hadith book logo

ইতিহাসের ইতিহাস

লেখকঃ গোলাম আহমাদ মোর্তজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৬

অন্ধকূপ হত্যার পশ্চাতে নিষ্ঠুর ঐতিহাসিক

সিরাজের অন্ধকূপ হত্যার কাহিনী ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শাসকদের চরিত্রে মসী লেপনের এক অদ্ভুত ঐতিহাসিক প্রাকটিস।

তাই এই অন্ধকূপ হত্যা (Black Hole) সম্বন্ধে একটু আলোচনা দরকার। সুধীর বাবু তাঁর রচনায় বাংলা তথা ভারতের কল্যাণের জন্য বেশ বুদ্ধিমানের ও মস্তিষ্কের উর্বর পরিচয় দিতে চেষ্টা করে গেছেন। অন্ধকূপ হত্যার স্রষ্টা সুধীর বাবু নন, তিনি হচ্ছেন ইংরেজ অনুচর মিঃ হলওয়েল (Hal Well)। এই হল ওয়েলকে শ্রী সুধীর বাবু সত্যবাদী ও প্রকৃত ঐতিহাসিকের মর্যাদা দিয়েছেন। সুধীর বাবু মোটামুটি চারটি পয়েন্টের ওপর চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। প্রথমত-যেহেতু হলওয়েল এই ঘটনার নায়ক সেহেতু অন্ধকূপ সম্বন্ধে তাঁর মন্তব্য ও বক্তব্য অবশ্যই গ্রহণযোগ্য।

দ্বিতীয়ত-মিঃ কুক এবং হলওয়েলের প্রকাশিত তথ্য প্রমাণ করে তাঁরা অন্তত মিথ্যাবাদী নন। অতএব তাঁদের কথা সত্য।

তৃতীয়ত-যদি এই কথা মিথ্যা হতো তবে Dark এবং Councillor গণ এটাকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করেননি কেন?

চতুর্থত-হলওয়েলের স্বজাতির মধ্যে যারা তার শত্রু তারাই বা প্রতিবাদ করেননি কেন? অতএব উপরোক্ত সত্যতার ভিত্তিতে কলিকাতায় Hal well Monument (হলওয়েল মনুমেন্ট) রচিত।

এক্ষণে উপরের প্রমাণ দিতে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, যা রটে তা কিছুও বটে অর্থাং সিরাজের অন্ধকূপ হত্যার কাহিনীটিকে নিছক গল্প বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না কিন্তু তবুও বাঁধা বুলিতে মুগ্ধ হওয়ার চেয়ে একটু যুক্তি তর্কের আশ্রয়ে পূর্ণ তথ্যটি আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমানের পরিচয়।

এইবার মিঃ হল ওয়েলের চরিত্রটা যাচাই করা কর্তব্য। ঐ হলওয়েল সাহেবই মীরজাফরকে সিংসাহনচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করে মীর কাশিমকে সিংহাসনে বসিয়েছিলেন এবং তিন লক্ষ নয় হাজার তিনশত টাকা পুরস্কার পেয়েছিলেন। এর জীবন্ত, প্রমাণ ১৭৭২ খৃস্টাব্দের Report of the Committee of the House of commons দ্রষ্টব্য। ঐ হলওয়েলই বিলেতের কর্তৃপক্ষকে পত্র লিখেছিলেন যে, “নবাব মীর জাফর আলি খাঁর জঘন্য চরিত্রের কথা কি আর জানাব? তিনি ১৭৮৬ খৃস্টাব্দের জুন মাসে নওয়াজেস মহিষী ঘষেটী বেগম, সিরাজের মা আমিনা বেগম প্রমুখ সম্ভ্রান্ত মহিলাদের রাজ কারাগারে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছেন।”

এই পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে হলওয়েল সাহেব যে মস্তবড় এক বোকা ও মিথ্যাবাদী তা প্রমাণিত। কারণ হলওয়েল যখন ঢাকায় রাজ মহিলাদের মৃত্যু কাহিনী রচনা করেন তার পরেও তাঁরা সশরীরে জীবিত ছিলেন। (Long's Selection from the record of India. Vol-5:)

Letter to court, L177630th September পাঠ করে জানা যায় হলওয়েলের ঐ বানানো কাহিনী পরে অনেকে মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়েছেন।