hadith book logo

আলোচিত রাত-দিন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

ইবাদাত কবুলের শর্ত

আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সবকিছুই তাঁর ইবাদাত করে থাকে। আর প্রত্যেকের ইবাদাতের পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন। সুতরাং ইবাদাত করা প্রত্যেকটি মানুষের উপর আবশ্যক। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যদি এ শর্ত থেকে কোন একটি ভঙ্গ করা হয়, তাহলে কারো ইবাদাত গ্রহণযোগ্য হবে না। সেগুলো হলো :

১. ঈমান :

মুমিন ছাড়া অন্য কারো সৎকর্ম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যক্তি যতই সৎকর্ম করুক না কেন যদি তার মধ্যে সঠিক ঈমান না থাকে, তবে তার সকল আমল বরবাদ হয়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَنْ يَّكْفُرْ بِالْاِيْمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهٗؗ وَهُوَ فِى الْاٰخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ﴾

আর যে ব্যক্তি ঈমান প্রত্যাখ্যান করবে, তার কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা মায়েদা- ৫)

২. ইখলাস :

ইখলাস হচ্ছে, সকল ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা এবং তা কেবল আল্লাহর জন্যই নিবেদন করা, আল্লাহর দাসত্বের সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা। কারণ নির্ভেজাল আনুগত্য পাওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَاۤ اُمِرُوْاۤ اِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ ۚ حُنَفَآءَ وَيُقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَۚ وَذٰلِكَ دِيْنُ الْقَيِّمَةِ﴾

তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই করা হয়েছে যে, তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে, সালাত কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। আর এটাই সঠিক ধর্ম। (সূরা বায়্যিনাহ- ৫)

অপর আয়াতে তিনি বলেন,

﴿فَمَنْ كَانَ يَرْجُوْا لِقَآءَ رَبِّهٖ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَّلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهٖۤ اَحَدًا﴾

যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে ও তার প্রতিপালকের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে। (সূরা কাহফ- ১১০)

আর হাদীসে এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - : مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللهُ بِهٖ وَمَنْ رَاءٰى رَاءَى اللهُ بِهٖ

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি তার কৃতকর্মের সুনামের জন্য লোকসমাজে তা ইচ্ছাপূর্বক প্রচার করে বেড়ায়, আল্লাহ তা‘আলাও (কিয়ামতের দিন) তার কৃতকর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্যের কথা লোকদেরকে জানিয়ে দেবেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ও প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্যে কোন সৎকাজ করবে, আল্লাহও (কিয়ামতের দিন) তার প্রকৃত উদ্দেশ্যের কথা লোকদের মাঝে প্রকাশ করে দেবেন। [সহীহ মুসলিম, হা/৭৬৬৭; সুনানুল কুবরা, হা/১১৬৩৬।]

৩. নবী ﷺ এর সুন্নাতের অনুসরণ করা :

যেকোন আমল অবশ্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত অনুযায়ী হতে হবে। তিনি যে আমলটি যখন যেভাবে করেছেন আমাদেরকেও সে আমলটি হুবহু সেভাবেই করতে হবে। এতে কোনরূপ কম-বেশি করা যাবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ ؕ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ﴾

বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ করো, ফলে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

(সূরা আলে ইমরান- ৩১)

এ আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর ভালোবাসা পাওয়াকে নবী ﷺ এর আনুগত্যের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালোবাসবে, আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করবে এবং জান্নাতে যেতে চাইবে তাকে অবশ্যই নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর সুন্নাতের অনুসরণ করতে হবে।

নবী ﷺ এর সুন্নাতের অনুসরণ না করলে আমল বাতিল হয়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اَطِيْعُوا اللهَ وَاَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ وَلَا تُبْطِلُوْاۤ اَعْمَالَكُمْ﴾

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো ও রাসূলের আনুগত্য করো। আর তোমরা তোমাদের আমলগুলো বিনষ্ট করো না।

(সূরা মুহাম্মাদ- ৩৩)

এ আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী বুঝা যায় যে, আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলুল্লাহ ﷺ এর তরীকা বা সুন্নাহ অনুযায়ী।