১
আলোচিত রাত-দিন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৯
শবে বরাতের নামায
সালাতুল আলফিয়া :
আলফ অর্থ হচ্ছে হাজার। সুতরাং সালাতুল আলফিয়া অর্থ হচ্ছে হাজারী সালাত। যেহেতু এ সালাতে সূরা ইখলাস এক হাজার বার তিলাওয়াত করা হয়, তাই এটাকে সালাতুল আলফিয়া বলা হয়।
এ সালাতের নিয়ম হচ্ছে, ১৪ই শাবান দিনের শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সূর্যাসেত্মর সাথে সাথে গোসল করে ১০০ রাকআত সালাত পড়া, যার প্রত্যেক রাকআতে ১০ বার করে সূরা ইখলাস পাঠ করতে হয়।
প্রকৃতপক্ষে কুরআন ও সহীহ সুন্নায় এ ধরনের কোন সালাতের কথা উল্লেখ নেই। কিছু আলেম শবে বরাতকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সালাতের প্রচলন করেছেন। তবে হকপন্থী আলেমগণ এর প্রতিবাদও জানিয়েছেন। এ সম্পর্কে মিরকাতের লেখক মোল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন,
وَاعْلَمْ أَنَّ الْمَذْكُوْرَةَ فِي اللَّاٰلِىْ أَنَّ مِائَةَ رَكْعَةٍ فِيْ نِصْفِ شَعْبَانَ بِالْاِخْلَاصِ عَشْرَ مَرَّاتٍ فِيْ كُلِّ رَكْعَةٍ مَعَ طُوْلِ فَضْلِه لِلدَّيْلَمِيِّ وَغَيْرِه مَوْضُوْعٌ ، وَفِيْ بَعْضِ الرَّسَائِلِ قَالَ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ وَمِمَّا أُحْدِثَ فِيْ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ اَلصَّلَاةُ الْألْفِيَّةُ مِائَةَ رَكْعَةٍ بِالْإِخْلَاصِ عَشْرًا عَشْرًا بِالْجَمَاعَةِ وَاهْتَمُّوْا بِهَا أَكْثَرَ مِنَ الْجُمَعِ وَالْأَعْيَادِ لَمْ يَأْتِ بِهَا خَبْرٌ وَلَا أَثَرٌ إِلَّا ضَعِيْفٌ أَوْ مَوْضُوْعٌ وَلَا تَغْتَرَّ بِذِكْرِ صَاحِبِ الْقُوْتِ وَالْأِحْيَاءِ وَغَيْرِهِمَا وَكَانَ لِلْعَوَامِّ بِهٰذِهِ الصَّلَاةِ اِفْتِتَانٌ عَظِيْمٌ حَتَّى الْتَزَمَ بِسَبَبِهَا كَثْرَةُ الْوَقِيْدِ وَتَرَتَّبَ عَلَيْهِ مِنَ الْفُسُوْقِ وَانْتَهَاكَ الْمُحَارِمُ مَا يُغْنِيْ عَنْ وَصْفِه ، وَأَوَّلُ حُدُوْثِ هٰذِهِ الصَّلَاةِ بِبَيْتِ الْمَقْدَسِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَّأَرْبَعِيْنَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ قَالَ قَدْ جَعَلَهَا جَهَلَةُ أَئِمَّةِ الْمَسَاجِدِ مَعَ صَلَاةٍ لِرَغَائِبَ وَنَحْوِهِمَا شَبَكَةً لِجَمْعِ الْعَوَامِّ وَطَلَبًا لِرِيَاسَةِ التَّقَدُّمِ وَتَحْصِيْلِ الْحِطَامِ
তুমি জেনে রেখো! ‘লাআ-লী’ নামক পুসত্মকে উল্লেখিত মধ্য শাবানের রাতে ১০০ রাকআত নামাযে প্রত্যেক রাকআতে ১০ বার করে সূরা ইখলাছ পাঠসহ লম্বা করে পাঠের বর্ণনা বানোয়াট।
