hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৮

ছাহাবীদের গাল-মন্দ করার বিধান

ছাহাবীদেরকে গাল-মন্দ করা তিন ভাগে বিভক্তঃ

১-এমনভাবে তাদের গালমন্দ করা, যার অর্থই হল তাদের অধিকাংশ বা সকলেই কাফের। তাহলে এই পর্যায়ের গাল-মন্দ করা কুফরী; কারণ এটা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নামান্তর। কারণ আল্লাহর কিতাবে ও নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতে তাদের প্রশংসা ও আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের উপর রাযী থাকার কথা এসেছে। (এই প্রকৃতির লোক তো কাফেরই) বরং যারা তার মত লোকের কুফরীতে সন্দেহ করবে তার কুফরীও সুনিশ্চিত। কারণ এরূপ কথার ফলাফল হল, কিতাব ও সুন্নাতের বর্ণনাকারী ছাহাবী গণ সকলেই কাফের এবং পাপাচারী।

২-তাদেরকে গালমন্দ করা লা’নত করার মাধ্যমে, তাদের শানে কটুবাক্য ব্যবহার করা। এরূপ আচরণকারী ব্যক্তির কুফরী মর্মে উলামায়ে দ্বীনের দুটি অভিমত রয়েছে। এবং কাফের হবে না-এই মর্মের অভিমতের ভিত্তিতে ঐরূপ আচরণকারীকে দোররা মারতে হবে এবং আমৃত্যু জেলখানায় রাখতে হবে। পূর্বের কথা থেকে সে ফিরে আসলে ভাল কথা। [দেখুনঃ শাইখ ইবনু উছায়মীন প্রণীত‘ শারহু লুম‘আতিল ই’তিক্বাদ,পৃঃ১৫২, এবং শাইখুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ্ প্রণীত কিতাব‘আছ্ ছারেমুল মাসলূল, পৃঃ৫৭৩]

৩-তাদেরকে এমন ভাবে গালমন্দ করা যাদ্বারা তাদের দ্বীন-ধার্মিকতায় কোন সমালেচনা লেপন হয় না। যেমন কাপুরুষতা, কৃপণতা প্রভৃতি অভিযোগে তাদেরকে অভিযুক্ত করা। এরূপ আচরণকারী কাফের হবে না। তবে তাকে সেকারণ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ইমাম আহমাদ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে তিনি বলেনঃ

( ولا يجوز أن يذكر شيء من مساوئهم، ولا يطعن على أحد منهم بعيب أو نقص فمن فعل ذلك أُدِّبَ، فإن تاب وإلا جلد في الحبس حتى يموت أو يرجع )

আর ছাহাবীদের কোন মন্দ বিষয় উল্লেখ করা জায়েয নয়, অনুরূপভাবে তাদের কারো ক্ষেত্রে দোষ-ত্রুটির সাথে সমালোচনা করাও বৈধ নয়। এরূপ যে করবে তাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হবে। যদি সে তাওবাহ্ করে তো ভাল, নতুবা তাকে জেলখানায় বন্দী রেখে প্রহার করতে হবে। যতক্ষণ না পূর্বের মতবাদ থেকে ফিরে আসবে। (দেখুনঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন উছায়মীন প্রণীত ‘শারহু লুম‘আতিল ই’তিক্বাদ ,পৃঃ১৫২, এবং শাইখুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ্ প্রণীত কিতাব ‘আছ্ ছারেমুল মাসলূল, পৃঃ৫৭৩)