hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

৬-দাঈ, দাওয়াতকৃত ব্যক্তিকে তুচ্ছ মনে করবেন না, যদিও সে দুর্বল বা দরিদ্র হয়ে থাকে :

নিশ্চয় দাওয়াতদানকারীর দায়িত্ব হল মানুষদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা এবং মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে মানুষের প্রতিপালকের দাসত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া। সুতরাং যেরূপ আমরা ধনী ও সম্মানিত ব্যক্তিদের উপর জাহান্নামের আগুন ও তার ভয়াবহতার ভয় করি তদ্রূপ আমরা দরিদ্র ও দুর্বলদের ক্ষেত্রেও ভয় করি। কারণ তারাও অনুরূপ এমন ব্যক্তির মুখাপেক্ষী যে তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাবে এবং মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর ইবাদতের প্রতি তাদেরকে দিক নির্দেশনা করবে। দাঈর কর্তব্য হল ইহাই যে, তিনি আরবী ও আজমীর মধ্যে, কালো, সাদা, সম্মানিত ও নীচু ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করবেন না। অতএব যেভাবে তিনি ক্ষমতাসীন ও সমাজের গণ্যমানদের সাথে নম্রতা ও হিকমতের সাথে কথা বলবেন ঠিক তদ্রূপ আচরণ করবেন অন্যান্য সকল প্রকার মানুষের সাথে। কারণ তারা সকলে আল্লাহর নিকট বরাবর তাদের কেউ কারও থেকে বেশী ফযীলত মন্ডিত হবে না বংশ মর্যাদার কারণে। বরং মর্যাদা নির্ণিত হবে কেবল তাক্বওয়া-পরহেযগারির ভিত্তিতে। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ

( إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ )[ الحجرات :১৩]

‘নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে যে বেশী আল্লাহ্ভীরু সেই আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত।’ (সূরা আল্ হুজুরাত : ১৩)।

নিশ্চয় দাঈ কোন কোন সময় ক্ষমতাসীন মহল ও সমাজের মান্যগণ্য থেকে নয় বরং দুর্বল ও দরিদ্র শ্রেণীর মাধ্যমে দুঃখ- কষ্টের স্বীকার হতে পারে। বস্ত্তত এটা তার উপর এক প্রকার কষ্ট বটে। এ ক্ষেত্রে তার উচিত তা সহ্য করে নেওয়া। কারণ স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেতৃস্থানীয় লোকদের পক্ষ থেকে কষ্ট-ক্লেশের শিকার হয়েছেন যেমন আবুজাহল্ প্রমুখ। আবার নিম্নমানের লোকদের মাধ্যমেও কষ্টের শিকার হয়েছেন। যেমনটি তাঁর তায়েফে যাওয়ার প্রাক্কালে ঘটেছিল। বরং ইসলামের পতাকা উর্ধ্বমুখী ও তার অনুসারীদের শক্তিশালী ও নিজ রাষ্ট্রীয় শক্তি পুষ্ট হওয়ার পরও তিনি এমন এমন আরব্য বেদুঈন দ্বারা কষ্ট পেয়েছেন যারা দুনিয়ার কোন কিছুরই মালিক ছিল না। বস্ত্তত এগুলো সবই পরীক্ষার বিভিন্ন চিত্র যদিও এগুলোর উৎস বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন প্রকৃতির। অতএব দাঈর কর্তব্য হল সমস্ত প্রকার দু:খ্য-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করা। তার উচিত দাওয়াতকৃত ব্যক্তিদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ, বিরক্তি প্রভৃতির উপর ধৈর্য ধারণ করা। মহান আল্লাহ বলেনঃ

( وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ )[ لقمان :১৭]

‘আর তুমি ন্যায়ের আদেশ কর, অন্যায় থেকে নিষেধ কর, আর তোমার নিকট (দু:খ-কষ্ট হতে) যা পৌছে থাকে তাতে ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় ইহা সুদৃঢ় বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্ত। ’(সূরা লোক্বমান : ১৭)