১
শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়
লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬২
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর অন্যতম বিষয় হল নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে জানা
ছাহাবী হলেন প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি যিনি নবী কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ঈমানের অবস্থায় সাক্ষাৎ করেছেন এবং ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করেছেন। ছাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম ছাহাবী হলেনঃ আবু বকর রা.,অতঃপর উমার রা., অতঃপর উছমান রা. অতঃপর আলী রা.। অতঃপর,আশারায়ে মুবাশ্শারাহ্ (তথা জান্নাতের শুভ সংবাদ প্রাপ্ত) ১০ জন। অতঃপর বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী ব্যক্তিগণ। এবং তাদের সকলেই যোগ্য উলামায়ে দ্বীনের নিকট ন্যায় পরায়ণ। তাদের মন্দ কর্মগুলি তাঁদের নেকীর সাগরে ডুবে গিয়েছে। আল্লাহ্ তাঁদের উপর রাযী হয়ে গেছেন এবং তারাও আল্লাহ তাআলার প্রতি সন্তুষ্ট। মুসলিম ব্যক্তির কর্তব্য হল, ছাহাবায়ে কেরামের মাঝে পরষ্পরে যা ঘটে সেসব বিষয়ে নিজেকে জড়াবে না। কারণ এতে করে তাদের কারো কারো প্রতি অন্তর বিদ্বেষী হয়ে উঠতে পারে। (যা মোটেও উচিত নয়)। ক্বাহত্বানী (রহ.) বলেনঃ
دع ما جرى بين الصحابة في الوغى بسيوفهم يوم التقى الجمعان
فقتيلهم منهـــم وقاتلهم لهم وجميعهم في الحشر مرحومان
অর্থঃ ছাহাবীদের মাঝে উভয় দলে যুদ্ধে তরবারীসহ যা সংঘটিত হয়েছে আপনি তা ছেড়ে দিন। কারণ তাঁদের নিহত ব্যক্তি, তাঁদের হত্যাকারী ব্যক্তি এবং তাঁদের সকলেই হাশরের দিনে (আল্লাহর) রহমত প্রাপ্ত।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান স্থাপনকারী প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হল, সে এই মর্মে একান্তভাবে জেনে রাখবে যে মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাহাবীগণই এই দ্বীনের তাবলীগ করেছেন। তাঁদের মাধ্যমেই আমাদের নিকট মহাগ্রন্থ আল্ কুরআন ও নবী করীম মুস্তফা ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত এসেছে। অতএব, একমাত্র যে জাহেল সে ব্যতীত অন্য কেউ তাঁদের ফযীলত অস্বীকার করবে না। একমাত্র পথভ্রষ্ট বা হিংসুক ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউই তাদেরকে গাল-মন্দ করবে না। এই ছাহাবায়ে কেরাম হলেন একটি নির্বাচিত গোষ্ঠি, তারাই হলেন সৃষ্টির সেরা। তাঁরা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাহাবী হওয়ার সম্মান-গৌরব অর্জন করেছেন। তাঁদেরকে যে গালি দেবে সে মূলতঃ দ্বীনে ইসলামকেই গালি দেয়। কারণ, এই ছাহাবায়ে কেরামই হলেন এই দ্বীনে ইসলামের ধারক ও বাহক। তাঁদের ফযীলত ও মহত্ব বর্ণনায় কুরআন ও সুন্নাহর দলীলসমূহ এবং পূর্বসুরী ও উত্তরসুরি ওলামায়ে দ্বীনের বাণীসমূহ মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু কাছীর রহ. মহান আল্লাহর নিম্মোক্ত বাণীর তাফসীরে বলেনঃ
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَاناً وَإِثْماً مُبِيناً (৫৮)[ الأحزاب ]
অর্থঃ মুমিন নর ও মুমিন নারী কোন অপরাধ না করা সত্ত্বেও যারা তাদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও পাপের বোঝা বহন করে। (আল্ আহযাবঃ৫৮)
