১
ইতিহাসের ইতিহাস
লেখকঃ গোলাম আহমাদ মোর্তজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৩
স্যার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী
১৮৪৮ খৃষ্টাব্দে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯২৫ সালে মারা যান। তার পিতা ছিলেন ডেভিড হেয়ারের ছাত্র ও শিষ্য। ডিরোজিওর মৃত্যুর পর তার সব দায়িত্ব তিনিই নিয়েছিলেন। সুরেন্দ্রনাথকে ইংরেজরা বিলেত হতে আই, সি, এস পাস করিয়ে শ্রীহট্টের ম্যাজিষ্ট্রেট করে দেন। পরে একটি মিথ্যা মামলায় তার চাকরি চলে যায়। তিনি বিলেতে গিয়ে আবেদন করেও ব্যর্থ হন। দেশে এসে নিজেই একটা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং কয়েক বছর পর হয়ে বড় লাট লর্ড রিপনের নামে কলেজ পরিণত করেন। কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার দশ বর আগে হতে তিনি রাজনীতিতে নামেন।
কংগ্রেসের জন্মদাতা ছিলেন মিঃ হিউম। ১৮৯৫ ও ১৯০২ খৃষ্টাব্দে পুনা আহমদাবাদে কংগ্রেস অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন স্যার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী। তার স্যার উপাধির বিবরণ দেওয়ার বিষয়ে বিরক্তিবোধ হচ্ছে। ঐ সময় রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিম তাকে স্বাগতম জানান এবং রবীন্দ্রনাথ তাকে মানার জন্য দেশবাসীকে আবেদন জানান। (দ্রঃ ১৩১৩ বঙ্গাব্দের রবীন্দ্রনাথের ‘দেশ নায়ক প্রবন্ধ)
সবচেয়ে ভাববার কথা, “রাজদ্রোহ দমনের উদ্দেশ্যে ১৯১৯ সালের ১৮ মার্চ ‘রৌলট রিল’ কেন্দ্রীয় আইন সভায় বিধিবদ্ধ করার প্রতিবাদে সারা দেশে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন ইংরেজদের বেপরোয়া গুলিবর্ষণে ভারতবাসীকে মাছ মরার মত মরতে হয়, যেখানে রবীন্দ্রনাথকে চক্ষু লজ্জায় নাইট উপাধি ছেড়ে দিতে বাধ্য করেছিলো কিন্তু সুরেন্দ্রনাথ সেখানে নীরব থাকেন। (দ্রঃ বাঃ রাষ্ট্রচিন্তা পৃঃ ১৬৪)। কেন নীরব থাকেন তার উত্তর আজ অজানা নেই। স্যার টাইটেলের মর্যাদা তিনি রক্ষা করেছিলেন। তবে তাঁর গুণাবলীর মধ্যে প্রখর বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি মুসলমান জাতিকে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর মতে রামমোহন ইংরেজদের রক্তে রঞ্জিত ছিলেন আর চৈতন্য মুসলমান সংস্কৃতিতে প্রভাবিত। সুতরাং হিন্দু জাতি চৈতন্যের আদর্শে চললেই মুসলমান জাতিকে বুঝতে শিখবে। (দ্রঃ Speeches of Surendranath Banerjee 1865,1880, ed by R. C. Polit, p. 21 FmA Ibid p. 54, Speech on Chaitanya at the students Association on July 15, 1876)।
তিনিও কিন্তু পূর্ণ স্বাধীনতার কথা একদিনও বলেননি, তবে তিনি যা বলেছিলেন তা হচ্ছে এই “We have on wish to assume sovereign authority" তিনি চেয়েছিলেন “শান্তি, সমৃদ্ধ সমানাধিকার।” তবু কিন্তু অন্য নেতাদের তুলনায় তিনি অপেক্ষাকৃত যোগ্য ও সুন্দর চরিত্রের ছিলেন তথাপি তার নাম নিয়ে হৈ চৈ নেই কেন? বাজারে ক্যালেণ্ডারে ছবিতেই বা অদৃশ্য কেন? একটা কারণ হচ্ছে এই তিনি ভারতের হিন্দু ও মুসলমান প্রধান জাতি দুটির মিলন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে মুসলমান জাতিকে উদার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর কথা- The Progress of India does not mean the progress of the Hindus alone. It means the advance ment of Hindus and Mohamedans alike. It means that Hindus and Mohamedans must march han in hand" (দ্রঃ Speech of surendranath Banerjee by R. J Mittra, p.95)
