।