কিছু পুসত্মকে উল্লেখ আছে যে, আলী ইবনে ইবরাহীম বলেন, মধ্য শাবানের রাতে কৃত বিদআতসমূহের অন্যতম হচ্ছে সালাতে আলফিয়ার ১০০ রাকআত সালাত। যার প্রত্যেক রাকআতে ১০ বার করে সূরা ইখলাস পাঠপূর্বক জামা‘আতের সাথে পড়া হয় এবং এটিকে জুমু‘আ ও দু’ঈদের নামাযের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। কিছু দুর্বল বা বানোয়াট বর্ণনা ছাড়া এতদ্বসংক্রামত্ম কোন হাদীস অথবা আছার (সাহাবীর বিবরণ) আসেনি। আর এ হাদীসগুলো ইহইয়াউল উলূম এবং কিতাবুল কুত ও অন্য কোন কিতাবে বর্ণিত হওয়ার কারণে তুমি প্রতারিত হবে না। সাধারণ জনগণ এই সালাতকে কেন্দ্র করে বিরাট ফেতনায় পতিত হয়েছে এবং বাধ্যতামূলকভাবে আহারের ব্যবস্থা করেছে, যাতে নানা ধরণের অন্যায় কাজ সংঘটিত হয় এবং শরীয়তের বিধান লঙ্ঘন হয়- যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
৪৪৮ হিজরী সনে বায়তুল মুকাদ্দাসে সর্বপ্রথম এ বিদআত আবিষ্কৃত হয়। অন্যান্য নামাযের সাথে যুক্ত করে জনগণকে একত্রিত করার ফন্দি হিসেবে মসজিদের জাহিল ও অজ্ঞ ইমামগণ এর প্রবর্তন করে। এর দ্বারা ইমামগণের নেতৃত্ব ও উদরপূর্তি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। [মিরকাত, ৪/৪৪৬ পৃঃ।]
আলফ অর্থ হচ্ছে হাজার। সুতরাং সালাতুল আলফিয়া অর্থ হচ্ছে হাজারী সালাত। যেহেতু এ সালাতে সূরা ইখলাস এক হাজার বার তিলাওয়াত করা হয়, তাই এটাকে সালাতুল আলফিয়া বলা হয়।
এ সালাতের নিয়ম হচ্ছে, ১৪ই শাবান দিনের শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সূর্যাসেত্মর সাথে সাথে গোসল করে ১০০ রাকআত সালাত পড়া, যার প্রত্যেক রাকআতে ১০ বার করে সূরা ইখলাস পাঠ করতে হয়।
প্রকৃতপক্ষে কুরআন ও সহীহ সুন্নায় এ ধরনের কোন সালাতের কথা উল্লেখ নেই। কিছু আলেম শবে বরাতকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সালাতের প্রচলন করেছেন। তবে হকপন্থী আলেমগণ এর প্রতিবাদও জানিয়েছেন। এ সম্পর্কে মিরকাতের লেখক মোল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন,
وَاعْلَمْ أَنَّ الْمَذْكُوْرَةَ فِي اللَّاٰلِىْ أَنَّ مِائَةَ رَكْعَةٍ فِيْ نِصْفِ شَعْبَانَ بِالْاِخْلَاصِ عَشْرَ مَرَّاتٍ فِيْ كُلِّ رَكْعَةٍ مَعَ طُوْلِ فَضْلِه لِلدَّيْلَمِيِّ وَغَيْرِه مَوْضُوْعٌ ، وَفِيْ بَعْضِ الرَّسَائِلِ قَالَ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ وَمِمَّا أُحْدِثَ فِيْ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ اَلصَّلَاةُ الْألْفِيَّةُ مِائَةَ رَكْعَةٍ بِالْإِخْلَاصِ عَشْرًا عَشْرًا بِالْجَمَاعَةِ وَاهْتَمُّوْا بِهَا أَكْثَرَ مِنَ الْجُمَعِ وَالْأَعْيَادِ لَمْ يَأْتِ بِهَا خَبْرٌ وَلَا أَثَرٌ إِلَّا ضَعِيْفٌ أَوْ مَوْضُوْعٌ وَلَا تَغْتَرَّ بِذِكْرِ صَاحِبِ الْقُوْتِ وَالْأِحْيَاءِ وَغَيْرِهِمَا وَكَانَ لِلْعَوَامِّ بِهٰذِهِ الصَّلَاةِ اِفْتِتَانٌ عَظِيْمٌ حَتَّى الْتَزَمَ بِسَبَبِهَا كَثْرَةُ الْوَقِيْدِ وَتَرَتَّبَ عَلَيْهِ مِنَ الْفُسُوْقِ وَانْتَهَاكَ الْمُحَارِمُ مَا يُغْنِيْ عَنْ وَصْفِه ، وَأَوَّلُ حُدُوْثِ هٰذِهِ الصَّلَاةِ بِبَيْتِ الْمَقْدَسِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَّأَرْبَعِيْنَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ قَالَ قَدْ جَعَلَهَا جَهَلَةُ أَئِمَّةِ الْمَسَاجِدِ مَعَ صَلَاةٍ لِرَغَائِبَ وَنَحْوِهِمَا شَبَكَةً لِجَمْعِ الْعَوَامِّ وَطَلَبًا لِرِيَاسَةِ التَّقَدُّمِ وَتَحْصِيْلِ الْحِطَامِ
তুমি জেনে রেখো! ‘লাআ-লী’ নামক পুসত্মকে উল্লেখিত মধ্য শাবানের রাতে ১০০ রাকআত নামাযে প্রত্যেক রাকআতে ১০ বার করে সূরা ইখলাছ পাঠসহ লম্বা করে পাঠের বর্ণনা বানোয়াট।
কিছু পুসত্মকে উল্লেখ আছে যে, আলী ইবনে ইবরাহীম বলেন, মধ্য শাবানের রাতে কৃত বিদআতসমূহের অন্যতম হচ্ছে সালাতে আলফিয়ার ১০০ রাকআত সালাত। যার প্রত্যেক রাকআতে ১০ বার করে সূরা ইখলাস পাঠপূর্বক জামা‘আতের সাথে পড়া হয় এবং এটিকে জুমু‘আ ও দু’ঈদের নামাযের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। কিছু দুর্বল বা বানোয়াট বর্ণনা ছাড়া এতদ্বসংক্রামত্ম কোন হাদীস অথবা আছার (সাহাবীর বিবরণ) আসেনি। আর এ হাদীসগুলো ইহইয়াউল উলূম এবং কিতাবুল কুত ও অন্য কোন কিতাবে বর্ণিত হওয়ার কারণে তুমি প্রতারিত হবে না। সাধারণ জনগণ এই সালাতকে কেন্দ্র করে বিরাট ফেতনায় পতিত হয়েছে এবং বাধ্যতামূলকভাবে আহারের ব্যবস্থা করেছে, যাতে নানা ধরণের অন্যায় কাজ সংঘটিত হয় এবং শরীয়তের বিধান লঙ্ঘন হয়- যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
৪৪৮ হিজরী সনে বায়তুল মুকাদ্দাসে সর্বপ্রথম এ বিদআত আবিষ্কৃত হয়। অন্যান্য নামাযের সাথে যুক্ত করে জনগণকে একত্রিত করার ফন্দি হিসেবে মসজিদের জাহিল ও অজ্ঞ ইমামগণ এর প্রবর্তন করে। এর দ্বারা ইমামগণের নেতৃত্ব ও উদরপূর্তি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। [মিরকাত, ৪/৪৪৬ পৃঃ।]