১
শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়
লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬১
‘তাওয়াস্সুল’ তথা অসীলাহ অবলম্বনের প্রকারসমূহঃ
এই অসীলাহ্ অবলম্বন দুই ভাগে বিভক্তঃ
ক-শরী‘আত সম্মত অসীলাহ্ঃ
এই শরী‘আত সম্মত অসীলাহ্ তিন ভাগে বিভক্তঃ
১-আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা তাঁর নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ
وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا [ الأعراف :১৮০]
‘আর আল্লাহর রয়েছে অতীব সুন্দর নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁর নিকট দু‘আ নিবেদন কর সেগুলির অসীলায়। (আল্ আরাফঃ১৮০)
এই প্রকারটি শরী‘আত সম্মত অসীলাহ গ্রহণের সর্বাধিক মহান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকার।
২-এমন সৎ কর্ম দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যা দুআকারী নিজে সম্পাদন করেছে। যেমনঃ (মুমিনদের ভাষায়) মহান আল্লাহর বাণীঃ
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (১৬)[ آل عمران ]
‘হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা ঈমান আনয়ন করেছি। সুতরাং আপনি আমাদের গুণাহ্গুলি মার্জনা করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (আলে ইমরানঃ১৬)
(লক্ষ্যণীয় বিষয় যে) এখানে তারা সৎ কর্ম-কে অসীলাহ্ হিসাবে গ্রহণ করেছে যা নিজেরাই সম্পাদন করেছে। অনুরূপভাবে পাহাড়ের গুহা ওয়ালাদের ঘটনা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য (যেখানে তারা পাহাড়ের উপর থেকে বিরাট একটি পাথর পড়ে গিয়ে গর্তের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবরুদ্ধ হয়ে গেছিল। কিন্তু তারা নিজ নিজ সৎ কর্মের দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল। ফলে পাহাড়ের গর্ত মুখ থেকে উক্ত বিশাল পাথর আল্লাহ সরিয়ে দিয়ে তাদেরকে মুক্তি দান করেছিলেন) [দ্রষ্টব্যঃ বুখারী, ইজারা-ভাড়া দেওয়া অধ্যায়। অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কোন শ্রমিককে শ্রমে লাগালো অথচ সে শ্রমিক তার পারিশ্রমিক ছেড়ে দিল। হা/২২৭২।]
৩-সৎকর্মশীল জীবিত ও উপস্থিত ব্যক্তির দু‘আ দ্বারা অসীলাহ্ গ্রহণঃ
এভাবেই ছাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বারা তাঁর জীবদ্দশায় (অনা বৃষ্টির সময়) বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতেন। তাঁরা তাঁর নিকট এসে তাদের জন্য দু‘আ করতে বলতেন। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিরোধানের পর ছাহাবায়ে কেরাম আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু এর দ্বারা (আল্লাহর কাছে) বৃষ্টি প্রার্থনা করেছিলেন [বুখারী ২/৩৯৮, তাবাক্বাতে ইবনু সাদ ৪/২৮-২৯।] কারণ তাঁরা জানতেন যে, মৃত ব্যক্তি দ্বারা অসীলাহ্ গ্রহণ জায়েয নয়।
অনুরূপভাবে ছাহাবী মুআবিয়া (রাঃ) কর্মও এই পর্যায়ের অসীলায় পড়ে। যখন তিনি ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদকে দিয়ে আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। ঐসময় তিনি বলে ছিলেনঃ উঠে দাঁড়াও হে অধিক ক্রন্দনকারী! এতদশ্রবণে তিনি মিম্বারে উঠে যান এবং মু‘আবিয়া (রাঃ) বলেনঃ হে আল্লাহ্ আমরা আপনার নিকট আমাদের মধ্যে যিনি সর্বাধিক উত্তম ও ফযীলতমন্ডিত তাকে দিয়ে আমরা আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। এর পর ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ দু‘আ করলে আল্লাহর অনুগ্রহে বৃষ্টি নাযিল হয়েছিল। (আছারটিকে হাফেয ইবনু আসাকির ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। দ্রঃ ইবনু আসাকির প্রণীত ‘তারীখে দেমাশক ১৮/১৫১/১)।
খ)-হারাম অসীলাহ্ঃ যেমন মৃত ব্যক্তিকে ‘অসীলাহ্’ হিসাবে গ্রহণ করা। অনুরূপভাবে মানুষের এভাবে বলাঃ
হে আল্লাহ্! আপনার নবীর হকের অসীলায়, অথবা ‘আপনার নিকট’ তার যে মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে তার অসীলায় আমাকে সুস্থতা-নিরাপত্তা দান করুন, আমাকে ক্ষমা করুন। অথবা তাদের এইভাবে কথা বলা যে, হে আল্লাহ্! ওমুক অলী, ওমুক সৎব্যক্তির মর্যাদায়...। অথবা তাদের এরূপ কথা বলাঃ
