১
ইতিহাসের ইতিহাস
লেখকঃ গোলাম আহমাদ মোর্তজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৯
মিঃ মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ
মিঃ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ খৃস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কংগ্রেসের একজন বিশিষ্ট ব্যারিস্টার ও নেতা ছিলেন। পনের বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়। লণ্ডনে পড়ার সময়েই তাঁর স্ত্রী মারা যান। গান্ধীজিও মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ে করেন।
১৯২০ সালে নাগপুর কংগ্রেস জিন্নাহর সঙ্গে গান্ধীর মতান্তর হয়। “তিনি অহিংসা অসহযোগে নীতি সমর্থন না করে বললেন আইনসঙ্গত উপায়ে স্বাধীনতার জন্যে সংগ্রাম।” সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের সভ্যরা প্রতিবাদ ও বিদ্রুপে তাঁকে উপেক্ষা করেন। সভায় বিশিষ্ট একজন কংগ্রেসী বললেন, “মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।” গান্ধীজি নিষ্ঠুর ব্যঙ্গ বিদ্রুপ উপভোগ করলেন কোন প্রতিবাদ করলেন না। মিঃ জিন্নাহ ক্ষোভে দুঃখে কংগ্রেস ছাড়লেন। তিনি বুঝলেন যে গান্ধীজি থাকতে তিনি কোন দিনই হিন্দু কংগ্রেসে প্রাধান্য পাবেন না।”
জিন্নাহ সম্বন্ধে আগেই বলা হয়েছে তার দেশ প্রেমাপেক্ষা কিসের প্রেম বেশি? তবে একথা দিবালোকের মত সত্যি যে, জিন্নাহকে যদি উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া যেত অথবা অন্তত মুসলমান হিসেবে ঘৃণা ও অপমাণিত না করা হতো তাহলে তিনি পূর্বের মত কংগ্রেসের ভ্রান্ত পথের গোলামি করতে কসুর করতেন না। জিন্নাহ দেশ ভাগ করে পাকিস্তান সৃষ্টি করে সারা ভারতের যে চরম ক্ষতি করেছেন তাও যেমন সত্য গান্ধীর অবিচার, পক্ষপাতিত্ব, অদূরদর্শিতা ‘মামার জয়’ বলারও সমর্থন করার নীতিও ততই ক্ষতি করেছে। জিন্নাহ ইসলাম ইসলাম করে চিৎকার করলেও সেটা ছিল প্রহসন আর অভিনয় মাত্র।
কথায় তিনি ইসলামের এজেন্ট মনে হলেও কাজে তিনি পুরোপুরি সাহেব ও সাহেবদেরই গোলামি করেছেন। ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস “হঠাৎ নেতার দল” বেশির ভাগই যে প্রশংসা পেয়েছেন তা প্রায় সবই ভঁওতাবাজি। কারণ মস্ত বড় একটা সত্য হজম করা হয়েছে ইতিহাসের পাতায়। সেটা হচ্ছে এই মূলতঃ হিন্দুদের কংগ্রেস ও মুসলমানদের মুসলিম লীগ লড়াই করেছে সত্য কিন্তু ইংরেজের সঙ্গে নয়, লড়াইটা হিন্দু ও মুসলমানে। আর মীমাংসা বিচার করতে উভয়েই গোলামি করেছেন ইংরেজের দরবারে। আর তারাই ক্রীতদাসের খাদ্য ও পোশাক বণ্টনের মত ভাগ বণ্টন করে দিয়ে গেছেন। জিন্নাহকে প্রত্যেক বিষয়ে কোণঠাসা করে রাখার প্রবণতা গান্ধীর যে কেন ছিল তার অন্যতম কারণ তারা উভয়ে একই বংশের লোক, একই রক্তে জন্ম।
