hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

৫-দাওয়াতদাতা মানুষদের নিকট দাওয়াতের কোন বিনিময় তালাশ করবেন না, তাদের প্রশংসা, তাদের তরফ থেকে মর্যাদা আশা করবেন না।

বস্ত্তত দাওয়াত হল অন্যান্য ইবাদতের মত একটি মহান ইবাদত যা থেকে একমাত্র খাঁটি ইবাদতটিই গ্রহণ করা হবে। আর এই ইবাদতের উপর একমাত্র মুখলিছ ব্যক্তিকেই নেকী দান করা হবে। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ

( مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لا يُبْخَسُونَ )[ هود :১৫]

‘যে ব্যক্তি এই পার্থিব্য জীবন ও তার চাক-চিক্যতা চাইবে আমি তাদেরকে এই দুনিয়াতেই তাদের আমলের বিনিময় পুরাপুরিভাবে প্রদান করব। এখানে তাদেরকে তা কম করে দেওয়া হবে না। (সূরা হূদঃ১৫)।

এজন্যই তো শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্ হাব রহ. তার মহান কিতাব-আত তাওহীদে একটি অধ্যায় এভাবে রচনা করেছেন।

‘অধ্যায়ঃ ব্যক্তির আমল দ্বারা দুনিয়া লাভের ইচ্ছা করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত’

এই অধ্যায়ে তিনি মহান আল্লাহর এই আয়াতটি দলীল স্বরূপ উল্লেখ করেছেন।

( مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لا يُبْخَسُونَ (১৫) أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (১৬))[ هود :১৫-১৬]

‘যে ব্যক্তি এই পার্থিব্য জীবন ও তার চাক-চিক্যতা চাইবে আমি তাদেরকে এই দুনিয়াতেই তাদের আমলের বিনিময় পুরাপুরিভাবে প্রদান করব। এখানে তাদেরকে তা কম করে দেওয়া হবে না। এরাই হল তারা যাদের জন্য আখেরাতে জাহান্নামের আগুন বৈ আর কিছুই নেই। তারা যা কিছু কর্ম করে ছিল দুনিয়াতে তা সবই বরবাদ হয়ে গেছে। তারা যা কিছু আমল করত তার সবই বাতিল বলে গণ্য। (সূরা হূদ : ১৫-১৬)।

এজন্যই দাঈর কর্তব্য হল, সে মানুষের নিকট তার দাওয়াতের কোন বিনিময় আশা করবে না। আর তার উদ্দেশ্যও দৃঢ় ইচ্ছা যেন না হয় মানুষদের প্রশংসা, তাদের পক্ষ থেকে সম্মান গ্রহণ, তাদের থেকে নিজকে আলাদা ভাবা এবং সম্মানের প্রাচীরদ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়া। যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এমন হবে সে তার দাওয়াতের বিনিময় থেকে বঞ্চিত হবে, আল্লাহর আযাবের হকদার হবে। কারণ সে এর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতে শিরক করে বসেছে।

নবী ও রাসূল আলাইহিমুস্ সালাম গণ এই তরীকা স্পষ্ট করেই তুলে ধরেছেন। তারা মানুষদের থেকে দাওয়াতের পারিশ্রমিক হিসাবে কোন বিনিময় বা শুকরিয়া কামনা করতেন না। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ

( فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ )[ يونس :৭২]

‘যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে মনে রেখ। আমি কিন্তু তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাইনি, আমার বিনিময় তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে।’ (সূরা ইউনুস : ৭২)

মহান আল্লাহ্ আরো বলেনঃ

( قُلْ لا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْراً إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى وَمَنْ يَقْتَرِفْ حَسَنَةً نَزِدْ لَهُ فِيهَا حُسْناً إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ شَكُورٌ )[ الشورى :২৩]

‘আপনি বলে দিন আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্মীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে আমি তার জন্য তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী। (সূরা আশ্ শুরা : ২৩)।

মহান আল্লাহ্ আরো বলেনঃ

( وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ . اتَّبِعُوا مَنْ لا يَسْأَلُكُمْ أَجْراً وَهُمْ مُهْتَدُونَ )[ يس :২০-২১]

‘আর শহরের দূরতম প্রান্ত থেকে জনৈক ব্যক্তি দৌড়াতে দৌড়াতে এসে বলল : হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা এই রাসূলদের আনুগত্য কর। এমন ব্যক্তিদের আনুগত্য কর, যারা তোমাদের নিকট কোন কোন প্রকার বিনিময় চান না। উপরোন্তু তাঁরা হেদায়াত প্রাপ্ত। (সূরা ইয়া-সীন : ২০-২১)।

নিশ্চয় দাওয়াতের বিনিময়ে মানুষদের নিকট প্রশংসা, তাদের ধন-সম্পদ প্রভৃতি তলব করা মারাত্মক পদস্খলন। কাজেই দাওয়াত দানকারীকে এরূপ পদস্খলনে পতিত হওয়ার পূর্বে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। আর সে বিষয়ে হাজারো বার হিসাব করতে হবে। অতএব তিনি একমাত্র আল্লাহর নিকটেই দাওয়াতের বিনিময় আশা করবেন। অবশ্য দাঈদের জন্য বেতন ও সম্মানী হিসাবে যা ধার্য করা হয় তা তাদেরকে দাওয়াতী কাজের লক্ষ্যে অন্য কাজ থেকে অবসর দেওয়ার জন্যই দেওয়া হয়। এটা বদলা বা পারিশ্রমিক নয়।