তিনিই উপলব্ধি করেছিলেন মুসলমান শুধু সর্ব ভারতীয় জাতি নয়; বরং সর্ব জাগতিক জাতি আর স্বাধীনতার সমস্ত সংগ্রাম তাদেরই অবদান প্রায়। অতএব এদের বাদ দিয়ে স্বাধীনতা আনা যায় না আর যদিও ভবিষ্যতে স্বাধীনতা আসে তাহলে মুসলমান জাতিই হবে তার জনক।
কংগ্রেসের জন্মদাতা ছিলেন মিঃ হিউম। ১৮৯৫ ও ১৯০২ খৃষ্টাব্দে পুনা আহমদাবাদে কংগ্রেস অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন স্যার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী। তার স্যার উপাধির বিবরণ দেওয়ার বিষয়ে বিরক্তিবোধ হচ্ছে। ঐ সময় রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিম তাকে স্বাগতম জানান এবং রবীন্দ্রনাথ তাকে মানার জন্য দেশবাসীকে আবেদন জানান। (দ্রঃ ১৩১৩ বঙ্গাব্দের রবীন্দ্রনাথের ‘দেশ নায়ক প্রবন্ধ)
সবচেয়ে ভাববার কথা, “রাজদ্রোহ দমনের উদ্দেশ্যে ১৯১৯ সালের ১৮ মার্চ ‘রৌলট রিল’ কেন্দ্রীয় আইন সভায় বিধিবদ্ধ করার প্রতিবাদে সারা দেশে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন ইংরেজদের বেপরোয়া গুলিবর্ষণে ভারতবাসীকে মাছ মরার মত মরতে হয়, যেখানে রবীন্দ্রনাথকে চক্ষু লজ্জায় নাইট উপাধি ছেড়ে দিতে বাধ্য করেছিলো কিন্তু সুরেন্দ্রনাথ সেখানে নীরব থাকেন। (দ্রঃ বাঃ রাষ্ট্রচিন্তা পৃঃ ১৬৪)। কেন নীরব থাকেন তার উত্তর আজ অজানা নেই। স্যার টাইটেলের মর্যাদা তিনি রক্ষা করেছিলেন। তবে তাঁর গুণাবলীর মধ্যে প্রখর বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি মুসলমান জাতিকে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর মতে রামমোহন ইংরেজদের রক্তে রঞ্জিত ছিলেন আর চৈতন্য মুসলমান সংস্কৃতিতে প্রভাবিত। সুতরাং হিন্দু জাতি চৈতন্যের আদর্শে চললেই মুসলমান জাতিকে বুঝতে শিখবে। (দ্রঃ Speeches of Surendranath Banerjee 1865,1880, ed by R. C. Polit, p. 21 FmA Ibid p. 54, Speech on Chaitanya at the students Association on July 15, 1876)।
তিনিও কিন্তু পূর্ণ স্বাধীনতার কথা একদিনও বলেননি, তবে তিনি যা বলেছিলেন তা হচ্ছে এই “We have on wish to assume sovereign authority" তিনি চেয়েছিলেন “শান্তি, সমৃদ্ধ সমানাধিকার।” তবু কিন্তু অন্য নেতাদের তুলনায় তিনি অপেক্ষাকৃত যোগ্য ও সুন্দর চরিত্রের ছিলেন তথাপি তার নাম নিয়ে হৈ চৈ নেই কেন? বাজারে ক্যালেণ্ডারে ছবিতেই বা অদৃশ্য কেন? একটা কারণ হচ্ছে এই তিনি ভারতের হিন্দু ও মুসলমান প্রধান জাতি দুটির মিলন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে মুসলমান জাতিকে উদার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর কথা- The Progress of India does not mean the progress of the Hindus alone. It means the advance ment of Hindus and Mohamedans alike. It means that Hindus and Mohamedans must march han in hand" (দ্রঃ Speech of surendranath Banerjee by R. J Mittra, p.95)
তিনিই উপলব্ধি করেছিলেন মুসলমান শুধু সর্ব ভারতীয় জাতি নয়; বরং সর্ব জাগতিক জাতি আর স্বাধীনতার সমস্ত সংগ্রাম তাদেরই অবদান প্রায়। অতএব এদের বাদ দিয়ে স্বাধীনতা আনা যায় না আর যদিও ভবিষ্যতে স্বাধীনতা আসে তাহলে মুসলমান জাতিই হবে তার জনক।