প্রমাণে বলা যায় যে, “মিঃ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ও শ্রী মোহনদাস করম চাঁদ গান্ধীর পিতামহ ছিলেন কাথিয়াডের এক সম্প্রদায়ভুক্ত গুজরাটী হিন্দু। কোন বিশেষ কারণে মিঃ জিন্নাহর পিতা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে করাচীতে বসবাস করেন।” (দ্রঃ অবিস্মরণীয়, ২ খণ্ড, পৃঃ ৫, শ্রী গঙ্গা নারায়ণ) এই গ্রন্থে পূর্বে আরও প্রমাণিত হয়েছে হিন্দু হতে যারা মুসলমান হয়েছেন সেই নতুন মুসলমানরা পুরাতন মুসলমানদের অপেক্ষা অত্যন্ত গোঁড়া এবং হিন্দুবিদ্বেষী।
১৯২০ সালে নাগপুর কংগ্রেস জিন্নাহর সঙ্গে গান্ধীর মতান্তর হয়। “তিনি অহিংসা অসহযোগে নীতি সমর্থন না করে বললেন আইনসঙ্গত উপায়ে স্বাধীনতার জন্যে সংগ্রাম।” সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের সভ্যরা প্রতিবাদ ও বিদ্রুপে তাঁকে উপেক্ষা করেন। সভায় বিশিষ্ট একজন কংগ্রেসী বললেন, “মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।” গান্ধীজি নিষ্ঠুর ব্যঙ্গ বিদ্রুপ উপভোগ করলেন কোন প্রতিবাদ করলেন না। মিঃ জিন্নাহ ক্ষোভে দুঃখে কংগ্রেস ছাড়লেন। তিনি বুঝলেন যে গান্ধীজি থাকতে তিনি কোন দিনই হিন্দু কংগ্রেসে প্রাধান্য পাবেন না।”
জিন্নাহ সম্বন্ধে আগেই বলা হয়েছে তার দেশ প্রেমাপেক্ষা কিসের প্রেম বেশি? তবে একথা দিবালোকের মত সত্যি যে, জিন্নাহকে যদি উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া যেত অথবা অন্তত মুসলমান হিসেবে ঘৃণা ও অপমাণিত না করা হতো তাহলে তিনি পূর্বের মত কংগ্রেসের ভ্রান্ত পথের গোলামি করতে কসুর করতেন না। জিন্নাহ দেশ ভাগ করে পাকিস্তান সৃষ্টি করে সারা ভারতের যে চরম ক্ষতি করেছেন তাও যেমন সত্য গান্ধীর অবিচার, পক্ষপাতিত্ব, অদূরদর্শিতা ‘মামার জয়’ বলারও সমর্থন করার নীতিও ততই ক্ষতি করেছে। জিন্নাহ ইসলাম ইসলাম করে চিৎকার করলেও সেটা ছিল প্রহসন আর অভিনয় মাত্র।
কথায় তিনি ইসলামের এজেন্ট মনে হলেও কাজে তিনি পুরোপুরি সাহেব ও সাহেবদেরই গোলামি করেছেন। ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস “হঠাৎ নেতার দল” বেশির ভাগই যে প্রশংসা পেয়েছেন তা প্রায় সবই ভঁওতাবাজি। কারণ মস্ত বড় একটা সত্য হজম করা হয়েছে ইতিহাসের পাতায়। সেটা হচ্ছে এই মূলতঃ হিন্দুদের কংগ্রেস ও মুসলমানদের মুসলিম লীগ লড়াই করেছে সত্য কিন্তু ইংরেজের সঙ্গে নয়, লড়াইটা হিন্দু ও মুসলমানে। আর মীমাংসা বিচার করতে উভয়েই গোলামি করেছেন ইংরেজের দরবারে। আর তারাই ক্রীতদাসের খাদ্য ও পোশাক বণ্টনের মত ভাগ বণ্টন করে দিয়ে গেছেন। জিন্নাহকে প্রত্যেক বিষয়ে কোণঠাসা করে রাখার প্রবণতা গান্ধীর যে কেন ছিল তার অন্যতম কারণ তারা উভয়ে একই বংশের লোক, একই রক্তে জন্ম।
প্রমাণে বলা যায় যে, “মিঃ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ও শ্রী মোহনদাস করম চাঁদ গান্ধীর পিতামহ ছিলেন কাথিয়াডের এক সম্প্রদায়ভুক্ত গুজরাটী হিন্দু। কোন বিশেষ কারণে মিঃ জিন্নাহর পিতা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে করাচীতে বসবাস করেন।” (দ্রঃ অবিস্মরণীয়, ২ খণ্ড, পৃঃ ৫, শ্রী গঙ্গা নারায়ণ) এই গ্রন্থে পূর্বে আরও প্রমাণিত হয়েছে হিন্দু হতে যারা মুসলমান হয়েছেন সেই নতুন মুসলমানরা পুরাতন মুসলমানদের অপেক্ষা অত্যন্ত গোঁড়া এবং হিন্দুবিদ্বেষী।