hadith book logo

ইতিহাসের ইতিহাস

লেখকঃ গোলাম আহমাদ মোর্তজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯

হযরত কুতুব উদ্দিন বখতিয়ার কাকী (রহ.)

আমাদের আলোচ্য অধ্যায়ে কিছু সাধকের বুজুর্গী লেখার উদ্দেশ্য এই যে, মুসলমান রাজা বাদশাহরা সাধারণত রাজ্য-রাজনীতি নিয়ে থাকতেন সেই সঙ্গে ধর্মও। বলাবাহুল্য এই প্রকৃত ফকিরদের দল, রাজা-বাদশাহ, মন্ত্রী, কর্মচারী চরিত্র গঠনের ভার নিতেন এবং সারা ভারতে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে নিজেদের চরিত্র মাধুর্য বা অনুপম আদর্শ সামনে রেখে অমুসলমানদের নিজেদের দিকে আকর্ষণ করতেন ফলে অসংখ্য মানুষ তাদের আদর্শে মুগ্ধ হয়ে স্বেচ্চায় নতুন ধর্ম গ্রহণ করতেন।

এমনিভাবে মুহম্মদ ঘোরীর মৃত্যুর পর ৩২০ বছর মুসলমান সুলতানগণ দিল্লীতে রাজত্ব করেন। দাস বংশ, খলজী বংশ, তুঘলক বংশ ও লোদী বংশ। সুলতান সাহাবুদ্দিন, মুহাম্মদ ঘোরী ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ইসলামী ভাব ধারায় নিজেকে পরিচালিত করেছেন। তাঁর একজন নগণ্য দাসকে নিজের রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া এবং তাঁকে সিংহাসনে বসানো দুটিই ইসলামের মহান নীতির প্রতিফলন। তিনি হচ্ছেন কুতুবুদ্দিন। আবার কুতুবুদ্দিন তার দাসকে জামাতা হিসেবে বরণ করে সিংহাসনে বসালেন যাঁকে, তার নাম শামসুদ্দিন আলতামাস, আমরা পূর্বে ইলতুৎমিস লিখেছি যেহেতু আলতামাস শুদ্ধ নামকে ঐতিহাসিক অনেকে ইলতুৎমিস লিখেছেন। আলতামাস বললে আধুনিক ছাত্রছাত্রীর পক্ষে বোধহয় বোঝা কঠিন হয়ে পড়ত তাই সোজা পথে ভ্রমণ। যাইহোক, এরা দিল্লির সর্বময় কর্তা হলেও পারস্য হতে আগত বিখ্যাত ফকির হযরত খাজা কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার কাকীর (র.) কথায় উঠতে-বসতেন। ভারী মজার কথা সারা ভারত সম্রাটের অধীনে আর সম্রাট ফকিরের অধীনে আর ফকির শুধু আল্লাহকেই মূলধন করেছেন। এই কুতুবুদ্দিন কাকীর (র.) স্মৃতি রক্ষায় বাদশাহ দুরাকাত নামায পড়ে আল্লাহকে বললেন, হে আল্লাহ! একটি লোহার মিনার তৈরি করবো যেন সহজে তাতে লোক উঠে তোমার ফকিরদের সহস্র সহস্র কবর দর্শন করে, মৃত্যুকে স্মরণ করে আর তোমার রাজ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করে এবং ঈদের সময় নামাযের পূর্বে উপবাসী রোজাদার প্রজারা চাঁদ দেখে ধন্য হয়। এটি কবুল (মঞ্জুর) কর আর তোমার তরফ হতে কোন খুশুসিয়্যাত (বৈশিষ্ট্য) এতে দান কর। অবশেষে ১২১০ খৃস্টাব্দে ২৪২ ফুট উচ্চ লোহার মনুমেন্ট, ভেতরে সহজ সুন্দর সিঁড়ি নিয়ে গড়ে উঠল যা আজও বিদ্যমান, আজও তা মরীচা ধরে ধ্বংস হয়নি, আজও আধুনিক যুগের নিয়মানুযায়ী তাতে রঙ লাগানোর প্রয়োজন হয় না।