hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৯

ফিক্বহ ইসলামী স্তর সমূহ ১-নবুওতের যামানায় ফিক্বহ্ঃ

মুসলিম উম্মাহ এ যুগে শরঈ বিধি-বিধানের বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত ছিল না। কারণ তাঁদের নিকট এমন ব্যক্তির উপস্থিতি ঘটেছিল যিনি শরী‘আত বিষয়ে নিজ প্রবৃত্তি থেকে কিছুই বলেন না। তিনি জাহেলকে শিক্ষা দিতেন, উদাসীনকে সতর্ক করতেন, হালাল-হারাম বাতলিয়ে দিতেন। সে সময় মতবিরোধকালীন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথাটিই হত চূড়ান্ত ফায়ছালা।

আল্লাহর নবীর যামানায় ফিক্বহী জ্ঞান বেশ কয়েকটি বিষয় দ্বারা বিদিতঃ

১-কোন ঘটনার বিধান রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া, যেমন তাঁর বাণীঃ

( مَنْ بَدَّلَ دِيْنَهُ فَاقْتُلُوْهُ )[ رواه البخاري، كتاب الجهاد والسير، باب لا يعذب بعذاب الله (১৪৯) ، حديث رقم (৩০১৭)].

‘যে তার ধর্ম পরিবর্তন করবে তাকে তোমরা হত্যা কর।’ (বুখারী জিহাদ.. অধ্যায়,হা/৩০১৭)

এটা মূলতঃ উল্লেখিত মাসআলায় নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুকুম।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণীঃ

( وَلا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ )[ النساء :২২১]

আর তোমরা মুশরিক মহিলাদেরকে বিয়ে করবে যতক্ষণ না তারা ঈমান না আনবে।’ (আন্ নিসাঃ২২১)

২-রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে তাঁর ছাহাবীদের কিছু আমল সমর্থন করা এবং তাদের অপর কিছু আমলের ভুল ধরা। যেমনঃ

(ক) নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে ঐ ব্যক্তির সমর্থন জানানো যে পানি না পাওয়ায় তাইয়াম্মুম করে ছালাত আদায় করে ছিল, অতঃপর উক্ত ছালাতের সময় বের হওয়ার পূর্বেই পানি পেয়ে গেছিল (কিন্তু সে ছালাত আর পুনরায় আদায় করেনি)। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সমর্থন করে বলেছিলেনঃ ‘তুমি সুন্নাত অনুযায়ী কাজ করেছ। (আবু দাউদ, পবিত্রতা অধ্যায়, হা/৩৩৮, নাসায়ী, গোসল এবং তায়াম্মুম অধ্যায়,হা/হা/৪৩৩)

(খ) নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে উসামাহ বিন যায়দকে নিন্দা জ্ঞাপন করা যখন তিনি এমন একজন মুশরিককে হত্যা করে ছিলেন যে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পাঠ করে ছিল। উসামা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বলেছিলেনঃ সে তো উক্ত কালেমা পাঠ করে ছিল তরবারীর ভয়ে! এরই প্রেক্ষিতে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে ছিলেনঃ

( هَلْ شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ؟ )[ رواه مسلم، كتاب الإيمان في باب تحريم قتل الكافر بعد أن قال : لا إله إلا الله (৪১) حديث رقم (১৫৮)]

‘তুমি কি তার অন্তর ফেড়ে দেখেছ?’ (মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, হা/১৫৮) [এই হাদীছ প্রমাণ করে যে ছাহাবায়ে কেরাম নিষ্পাপ নন, তবে ইহা তাদের আদালত-ন্যায় পরায়ণতা ও ফযীলতে মোটেও ক্ষতি করবে না।]

৩-নির্দিষ্ট কোন কর্মের প্রচার ও প্রসার হওয়ার পরও নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা থেকে নিষেধ করেননি এবং কুরআনও নাযিল হয়নি উক্ত বিষয় হারাম করার ক্ষেত্রে। এরূপ অবস্থায় উক্ত কর্ম বৈধ হওয়া প্রমাণ করে। যেমন স্ত্রীদের সাথে সহবাসকালীন বীর্য বাইরে ফেলার বিষয়টি বৈধ। কারণ জাবের (রাঃ) বলেনঃ

( كُنَّا نَعْزِلُ وَ الْقُرْآنُ يَنْزِلُ )[ رواه البخاري، كتاب النكاح، حديث (৫২০৮، ৫২০৯) ، ومسلم، باب حكم العزل، رقم الحديث (১০৬৫)]

‘আমরা স্ত্রীদের সাথে আযল করতাম অথচ কুরআন সে সময় নাযিল হচ্ছিল।’ (বুখারী, বিবাহ অধ্যায়, হা/৫০২৮,৫০২৯)

৪-এমন কিছু অবস্থার সৃষ্টি হওয়া যে ক্ষেত্রে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত কোন কিছু বলা থেকে বিরত থাকতেন যতক্ষণ না সে বিষয়ের বর্ণনায় কুরআন নাযিল হত। যেমনঃ যেহারের বিধান...প্রভৃতি।