hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

১০-দাঈর উচিত দাওয়াতকৃত ও শ্রোতা ব্যক্তিদের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা:

আল্লাহ্ নবীদেরকে তাদের স্বজাতি থেকে বরং তাদের বংশ থেকে নির্বাচন করেছেন। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ

( كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ الْمُرْسَلِينَ . إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلا تَتَّقُونَ ) [ الشعراء ১০৫- ১০৬]

‘নূহের সম্প্রদায় রাসূলদেরকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে। যখন তাদেরকে তাদেরই ভাই নূহ্ বললেন: তোমরা কি ভয় করবে না? (সূরা আশ্ শু‘আরা : ১০৫-১০৬)

মহান আল্লাহ্ আরো বলেনঃ

( إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلا تَتَّقُونَ ) [ الشعراء : ১২৪]

‘যখন তাদেরকে তাদের ভাই হূদ বললেনঃ তোমরা কি ভয় করবে না? (সূরা আশ্ শু‘আরা :১২৪)

মহান আল্লাহ্ আরো বলেনঃ

( إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَالِحٌ أَلا تَتَّقُونَ ) [ الشعراء : ১৪২]

‘যখন তাদেরকে তাদের ভাই ছালেহ বললেন: তোমরা কি ভয় করবে না?’ (সূরা আশ্ শু‘আরাঃ১৪২)

অনুরূপভাবে আল্লাহ্ নবীদেরকে এমন এমন মুজিযাহ্ -অলৌকিক বিষয়- দান করে শক্তিশালী করেছেন যা তাদের কওমের নিকট পরিচিত বিষয় এবং যা দ্বারা তারা অন্যদের উপর বিশেষত্ব অর্জন করেছেন। আল্লাহ্ নবীদেরকে মুজিযাহ্-অলৌকিক বিষয় ও নবুওতের দলীল দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। সে কারণে তারা জানতে পেরেছে যে, এগুলো মানবরচিত নয়।

ঈসা আলাইহিস্ সালাম এর কওম ডাক্তারী বিদ্যায় প্রসিদ্ধি লাভ করে ছিল বলে ঈসা আলাইহিস্ সালাম এর মুজিযা ছিল ডাক্তারী সংক্রান্ত তথা মৃতদেরকে জীবিত করণ। কুরাইশরা বক্তৃতা, বাগ্মিতা ও সাহিত্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল, তাই তো নবী কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বাধিক মহান ও স্থায়ী মুজিযা হল আল্ কুরআনুল কারীম। এজন্যই আল্লাহ্ শ্রোতাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দাওয়াতের পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ্ বলেন :

( ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ) [ النحل :১২৫]

‘তুমি তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর হিকমত ও উত্তম নছীহতের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে উত্তমভাবে বিতর্ক কর।’ (সূরা আন্ নাহ্ল : ১২৫)

ইহাই মূলত: যাকে দাওয়াত দেয়া হবে তার অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখার দলীল। এজন্যই ইবনুল ক্বায়্যিম রহ. তাঁর তাফসীরে বলেনঃ

আল্লাহ্ দাওয়াতের স্তরসমূহ সৃষ্টিকুলের স্তর অনুযায়ী নির্ধারণ করেছেন

(ক) দাওয়াত কবুলকরার যোগ্য ও চালাক-চতুর ব্যক্তি যে হকের বিরোধিতা করে না, তা অস্বীকারও করে না। এরূপ ব্যক্তিকে হিকমতের সাথে দাওয়াত দিতে হবে।

(খ)দাওয়াত কবুল করার যোগ্য তবে তার নিকট কিছু অলসতা ও পশ্চাদমুখিতা রয়েছে -এরূপ ব্যক্তিকে উত্তম ওয়ায-নছীহতের মাধ্যমে দাওয়াত দিতে হবে। তথা ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায় থেকে নিষেধ করতে হবে তারগীব বা উদ্দীপন ও তারহীব বা ভীতি প্রদর্শন সূচক আয়াত ও হাদীছ পাঠের মাধ্যমে তাদেরকে বুঝাতে হবে।

গ) হটকারিতাকারী কিন্তু মূখ নয় র্: এর সাথে উত্তম আচরণের মাধ্যমে বিতর্ক করতে হবে।

নিশ্চয় দাঈ হবেন একজন দয়ালু মানুষ। তাঁর উচিত হল শ্রোতাদের অবস্থা, তাদের মানসিক, সামাজিক, অবস্থা ও সময়ের প্রতি খেয়াল রাখা। কারণ, কোন মানুষ নির্দিষ্ট এক সময় দাওয়াত গ্রহণ করতে পারে আবার অন্য সময়ে তা প্রত্যাখ্যানও করতে পারে। তার উদ্দেশ্য শুধু মাত্র দাওয়াত পৌঁছানো ও হুজ্জত কায়েম করাই হবে না, বরং মানুষের দাওয়াত গ্রহণ করার উপর লালায়িত হবেন। অতএব যদি হুজ্জত কায়েম করার সাথে সাথে দাওয়াত গৃহীত হয় তবে তো মূল উদ্দেশ্যই হাসিল হয়ে গেল। আর যদি দাওয়াত গৃহীত না হয় কিন্তু হুজ্জত কায়েম হয়ে যায় তবে এদ্বারা দায়ভার মুক্ত হওয়া যাবে।