hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

৯-দাঈর উচিত ধৈর্য ধারণ করা :

অতএব নিজ দাওয়াতের ফল বিলম্বিত হওয়ার জন্য কোন প্রকার পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার জন্য তার সুদৃঢ় ইচ্ছা-পরিকল্পনা যেন ভেঙ্গে না যায়। কারণ তিনিই তো অন্যদের চেয়েও বেশী বেশী পরীক্ষা, কষ্ট-ক্লেশের শিকার হবেন। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ

( وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا وَلا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ وَلَقَدْ جَاءَكَ مِنْ نَبَأِ الْمُرْسَلِينَ )[ الأنعام :৩৪]

‘আর নিশ্চয়ই তোমার পূর্বেও রাসূলদেরকে মিথ্যা পতিপন্ন করা হয়েছে। তারা এতে ধৈর্য ধারণ করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছা পর্যন্ত তাঁরা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আর নিশ্চয়ই আপনার কাছে বিগত রাসূলদের খবর পেঁŠছেছে। (সূরা আল্ আন‘আম : ৩৪)

দাঈর উচিত হল ইহাই যে, তিনি কষ্ট-তকলীফ প্রভৃতির কারণ দু:চিন্তাগ্রস্ত হবেন না। মহান আল্লাহ বলেনঃ

وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّكَ يَضِيقُ صَدْرُكَ بِمَا يَقُولُونَ (৯৭) فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ (৯৮) وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ (৯৯) [ الحجر ]

‘(হে নবী!) নিশ্চয় আমি জানি যে তাদের কথায় আপনার বক্ষ-হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে যায়। সুতরাং আপনি নিজ প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ করুন, এবং সাজদাহ্কারীদের মধ্যে শামিল হয়ে যান। আর আপনার নিকট মৃত্যু আসার পূর্ব পর্যন্ত নিজ প্রতিপালকের ইবাদত করতে থাকুন। (সূরা আল্ হিজর : ৯৭-৯৯)

মহান আল্লাহ্ আরো বলেনঃ

( وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ )[ لقمان :১৭]

‘আর তোমার নিকট (দুঃখ-কষ্ট হতে) যা পৌঁছে থাকে তাতে ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় ইহা সুদৃঢ় বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্ত। (সূরা লোক্বমান : ১৭)।

অবশ্য এসব কথার অর্থ এমনটি নয় যে, দাওয়াত-কর্মী শুধু মাত্র ফিৎনা-ফাসাদের জায়গায় পতিত হবেন, আর পরীক্ষার স্থানগুলি তালাশ করে বেড়াবেন। আর নিজেকে পরীক্ষার সম্মুখীন করবেন এই ধারণায় যে, তার দাওয়াত এরূপ করণ ছাড়া বিশুদ্ধ হবে না। বরং তাঁর উচিত হবে, তিনি দুশমনদের সাক্ষাৎ কামনা করবেন না। বরং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাইবেন। এজন্যই নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে তিনি বলেছেনঃ

لا يَنْبَغِي لِمُسلِمٍ أَنْ يَذِلَّ نَفْسَهُ . قَالُوْا : وَكَيْفَ يَذِلُّ نَفْسَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : يَتَحَمَّلُ مِنَ الْبَلاءِ مَا لا يُطِيقُهُ ) [ أخرجه ابن ماجة وحسنه الألباني رحمه الله في صحيح ابن ماجة ৩২৫৯].

‘কোন মুসলিম ব্যক্তির উচিত নয় নিজেকে লাঞ্ছিত করা। তাঁরা (ছাহাবায়ে কিরাম) প্রশ্ন করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে সে নিজেকে লাঞ্ছিত করতে পারে? তিনি বললেন: এমন বিপদাপদ গ্রহণ করবে যা বরদাশত করার ক্ষমতা সে রাখে না।’ (তিরমিযী,ইবনু মাজাহ্,আলবানী রহ.হাদীছটিকে তাঁর ছহীহ ইবনু মাজায় ৩২৫৯ হাসান বলেছেন)।

নবী কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ

( لَا تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَسَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا )[ أخرجه البخاري في كتاب الجهاد، باب رقم لا تتمنوا لقاء العدو ৩০২৫]

তোমরা দুশমনের সাথে সাক্ষাতের আকাংখা করবে না। আর আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করবে। তবে যখন তাদের সাথে (অনিচ্ছা সত্ত্বেও) সাক্ষাৎ হয়ে যাবে তখন ধৈর্য ধারণ করবে। (সহীহ বুখারী, জিহাদ অধ্যায়,হা/৩০২৫)।