hadith book logo

আলোচিত রাত-দিন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬১

শাওয়াল মাস ঈদের দিন

عِيْدٌ (ঈদ) শব্দটি عَوْدٌ (আওদুন) শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে, বার বার ফিরে আসা। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার এ দু’টি দিন প্রতি বছর একবার করে ফিরে আসে বিধায় এ দু’টি দিনকে ঈদের দিন বলা হয়েছে। তাছাড়া ঈদের অন্য অর্থ হচ্ছে, আনন্দ, উৎসব ইত্যাদি। মুসলিম সমাজ এ দু’টি দিনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে এবং আনন্দ করে, তাই এ দিনগুলোকে ঈদের দিন বলা হয়।

মুসলিমদের ঈদ হলো দু’দিন :

মুসলিমদের ঈদ হলো দু’দিন। সুতরাং ঈদে মীলাদুন নবী বা অন্য কোন নামে আরো ঈদ প্রচলন করা নিঃসন্দেহে বিদআত, যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

ঈদের প্রবর্তন :

মহানবী ﷺ মদিনায় হিজরত করার পর দ্বিতীয় হিজরীর শাওয়াল মাসে প্রথম ঈদের সালাত আদায় করেন। নবী ﷺ বলেছেন,

يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيْدًا وَهٰذَا عِيْدُنَا

হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতিরই আনন্দোৎসব রয়েছে। আর আমাদের আনন্দোৎসব হচ্ছে এটা (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা)। [সহীহ বুখারী, হা/৯৫২; সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৮৯৮; মিশকাত, হা/১৪৩২।]

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ মদিনায় এলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীদের দুটি উৎসব ছিল, যাতে তারা আনন্দ করত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদেরকে প্রশ্ন করেন, এই দু’দিনে তোমরা কী কর? তারা বলল, আমরা ইসলাম আগমনের পূর্বে এ দু’দিন আনন্দোৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহ তা‘আলা ওগুলোর পরিবর্তে আরো উত্তম কিছু দান করেছেন। একটি হলো রোযা ভাঙ্গার আনন্দের দিন ‘‘ঈদুল ফিতর’’ এবং অপরটি হলো কুরবানীর দিন ‘‘ঈদুল আযহা’’। [নাসাঈ, হা/১৫৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৮৫০; বায়হাকী, হা/৫৯১৮।]

মদিনাবাসীগণ শুধু খেলাধুলা ও আমোদ-ফূর্তির জন্য যে দুটি দিন নির্ধারণ করে নিয়েছিল, আল্লাহ তা‘আলা তা পরিবর্তন করে এমন দুটি দিন দান করলেন যে দিন দুটিতে আল্লাহর শুকরিয়া, তাঁর যিকির ও তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার সাথে সাথে শালীন আমোদ-ফূর্তি, সাজ-সজ্জা ও খাওয়া-দাওয়া করা হয়।