hadith book logo

আলোচিত রাত-দিন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

মাতৃভাষায় খুতবা দেয়া উচিত

খতীবের জন্য উচিত হলো, এমন ভাষায় খুতবা প্রদান করা, যাতে উপস্থিত লোকজন বুঝতে পারে। খুতবা মাতৃভাষায় এবং অধিকাংশ মুসল্লীর বোধগম্য ভাষায় হওয়া জরুরি। কেননা ‘‘খুতবা’’ অর্থ ভাষণ। আর ভাষণ সেই ভাষায় দিতে হবে যে ভাষা অধিকাংশ শ্রোতা বুঝতে পারে। অন্যথায় উক্ত ভাষণের উদ্দেশ্য ব্যহত হয়।

সকল নবী-রাসূলই তাদের জাতির কাছে তাদেরই ভাষা অনুযায়ী প্রেরিত হয়েছিলেন। আল্লাহ বলেন,

﴿وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِه لِيُبَيِّنَ لَهُمْ﴾

আমি সকল রাসূলকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছি, যাতে সে তাদেরকে (আল্লাহর দ্বীন) ব্যাখ্যা করে দেয়। (সূরা ইবরাহীম- ৪)

আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺ-ও সে অনুযায়ী প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁর মাতৃভাষা ছিল আরবি এবং তিনি যাদেরকে শিক্ষা দিতেন তাদের ভাষাও ছিল আরবি। তাই তিনি আরবি ভাষায় খুতবা দিতেন।

আর আলেমরা যেহেতু তাঁর উত্তরাধিকারী, সেহেতু প্রত্যেকের উচিত অধিকাংশ শ্রোতা যে ভাষা বুঝতে পারে সে ভাষায় খুতবা প্রদান করা। অন্যথায় খুতবার উদ্দেশ্য বিনষ্ট হয়ে যাবে।

বিভিন্ন মসজিদে কেবল আরবি খুতবা পাঠের যে প্রচলন রয়েছে, তা নিঃসন্দেহে খুতবার উদ্দেশ্য বিরোধী।

বর্তমানে মূল খুতবার পূর্বে মিম্বরে বসে মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখার মাধ্যমে যে তৃতীয় আরেকটি খুতবা চালু করা হয়েছে তা সুন্নাতের খেলাফ। কেননা জুমু‘আর জন্য নির্ধারিত খুতবা হলো- দুটি; তিনটি নয়। তাছাড়া মূল খুতবার পূর্বের সময়টি মুসল্লীদের নফল সালাতের সময়।