১
ইতিহাসের ইতিহাস
লেখকঃ গোলাম আহমাদ মোর্তজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
প্রথম অধ্যায় ‘ইতিহাস’-এর শব্দ সমীক্ষা
আমরা জানি ইতিহাস অতীতের ঘটনাবলিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আমাদের কাছে মূর্তিমান হয়ে চির জীবন্তের অভিনয় করে চলে। আমাদের জ্ঞান, বুদ্ধি ও চিন্তা ধারার উৎকর্ষ সাধন করে। এক কথায় ইতিহাস আমাদের যাত্রা পথের পাথেয় প্রদানে দৃষ্টান্তবিহীন সামগ্রী সম্ভার। এর অভাবে আমাদের সবই যেন অচল। বরণীয়, মাননীয়, স্মরণীয় সুধীবৃন্দের কথা আমরা বিস্মৃত হব আর পুরাতন অভিজ্ঞতার অভাবে আমাদের হতে হবে শোচনীয়ভাবে সর্বস্বান্ত ও বিভ্রান্তি।
ইতিহাসের নাম বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন রূপ। যেমন বাংলায় ‘ইতিহাস’, ইংরাজিতে ‘History’ (হিষ্ট্রি), আরবীতে ‘তা-রিখ’, উর্দুতে ‘তা-রিখ’, হিন্দিতে ‘ইতিহাস’ প্রভৃতি।
ইংরাজিতে 'H' অর্থে ‘তার’ Hi' (হাই) অর্থে ‘এই’ (word calling), ‘His’ অর্থে তার (Possessive form of he), 'Story' অর্থে ‘ইতি কথা’, ‘বানানো গল্প’, Tale (an account of past event)। তাহলে His+Story=History. এবার যদি কেউ প্রতিবাদের সুর তুলে বলেন যে, History-এর বানান Hisstory হল না কেন? তাহলে প্রত্যুত্তরে বলতে হয়, Hiss মানে বিষাক্ত সাপের হিস হিস শব্দ (Sharp sound that of a snake). আর যদি "His+tory" রূপে সন্ধি বিচ্ছেদ করা হয় তাহলেও কম মারাত্মক হবে না। 'tory' মানে A conseauative Member of England, ইংলন্ডের রক্ষণশীল দলের সভ্য, (বিলেতের সংকীর্ণমনা সাম্প্রদায়িক দলীয় স্বার্থপর একটি অতি গোড়া দল)।
তাহলে 'History' কথাটি বহু তথ্যপূর্ণ সন্দেহ নেই। আমাদের রাষ্ট্র ভাষা হিন্দি এবং বাংলাতেও ‘ইতিহাস’ কথাটি নিরর্থক নয়। ইতিহাসের ‘ই’ বাংলা বর্ণমালার তৃতীয় অক্ষর; ‘ই’ মানে কামদেব (ঠাকুর দেবতা), ‘ইত’ মানে ‘গত’, ‘ইতি’ মানে ‘এই’, ‘ইতিহ’ মানে লোক পরম্পরাক্রমে প্রচলিত কথা’ (সত্য বা অসত্য যাই হোক), ‘হাস’ মানে ‘হাস্য করা’, ‘ইতিহাস’ মানে ‘পুরাতন কথা’, এখানেও নিরপেক্ষ তাথ্যিক বিচারে আমরা ইতিহাসের অর্থ পাই কামদেব, গত, খতম করা, অর্থশূন্যতা কিংবদন্তী বা লোক কথা, পুরাতন কথা, হাসি, তামাসা ইত্যাদি।
বর্তমান সভ্যতার ইতিহাস মঞ্চে সঠিক তারিখ ও সাক্ষী-প্রমাণ থাকলে তাকেই বলে ‘ইতিহাস’, নচেৎ তা রূপকথা, ভূত, রাক্ষস প্রভৃতি পুরান পচা কাসুন্দির ন্যায় মন মাতানো গল্প বই কিছু নয়। আরবী ও উর্দুতে ইতিহাস অর্থে তারিখ যে শব্দটি এটি আমাদের বাংলা ভাষায় সর্বজন ব্যবহৃত শব্দ। অতএব দিনপঞ্জি, তারিখ, কাল, সময় প্রভৃতি সম্বন্ধে সমীক্ষান্তে আরবদেরও ইতিহাসের চরিত্র সহজেই অনুমেয়।