‘এটাই হল প্রকাশ্য অপবাদ যে মুমিনদের বিষয়ে দোষারোপ ও মানহানি করার জন্য এমন কিছু উদ্ধৃত করা হবে যা তারা মোটেও করেনি। এই শাস্তির বিধানে যারা অধিকহারে প্রবেশ করবে তারা হল আল্লাহ এবং তদীয় রাসূলের সাথে কুফরীকারী। অতঃপর যারা রাফেযা তথা আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে চরম ভক্তিকারী যারা ছাহাবীদেরকে সমালোচনা করে এবং তাদেরকে এমন এমন বিষয়ের অভিযোগ টেনে দোষারোপ করে যা থেকে আল্লাহ্ তাদেরকে পাক ও মুক্ত রেখেছেন। এবং আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে যা খবর দিয়েছেন, তারা তার বিপরীত গুণে তাঁদেরকে গুণাম্বিত করে। কারণ মহান আল্লাহ্ এই মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুহাজির ও আনছারী ছাহাবীদের উপর রাযী-খুশী হয়ে গেছেন। তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন। অথচ এই বিবেকহীন জাহেল সম্প্রদায় তাদেরকে গাল-মন্দ করে তাদেরকে দোষারোপ করে এবং তাদের সম্পর্কে এমন এমন বিষয় উল্লেখ করে যা কোন দিনই ঘটেনি এবং তারা কখনই করেননি। এরা প্রকৃত অর্থে বিকৃত অন্তরের অধিকারী এরা প্রশংসিতদের এভাবেই বদনাম করে থাকে। (তাফসীর ইবনু কাছীর ৬/৪৮০,সূরায়ে আহযাবের ৫৮ নং আয়াতের তাফসীরের আলোচনা দ্রষ্টব্য)।
دع ما جرى بين الصحابة في الوغى بسيوفهم يوم التقى الجمعان
فقتيلهم منهـــم وقاتلهم لهم وجميعهم في الحشر مرحومان
অর্থঃ ছাহাবীদের মাঝে উভয় দলে যুদ্ধে তরবারীসহ যা সংঘটিত হয়েছে আপনি তা ছেড়ে দিন। কারণ তাঁদের নিহত ব্যক্তি, তাঁদের হত্যাকারী ব্যক্তি এবং তাঁদের সকলেই হাশরের দিনে (আল্লাহর) রহমত প্রাপ্ত।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান স্থাপনকারী প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হল, সে এই মর্মে একান্তভাবে জেনে রাখবে যে মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাহাবীগণই এই দ্বীনের তাবলীগ করেছেন। তাঁদের মাধ্যমেই আমাদের নিকট মহাগ্রন্থ আল্ কুরআন ও নবী করীম মুস্তফা ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত এসেছে। অতএব, একমাত্র যে জাহেল সে ব্যতীত অন্য কেউ তাঁদের ফযীলত অস্বীকার করবে না। একমাত্র পথভ্রষ্ট বা হিংসুক ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউই তাদেরকে গাল-মন্দ করবে না। এই ছাহাবায়ে কেরাম হলেন একটি নির্বাচিত গোষ্ঠি, তারাই হলেন সৃষ্টির সেরা। তাঁরা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাহাবী হওয়ার সম্মান-গৌরব অর্জন করেছেন। তাঁদেরকে যে গালি দেবে সে মূলতঃ দ্বীনে ইসলামকেই গালি দেয়। কারণ, এই ছাহাবায়ে কেরামই হলেন এই দ্বীনে ইসলামের ধারক ও বাহক। তাঁদের ফযীলত ও মহত্ব বর্ণনায় কুরআন ও সুন্নাহর দলীলসমূহ এবং পূর্বসুরী ও উত্তরসুরি ওলামায়ে দ্বীনের বাণীসমূহ মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু কাছীর রহ. মহান আল্লাহর নিম্মোক্ত বাণীর তাফসীরে বলেনঃ
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَاناً وَإِثْماً مُبِيناً (৫৮)[ الأحزاب ]
অর্থঃ মুমিন নর ও মুমিন নারী কোন অপরাধ না করা সত্ত্বেও যারা তাদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও পাপের বোঝা বহন করে। (আল্ আহযাবঃ৫৮)
‘এটাই হল প্রকাশ্য অপবাদ যে মুমিনদের বিষয়ে দোষারোপ ও মানহানি করার জন্য এমন কিছু উদ্ধৃত করা হবে যা তারা মোটেও করেনি। এই শাস্তির বিধানে যারা অধিকহারে প্রবেশ করবে তারা হল আল্লাহ এবং তদীয় রাসূলের সাথে কুফরীকারী। অতঃপর যারা রাফেযা তথা আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে চরম ভক্তিকারী যারা ছাহাবীদেরকে সমালোচনা করে এবং তাদেরকে এমন এমন বিষয়ের অভিযোগ টেনে দোষারোপ করে যা থেকে আল্লাহ্ তাদেরকে পাক ও মুক্ত রেখেছেন। এবং আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে যা খবর দিয়েছেন, তারা তার বিপরীত গুণে তাঁদেরকে গুণাম্বিত করে। কারণ মহান আল্লাহ্ এই মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুহাজির ও আনছারী ছাহাবীদের উপর রাযী-খুশী হয়ে গেছেন। তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন। অথচ এই বিবেকহীন জাহেল সম্প্রদায় তাদেরকে গাল-মন্দ করে তাদেরকে দোষারোপ করে এবং তাদের সম্পর্কে এমন এমন বিষয় উল্লেখ করে যা কোন দিনই ঘটেনি এবং তারা কখনই করেননি। এরা প্রকৃত অর্থে বিকৃত অন্তরের অধিকারী এরা প্রশংসিতদের এভাবেই বদনাম করে থাকে। (তাফসীর ইবনু কাছীর ৬/৪৮০,সূরায়ে আহযাবের ৫৮ নং আয়াতের তাফসীরের আলোচনা দ্রষ্টব্য)।