hadith book logo

আলোচিত রাত-দিন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

রমাযান মাসে মানুষের ভুলসমূহ

১. রমাযানের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা :

অধিকাংশ মানুষই রমাযানের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে জানে না। আবার অনেকে জানলেও তা বাসত্মবায়ন করে না। অথচ রমাযান মাস হচ্ছে বিশেষ ফযীলতের মাস এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। সুতরাং মানুষের উচিত হলো, এ মাসটিকে গনীমত মনে করে এর রাত ও দিনগুলোকে নেক কাজের মাধ্যমে অতিবাহিত করা।

২. রমাযান আসলে মন খারাপ করা :

অনেক লোক আছে, যারা রমাযান মাস আসলে মন খারাপ করে থাকে। কারণ আল্লাহর প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং আল্লাহর দ্বীন পালনের ইচ্ছা দুর্বল। শয়তান তাদেরকে সবসময় পাপে জড়িয়ে রাখে। এজন্য রমাযান মাসে তারা পাপ কাজ করতে কিছুটা হলেও বাধাগ্রসত্ম হয়। যেমন- অনেক ধূমপায়ী আছে, যারা রামাযান মাসে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে পারে না। এজন্য তারা রমাযান মাসকে ঘৃণা করে। কিন্তু প্রত্যেক মুসলিমের উচিত হলো এ মাসটিকে স্বাগত জানানো এবং কৃত অপরাধ থেকে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।

৩. অলসতা করা ও অধিক ঘুমানো :

অনেক মানুষ রয়েছে, যারা রমাযান মাসে বেশি বেশি ঘুমায়। সাহরী খাওয়ার পর অনেকে দেরিতে ঘুম থেকে উঠে। কিন্তু এমনটি করা উচিত নয়। যেহেতু রমাযানের সময়গুলো অত্যমত্ম মূল্যবান। তাই সে সময়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

৪. রাতে দেরিতে ঘুমানো :

অনেক মানুষ রয়েছে, যারা রমাযান মাসে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমায় না। অনেকে তারাবির নামাযের পরও গল্পগুজব করে অনেক সময় কাটিয়ে দেয়। যার ফলে রাতে তাদের ঘুম কম হয়। এজন্য তাদের আমলেও ব্যাঘাত ঘটে। তাই উচিত হলো, তারাবির নামাযের পর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া এবং শেষ রাতে উঠে তওবা-ইসেত্মগফার করা এবং সাহরী খাওয়া।

৫. সময় নষ্ট করা :

অনেক মানুষই সময়ের মূল্য দিতে জানে না। বিশেষ করে রমাযানের মতো এত মূল্যবান একটি মাসেও তারা সময়কে অবহেলায় কাটিয়ে দেয়। সামনের বছর এমন একটি ফযীলতপূর্ণ মাস জীবনে আর নাও আসতে পারে। তাই সময়কে অবহেলায় না কাটিয়ে নেক আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করার চেষ্টা করা সকলের কর্তব্য।

৬. বেশি খাওয়া দাওয়া করা :

রমাযান মাস হচ্ছে আত্মশুদ্ধির মাস। পেটকে ক্ষুধার্ত রেখে আত্মাকে উন্নত করার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের লক্ষে সিয়াম সাধনা করা উচিত। কিন্তু আমাদের সমাজে দেখা যায় যে, রমাযান মাসে খাওয়া-দাওয়ার ধুমধাম আরো বেড়ে যায়। ইফতারিতে কত আইটেম করা যাবে এ নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। আবার সাহরীর সময়ও অনেকে এত বেশি আহার করে যে, শরীর অলস হয়ে পড়ে। যার ফলে কাজকর্ম ও আমলে বিঘ্ন ঘটে। সুতরাং রমাযান মাসে পরিমিত আহার করা উচিত। যাতে করে রোযার উদ্দেশ্য সফল হয়।

৭. অযথা সফর করা :

রমাযান মাসটি হচ্ছে নেক আমল ও আত্মশুদ্ধির মাস। সুতরাং এ মাসে অযথা ভ্রমণ না করে সময়গুলোকে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যয় করা উচিত।

৮. পরিবারকে সালাতের জন্য না জাগানো :

রমাযান মাসে পরিবারের লোকজনকে সৎকর্মের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা উচিত। বিশেষ করে রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে ইবাদাত বন্দেগীতে কাটানো উচিত। নবী ﷺ এ সময় তার পরিবারকে রাত্রে জাগিয়ে দিতেন।

৯. গীবত করা :

অনেক মানুষ রয়েছে, যারা রমাযান মাসেও মানুষের গীবত করে। অথচ আল্লাহর নবী ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং মিথ্যা আমল ছাড়তে পারবে না তার রোযা রাখাতে কোন লাভ হবে না। সুতরাং সব সময় আমাদের উচিত গীবত, সমালোচনা, মিথ্যা ও চোগলখোরী থেকে নিজেদেরকে হেফাযত করা।

১০. গান শ্রবণ করা :

অনেক লোক এমনিতেই গান-বাজনা শুনতে অভ্যসত্ম। এমনকি তারা রমাযান মাসেও এসব পাপ কাজে লিপ্ত থাকে। সুতরাং তাদের উচিত হলো, এসব পাপ কাজ থেকে তওবা করে বাকি জীবন এরূপ কর্ম থেকে বেঁচে থাকা।

১১. দেরিতে ইফতার করা :

অনেক মানুষ সময় হওয়ার পর দেরিতে ইফতার করে থাকে। অথচ সূর্য ডুবার সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নাত।

১২. রমাযান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা :

সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত আছে, যেখানে বলা হয়েছে রমাযান মাসের প্রথম দশ দিন রহমতের, মাঝখানের দশ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ দশদিন নাজাতের। [ইবনে খুযায়মা, হা/১৮৮৭; শু‘আবুল ঈমান, হা/৩৬০৮; সিলসিলা যঈফাহ, হা/৮৭১; মিশকাত, হা/১৯৬৫। ইমাম আ‘যামী (রহ.) বলেন, হাদীসের সনদটি যঈফ।]

এ সংক্রামত্ম হাদীসটির সনদ সহীহ নয়। আর সত্যিকার অর্থে আল্লাহ তা‘আলার রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত সর্বদা উন্মুক্ত। যখনই কোন বান্দা তাঁর কাছে তওবা করে তিনি ইচ্ছা করলে তখনই তাকে মুক্তি দিতে পারেন। এজন্য আল্লাহ তা‘আলার এই অপূর্ব গুণাবলিসমূহকে কয়েকটি দিনে নির্দিষ্ট করে নেয়া উচিত নয়।