hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৯

দ্বিতীয়তঃ আমল বা কর্মগত কুফরীঃ

এই প্রকার কুফরীও দুই ভাগে বিভক্ত।

(ক) বড় কুফরীঃ এটি ধর্ম থেকে বহিষ্কারকারী কুফরী। যেমনঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুকে সাজদাহ্ করা, কুরআনকে অপমানিত করা এবং নবীআলাইহিমুছ্ ছালাতু ওয়াস্সালামদের মধ্য হতে যে কোন নবীকে হত্যা করা।

(খ) ছোট কুফরীঃ ইহা ধর্ম থেকে বহিষ্কারকারী নয় বটে তবে তা তাওহীদের পূর্ণতার বিরোধী। যেমন নে‘আমতের কুফরী করা, কোন মুসলিম ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, বংশে আঘাত হানা, মৃতের উপর বিলাপ করা তথা উচ্চস্বরে ক্রন্দন করা প্রভৃতি।

শিরক দুই প্রকারঃ

১-শিরকে আকবার তথা বড় শিরকঃ আর তাহল এই মর্মে আক্বীদাহ্ -বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহর কোন শরীক রয়েছে। অথবা গায়রুল্লাহ্র জন্য ইবাদতের কোন কিছু ব্যয় করা। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ

( إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ )[ النساء :৪৮]

‘নিশ্চয় আল্লাহ্ তাঁর সাথে শিরক করা ক্ষমা করেন না।’ (আন্ নিসাঃ৪৮)।

এই প্রকার শিরকের উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত হল কবরের চতুরপার্শ ত্বাওয়াফ করা তথা চক্কর লাগানো, গায়রুল্লাহ্র নামে নযর-মান্যত করা, গায়রুল্লাহর জন্য পশু যবেহ করা, গায়রুল্লাহর জন্য সাজদাহ্ ও রুকূ’ করা। এক কথায় ইবাদতের কোন কিছু আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করা। এই জাতীয় আচরণ ইসলাম ধর্ম থেকে বহিষ্কারকারী।

২-শিরকে আছগার তথা ছোট শিরকঃ এই শিরক বলতে প্রত্যেক ঐ পাপকে বুঝানো হয় যেগুলিকে শরী‘আতের দলীলাদি শিরক বলে আখ্যায়িত করেছে, তবে সেগুলি ‘শিরকে আকবার’ তথা বড় শিরকের সীমানায় পৌঁছেনি। যেমনঃ গায়রুল্লাহর নামে কসম খাওয়া, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর শপথ করা। এবং এরূপ বলাঃ

‘আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং আপনি যা চেয়েছেন’ ‘এটা আল্লাহ্ ও আপনার পক্ষ থেকে’ ‘আমি আল্লাহর মাধ্যমে ও আপনার মাধ্যমে..’ ‘আমি আল্লাহর উপর এবং আপনার উপর ভরসাকারী’ ‘উপরে আল্লাহ নীচে আপনি’ ‘আপনি যদি না থাকতেন তবে এরূপ হত না...’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

অনুরূপভাবে ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত হবে অল্প-সল্প রিয়া বা লোক দেখানো কাজ। যেমন ইবাদতেরা কোন কিছু মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে বা শোনানোর উদ্দেশ্যে করা। সৃষ্টিকুলের খোশামোদ করা, তাদেরকে দেখানোর জন্য কাজ করা। তাবীয-কবচ লটকানো, পাখী উড়িয়ে অলক্ষি-কুলক্ষি নির্ধারণ করা, অনুরূপভাবে বিভিন্ন মাস দ্বারা অলক্ষি-কুলক্ষি নির্ধারণ করা। এজাতীয় আচরণ কবীরাহ্ গুনাহের অন্তর্ভূক্ত হলেও ধর্ম থেকে বহিষ্কার করে না।

ইসলাম এগুলিকে হারাম করার বিষয়ে যথেষ্ট তৎপর। যাতে করে এগুলি শিরকে আকবার তথা বড় শিরকের দিয়ে না নিয়ে যায়। অনুরূপভাবে ইসলাম কবরের উপর বিল্ডিং নির্মাণ ও তাকে মসজিদ হিসাবে গ্রহণ করা হারাম করে দিয়েছে। এবং সৎকর্মশীলদের শ্রদ্ধায় অতিরঞ্জণ, বাড়াবাড়ি ও তাদের অতিশয় প্রশংসা করতে নিষেধ করেছে। এগুলো সবই মূলতঃতাওহীদের হেফাযত ও তার রক্ষণা কল্পে করেছে এবং যাতে শিরকের ছিদ্র পথসমূহ বন্ধ হয়ে যায়। (সে জন্যই এরূপ করেছে)