পৃথিবীতে বহু জাতি, বহু ভাষা, বহু ধর্ম ও মত থাকলেও ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অবদান সকলেরই নেই। আমাদের ভারতের ইতিহাস জানতে হলেও ভারতীয় ভাষায় ইতিহাস পাওয়া যায় বটে কিন্তু তাতে Reference বা উদ্ধৃতি যা পাওয়া যাবে তা বেশির ভাগ ইংরেজি। আর বাংলা ও ইংরেজি ইতিহাস পড়লে পাওয়া যাবে সেইসব ইতিহাসের উদ্ধৃতি-ঐতিহাসিকদের মন্তব্য যা আরবী, ফারসি, উর্দু প্রভৃতি ভাষাকেন্দ্রিক। এই গোড়ার কথাগুলো না জানলে আমরা বক্ষ্যমাণ স্রোতঃস্বতীর আলোচনা স্রোতে সাঁতার দিয়েও পাব না পর্যাপ্ত তৃপ্তি আর আনন্দের অকৃত্রিম স্বাদ।
ইতিহাসের নাম বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন রূপ। যেমন বাংলায় ‘ইতিহাস’, ইংরাজিতে ‘History’ (হিষ্ট্রি), আরবীতে ‘তা-রিখ’, উর্দুতে ‘তা-রিখ’, হিন্দিতে ‘ইতিহাস’ প্রভৃতি।
ইংরাজিতে 'H' অর্থে ‘তার’ Hi' (হাই) অর্থে ‘এই’ (word calling), ‘His’ অর্থে তার (Possessive form of he), 'Story' অর্থে ‘ইতি কথা’, ‘বানানো গল্প’, Tale (an account of past event)। তাহলে His+Story=History. এবার যদি কেউ প্রতিবাদের সুর তুলে বলেন যে, History-এর বানান Hisstory হল না কেন? তাহলে প্রত্যুত্তরে বলতে হয়, Hiss মানে বিষাক্ত সাপের হিস হিস শব্দ (Sharp sound that of a snake). আর যদি "His+tory" রূপে সন্ধি বিচ্ছেদ করা হয় তাহলেও কম মারাত্মক হবে না। 'tory' মানে A conseauative Member of England, ইংলন্ডের রক্ষণশীল দলের সভ্য, (বিলেতের সংকীর্ণমনা সাম্প্রদায়িক দলীয় স্বার্থপর একটি অতি গোড়া দল)।
তাহলে 'History' কথাটি বহু তথ্যপূর্ণ সন্দেহ নেই। আমাদের রাষ্ট্র ভাষা হিন্দি এবং বাংলাতেও ‘ইতিহাস’ কথাটি নিরর্থক নয়। ইতিহাসের ‘ই’ বাংলা বর্ণমালার তৃতীয় অক্ষর; ‘ই’ মানে কামদেব (ঠাকুর দেবতা), ‘ইত’ মানে ‘গত’, ‘ইতি’ মানে ‘এই’, ‘ইতিহ’ মানে লোক পরম্পরাক্রমে প্রচলিত কথা’ (সত্য বা অসত্য যাই হোক), ‘হাস’ মানে ‘হাস্য করা’, ‘ইতিহাস’ মানে ‘পুরাতন কথা’, এখানেও নিরপেক্ষ তাথ্যিক বিচারে আমরা ইতিহাসের অর্থ পাই কামদেব, গত, খতম করা, অর্থশূন্যতা কিংবদন্তী বা লোক কথা, পুরাতন কথা, হাসি, তামাসা ইত্যাদি।
বর্তমান সভ্যতার ইতিহাস মঞ্চে সঠিক তারিখ ও সাক্ষী-প্রমাণ থাকলে তাকেই বলে ‘ইতিহাস’, নচেৎ তা রূপকথা, ভূত, রাক্ষস প্রভৃতি পুরান পচা কাসুন্দির ন্যায় মন মাতানো গল্প বই কিছু নয়। আরবী ও উর্দুতে ইতিহাস অর্থে তারিখ যে শব্দটি এটি আমাদের বাংলা ভাষায় সর্বজন ব্যবহৃত শব্দ। অতএব দিনপঞ্জি, তারিখ, কাল, সময় প্রভৃতি সম্বন্ধে সমীক্ষান্তে আরবদেরও ইতিহাসের চরিত্র সহজেই অনুমেয়।
পৃথিবীতে বহু জাতি, বহু ভাষা, বহু ধর্ম ও মত থাকলেও ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অবদান সকলেরই নেই। আমাদের ভারতের ইতিহাস জানতে হলেও ভারতীয় ভাষায় ইতিহাস পাওয়া যায় বটে কিন্তু তাতে Reference বা উদ্ধৃতি যা পাওয়া যাবে তা বেশির ভাগ ইংরেজি। আর বাংলা ও ইংরেজি ইতিহাস পড়লে পাওয়া যাবে সেইসব ইতিহাসের উদ্ধৃতি-ঐতিহাসিকদের মন্তব্য যা আরবী, ফারসি, উর্দু প্রভৃতি ভাষাকেন্দ্রিক। এই গোড়ার কথাগুলো না জানলে আমরা বক্ষ্যমাণ স্রোতঃস্বতীর আলোচনা স্রোতে সাঁতার দিয়েও পাব না পর্যাপ্ত তৃপ্তি আর আনন্দের অকৃত্রিম স্বাদ।