hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৩

ঈমান

এই ঈমানের ছয়টি রোকন বা ভিত্তি রয়েছে যা মহান আল্লাহর নিম্ন বর্ণিত পৃথক দুই বাণীতে উল্লেখিত হয়েছে (বাণী দুটি হল)

إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ (৪৯)[ القمر ]

‘নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্ত্তকে তাক্বদীরের সাথে সৃষ্টি করেছি। (আল্ ক্বামারঃ১৭৭)

এ আয়াতে তাকদীরের প্রতি ঈমানের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ [ البقرة :১৭৭]

ভালো কাজ হল (তারা কাজ) যে ঈমান আনে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি। (সূরা আল্ বাক্বারাহঃ১৭৭)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা, আখেরাত, ফেরেশতা, কিতাবসমূহ ও নবীদের প্রতি ঈমান আনার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

ঈমানের সংজ্ঞাঃ

তা হল আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর নবী ও রাসূলগনের প্রতি শেষ দিবসের প্রতি ও ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।

কেউ কেউ ঈমানের সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেনঃ

( تصديق بالقلب، وإقرار باللسان، وعمل بالأركان، يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية ).

‘ঈমান হলঃ অন্তর দিয়ে সত্যয়ন করা, মুখ দিয়ে স্বীকৃতি দেওয়া, অঙ্গ-প্রতঙ্গ দিয়ে কর্ম করা। আর এটা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি লাভ করে এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে হ্রাস পায়।’

এজন্যই উলামায়ে দ্বীন আমল সমূহকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কারণ মহান আল্লাহ্ বলেনঃ

وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ [ البقرة :১৪৩]

‘আর আল্লাহ্ এমন নন যে তিনি তোমাদের ঈমান তথা ছালাতকে নষ্ট করে দেবেন। (যা বায়তুল্ মুক্বাদ্দাস অভিমুখী হয়ে পড়েছ) (আল্ বাক্বারাহ্ঃ১৪৩)

এ আয়াতে সালাত যা একটি আমল তাকে ঈমান বলা হয়েছে।

হাদীছে এসেছেঃ

( الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً )[ صحيح مسلم، كتاب الإيمان، باب بيان عدد شعب الإيمان ১/৫৭،৫৮]

নিশ্চয় ঈমানের সত্তরটির অধিক শাখা রয়েছে। (মুসলিম,ঈমান অধ্যায়,হা/৫৭,৫৮) [অন্য বর্ণনায় এসেছেঃ( الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ ).[ صحيح مسلم،كتاب الإيمان ، الحديث رقم 162]ঈমানের ত্তরটির বা ষাটটির অধিক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এগুলির মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলঃ এই কথা বলা যে,আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনই উপাস্য নেই। আর সর্ব নিম্ন শাখাটি হলঃ রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্ত্ত অপসারণ করা। আর লজ্জাশীলতা হল ঈমানের অন্যতম শাখা। (মুসলিম,ঈমান অধ্যায়,হা/১৬২)। অত্র হাদীছ এই মর্মে বলিষ্ঠ প্রমাণ যে ঈমান তিন প্রকারঃ ১-মুখে স্বীকৃতি দেওয়া। ২-অঙ্গ-প্রতঙ্গ দ্বারা কর্ম সম্পাদন করা ৩-এবং অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা। আলোচ্য হাদীছে ঈমানের তিনটি প্রকার উল্লেখিত হয়েছে। মুখ দিয়ে কালেমা ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ এর স্বীকৃতি দেওয়া-এটি হল মৌখিক ঈমান। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্ত্তর অপসারণ করা এটি হলঃ কর্মগত ঈমান। আর লজ্জাশীলতা হল আন্তরিক ঈমান।]

ইমাম শাফেঈ উক্ত বিষয়ে ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনে ইযামের ইজমা-ঐকমত্য উদ্ধৃত করেছেন। ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণসহ তাওহীদের সেই তিনটি প্রকারই এই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হবে। সুপ্রসিদ্ধ হাদীছে জিবরীলে দ্বীনের মৌলিক বিষয় তথা ইসলাম, ঈমান ও ইহ্সানের বর্ণনা এসেছে।