hadith book logo

আলোচিত রাত-দিন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৫

শবে বরাতের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

কুরআন ও সহীহ হাদীসসমূহে শবে বরাত নামে পৃথক কোন ইবাদাতের কথা উল্লেখ নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দীর্ঘ ২৩ বছরের নবুওয়াতী জীবনে, এমনকি সাহাবীদের যুগেও এ ধরনের কোন দিবস পালনের কথা প্রমাণ পাওয়া যায় না। এটি সর্বপ্রথম চালু হয়েছিল ৪৪৮ হিজরীতে মসজিদে আকসায়। তৎকালীন কিছু দুনিয়ালোভী ইমাম শবে বরাতের এই রীতি তাদের মসজিদগুলোতে চালু করে। উদ্দেশ্য ছিল মসজিদে বেশি লোক উপস্থিত করে নিজেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা। এ উদ্দেশ্যে তারা উক্ত রাতে উপস্থিত লোকদের সামনে অনেক ফযীলতপূর্ণ ওয়াজ ও জাল-যঈফ হাদীস উপস্থাপন করতে থাকে। ফলে অনেক অজ্ঞ লোক সেসব ওয়াজ শোনার জন্য মসজিদগুলোতে ভিড় জমাতে থাকে। অতঃপর ধীরে ধীরে এর সাথে আরো অনেক ধরনের বিদআতী আমল সংযুক্ত হতে থাকে।

তাছাড়া সে সময়ের বাদশাহ ছিলেন ধর্মের ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। তিনি সর্বদা ঐসব ইমামদেরকে কাছে রাখতেন, যারা সাধারণত মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। আর যেহেতু শবে বরাতের মাধ্যমে ইমামদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেত, তাই দুনিয়াপূজারী সেসব ইমাম নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণের জন্য এ পথটিই বেছে নেয়। আর বাদশার সমর্থন থাকায় বিষয়টি আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

এদিকে সে যুগের হকপন্থী আলেমগণ এ নতুন বিদআতের বিরুদ্ধে নিজেদের সাধ্যানুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। আবার অনেকে আল্লাহর আযাবের ভয়ে জঙ্গলে পলায়ন করেন। কিন্তু অজ্ঞ লোকেরা হকপন্থী আলেমদের কথা না শুনে বিদআতীদের অনুসরণ করতে থাকে।

অবশেষে এ বিদআতটি ৩৫২ বছর চালু থাকে। তারপর তা জেরুজালেম, সিরিয়া, মিশর, ইরাকসহ প্রায় সকল দেশেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু অজ্ঞাতভাবে ইরানের কিছু অঞ্চলে তা চালু থাকে। তারপর যখন ভারতবর্ষ মুসলিমদের কাছে চলে আসে, তখন যেকোনভাবেই হোক ভারতীয় কিছু নওমুসলিম তা গ্রহণ করে। যেহেতু ইতিপূর্বে তাদের পূর্বপুরুষরা ছিল হিন্দু এবং শবে বরাতটিও ছিল হিন্দুদের দীপালী পূজার অনুরূপ, সুতরাং তারা এটিকে খুব সহজেই গ্রহণ করে নেয়। তারপর ধীরে ধীরে তা ভারতবর্ষের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি সেটি আজ পর্যমত্ম কেবল এখানেই চালু আছে। [মিরকাত, ৪/৪৪৬-৪৭।]