hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

১৬- দাঈ মতবিরোধীয় জ্ঞান সম্পর্কে অবগত হবেন:

দাঈর উচিত এই বিষয়টি জেনে নেওয়া যে আহ্লে সুন্নাতের নিকট আক্বীদায় মতবিরোধ পরিচিত কোন বিষয় নয়;অল্প সামান্য বিষয়ে ইখতিলাফ পাওয়া যায় যা সঠিক আক্বীদায় কোন প্রকার প্রভাব ফেলবে না। যেমন একটি মাসআলাহ্ঃ ‘উর্ধ্বাকাশে মেরাজকালীন কি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতিপালককে দেখেছিলেন?

অবশ্য শাখাগত মাসায়েল বিষয়ে মতভেদ শক্তিশালী, অনেক এবং ফুক্বাহাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ। এর পরও যারা (ইজতিহাদ করতে যেয়ে) সঠিক বিষয়ের বিরোধিতা করেছেন তাঁরা পুরস্কার পাবেন। দাঈর কর্তব্য হল তিনি বিষয়টি ভালভাবে লক্ষ্য রাখবেন এবং পর্যালোচনা, তর্ক, পারষ্পরিক কথোপকথনকালীন মতবিরোধ সংক্রান্ত আদব-কায়দা অনুসরণ করবেন। এবং তাঁর নীতি হবে ইমাম শাফেঈ রহ. এর নীতির মতঃ

( قولي صواب يحتمل الخطأ وقول غيري خطأ يحتمل الصواب )

‘আমার কথা সঠিক, তবে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পক্ষান্তরে আমি ভিন্ন অন্যের মতামত ভুল। তবে তা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ [এ কথাটি ইমাম শাফেঈ থেকে বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত নয় বলে আমি মনে করি। কারণ এ কথাটির মাঝেও নিজের আত্ম প্রশংসা ফুটে উঠে যা সাধারণত ইমাম শাফেঈর মত পন্ডিতের জন্য শোভা পায় না -অনুবাদক।]

এমন ব্যক্তি খুব কমই রয়েছে যে ইমাম শাফেয়ীর এ কথায় প্রভাবিত হয়েছে। এর একমাত্র কারণ হল আদল, ইনসাফ ন্যায় নিষ্ঠা থেকে দূরে অবস্থান করা।

দাঈর ইহাই উচিত, তিনি প্রতিপক্ষদের সাথে কঠোরতা, কর্কশ ভাষা প্রয়োগ করা থেকে দূরে থাকবেন যাতে করে তার দাওয়াত বেশী গ্রহণযোগ্য হয়। [ইহা সত্ত্বেও যে তিনি ইখতেলাফী মাসায়েলে তাঁর নিকট যা বেশী প্রধান্যযোগ্য তাই বলবেন। কারণ দলীল যা প্রমাণ করে তারই অনুসরণ করা ওয়াজিব। আর ইখতিলাফ বিদ্যমান থাকার অর্থ এই নয় যে, একজন ব্যক্তি বিভিন্ন মাযহাব-মতামত হতে যা ইচ্ছা বা যা মনে ভাল লাগে তাই বেছে নেওয়ার তাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে (আল্ মাহমূদ)।]