hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩

১৭-কোন কথা ও কাজটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ের জ্ঞান রাখা :

দাঈর উচিত হল, যা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তাই দিয়ে সূচনা করবেন। এরপর তা দিয়ে সূচনা করবেন যা মোটামোটি গুরুত্বপূর্ণ। এটা রাসূল সা. ও ছাহাবায়ে কিরামের পদ্ধতি। তাই তো রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু‘আয রা. কে ইয়ামানে প্রেরণকালীন এই মর্মে নির্দেশ ছিলেন যেন তিনি তাদেরকে তাওহীদের দিকে আহবান করবেন, অতঃপর ছালাতের দিকে, অতঃপর যাকাত প্রভৃতির দিকে...। (বুখারী, যাকাত অধ্যায়, হা/১৩৯৫)।

দাঈ থেকে যা প্রথম তলব করা হবে তা হল ইহাই যে তিনি সর্ব প্রথম লোকদের আক্বীদাহ্ পরিশুদ্ধ করবেন। সুতরাং যার নিকট শিরক ও পাপ রয়েছে চাই তা ছোট হোক বা বড়, তার সংস্কার করবেন। দাঈর উচিত, তিনি সর্ব প্রথম ঐ ব্যক্তির আক্বীদাহ বিশুদ্ধ করা শুরূ করবেন। এমন না হয় যে সে কাউকে ধুমপান থেকে নিষেধ করবে অথচ সে ব্যক্তি কবর পূজায়, কবরের চতুর্পাশ তওয়াফ করা, তার জন্য নযর-মান্নত পেশ করায় যথেষ্ট আসক্ত। তদ্রূপ ঐ ব্যক্তিও যে কোন ব্যক্তিকে দাড়ি মুন্ডন করার জন্য ওয়ায করে অথচ সে জুমুআহ্ ও জামা‘আত পরিত্যাগকারী; ছালাতই সে আদায় করে না।

অতএব দাঈ,মানুষের আক্বীদাহ বিশুদ্ধ করার পর ভয়াবহতা হিসাবে বিভিন্ন ধরনের পাপ থেকে সতর্কীকরণ শুরূ করবে। যেমন সূদ ভক্ষণ অবশ্যই ধুম পান অপেক্ষা মারাত্মক। অবশ্য এর অর্থ এমন নয় যে, অন্যান্য সকল পাপকে ছোট চোখে দেখা হচ্ছে। বরং উদ্দেশ্য হল নবী কারীম সা. এর অনুসৃত পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়া। আর এটাকেই ‘ফিকহুল আওলাবিয়্যাত’ বলা হয় যার অর্থ হল ‘কোন্ কোন্ বিষয়গুলি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ের জ্ঞান’। [অবশ্য একথাও লক্ষ্য রাখতে হবে যে,ইহার অর্থ এমন নয় যা কেউ কেউ ধারণা করে বসেছে-যে সর্ব প্রথম আক্বীদাহ্ দিয়ে শুরূ করতে হবে এবং বাকী সব কিছু পরিত্যাগ করে দিতে হবে। এর পর শরঈ আহকাম তথা ছালাত,ছিয়াম,যাকাত,ছওম,হারামকৃত বস্ত্ত গুলির হারাম করণ যেমন যেনা-ব্যভিচার,মদ্যপান প্রভৃতির দিকে অগ্রসর হতে হবে। এমন ধারণা করা নিতান্তই ভুল। কারণ এই ইসলাম ধর্ম পরিপূর্ণ। যারা ছালাত ও যাকাতে পার্থক্য করতে চেয়ে ছিল তাদের বিরুদ্ধে আবু বাকর (রাঃ)যুদ্ধ করেছিলেন। কাফের ইসলাম কবুল করলে আমরা তাকে ছালাতের তা’লীম দিব এবং ছালাত আদায় করার নির্দেশ করব। তাকে হালাল হারাম বাতলিয়ে দিব। এজন্যই আমি বলছি,দাড়ি মুন্ডনকারী ছালাত ত্যাগকারীকে আগে ছালাতের বিষয়ে তাকীদ দেওয়া ভাল তবে এর অর্থ এমন নয় যে তাকে দাড়ি বিষয়ে সতর্ক করা যাবে না,দাড়ি বাড়ানোর (ছেড়ে রাখার) দাওয়াত দেওয়া যাবে না। এভাবে বাকী সমস্ত বিষয়... (আল্ মাহমূদ)।]