‘অমুক ব্যক্তির যে সম্মান আপনার নিকট রয়েছে তার অসীলায় বা আমরা যার নিকট উপস্থিত তার মর্যাদার অসীলায় আমাদের থেকে বিপদ সরিয়ে দিন অথবা আমাদেরকে (রুযী প্রভৃতিতে) প্রশস্ততা দান করুন। ইত্যাদি ইত্যাদি যা জায়েয নয়। এগুলো সবই ‘হারাম অসীলাহ’ এর অন্তর্ভূক্ত। বিভ্রান্ত সূফীগণ এই প্রকার অসীলাহ্কে বৈধ করতে যেয়ে যা কিছু পেশ করে থাকে তার সিংহভাগই দুর্বল অথবা বানোয়াট দলীল। যা প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা জায়েয নয়। আর ঐ সকল দলীলের মধ্যে যেটি বিশুদ্ধ তাতে মূলতঃ তাদের দাবীর পক্ষে কোনই কথা নেই [এই মর্মে যে আরো অধিক জানতে চায় সে যেন শাইখ আলবানীর বই ‘আত্ তাওয়াস্ সুলু আনওয়াউহূ ওয়া আহক্বামুহু। এটি মুহাম্মাদ ঈদ আল্ আববাসী সংকলন করেছেন। এটি ‘আল্ মাকতাবুল ইসলামীর অন্যতম প্রকাশনা।]।
ক-শরী‘আত সম্মত অসীলাহ্ঃ
এই শরী‘আত সম্মত অসীলাহ্ তিন ভাগে বিভক্তঃ
১-আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা তাঁর নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ
وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا [ الأعراف :১৮০]
‘আর আল্লাহর রয়েছে অতীব সুন্দর নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁর নিকট দু‘আ নিবেদন কর সেগুলির অসীলায়। (আল্ আরাফঃ১৮০)
এই প্রকারটি শরী‘আত সম্মত অসীলাহ গ্রহণের সর্বাধিক মহান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকার।
২-এমন সৎ কর্ম দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যা দুআকারী নিজে সম্পাদন করেছে। যেমনঃ (মুমিনদের ভাষায়) মহান আল্লাহর বাণীঃ
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (১৬)[ آل عمران ]
‘হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা ঈমান আনয়ন করেছি। সুতরাং আপনি আমাদের গুণাহ্গুলি মার্জনা করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (আলে ইমরানঃ১৬)
(লক্ষ্যণীয় বিষয় যে) এখানে তারা সৎ কর্ম-কে অসীলাহ্ হিসাবে গ্রহণ করেছে যা নিজেরাই সম্পাদন করেছে। অনুরূপভাবে পাহাড়ের গুহা ওয়ালাদের ঘটনা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য (যেখানে তারা পাহাড়ের উপর থেকে বিরাট একটি পাথর পড়ে গিয়ে গর্তের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবরুদ্ধ হয়ে গেছিল। কিন্তু তারা নিজ নিজ সৎ কর্মের দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল। ফলে পাহাড়ের গর্ত মুখ থেকে উক্ত বিশাল পাথর আল্লাহ সরিয়ে দিয়ে তাদেরকে মুক্তি দান করেছিলেন) [দ্রষ্টব্যঃ বুখারী, ইজারা-ভাড়া দেওয়া অধ্যায়। অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কোন শ্রমিককে শ্রমে লাগালো অথচ সে শ্রমিক তার পারিশ্রমিক ছেড়ে দিল। হা/২২৭২।]
৩-সৎকর্মশীল জীবিত ও উপস্থিত ব্যক্তির দু‘আ দ্বারা অসীলাহ্ গ্রহণঃ
এভাবেই ছাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বারা তাঁর জীবদ্দশায় (অনা বৃষ্টির সময়) বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতেন। তাঁরা তাঁর নিকট এসে তাদের জন্য দু‘আ করতে বলতেন। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিরোধানের পর ছাহাবায়ে কেরাম আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু এর দ্বারা (আল্লাহর কাছে) বৃষ্টি প্রার্থনা করেছিলেন [বুখারী ২/৩৯৮, তাবাক্বাতে ইবনু সাদ ৪/২৮-২৯।] কারণ তাঁরা জানতেন যে, মৃত ব্যক্তি দ্বারা অসীলাহ্ গ্রহণ জায়েয নয়।
অনুরূপভাবে ছাহাবী মুআবিয়া (রাঃ) কর্মও এই পর্যায়ের অসীলায় পড়ে। যখন তিনি ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদকে দিয়ে আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। ঐসময় তিনি বলে ছিলেনঃ উঠে দাঁড়াও হে অধিক ক্রন্দনকারী! এতদশ্রবণে তিনি মিম্বারে উঠে যান এবং মু‘আবিয়া (রাঃ) বলেনঃ হে আল্লাহ্ আমরা আপনার নিকট আমাদের মধ্যে যিনি সর্বাধিক উত্তম ও ফযীলতমন্ডিত তাকে দিয়ে আমরা আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। এর পর ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ দু‘আ করলে আল্লাহর অনুগ্রহে বৃষ্টি নাযিল হয়েছিল। (আছারটিকে হাফেয ইবনু আসাকির ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। দ্রঃ ইবনু আসাকির প্রণীত ‘তারীখে দেমাশক ১৮/১৫১/১)।
খ)-হারাম অসীলাহ্ঃ যেমন মৃত ব্যক্তিকে ‘অসীলাহ্’ হিসাবে গ্রহণ করা। অনুরূপভাবে মানুষের এভাবে বলাঃ
হে আল্লাহ্! আপনার নবীর হকের অসীলায়, অথবা ‘আপনার নিকট’ তার যে মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে তার অসীলায় আমাকে সুস্থতা-নিরাপত্তা দান করুন, আমাকে ক্ষমা করুন। অথবা তাদের এইভাবে কথা বলা যে, হে আল্লাহ্! ওমুক অলী, ওমুক সৎব্যক্তির মর্যাদায়...। অথবা তাদের এরূপ কথা বলাঃ
‘অমুক ব্যক্তির যে সম্মান আপনার নিকট রয়েছে তার অসীলায় বা আমরা যার নিকট উপস্থিত তার মর্যাদার অসীলায় আমাদের থেকে বিপদ সরিয়ে দিন অথবা আমাদেরকে (রুযী প্রভৃতিতে) প্রশস্ততা দান করুন। ইত্যাদি ইত্যাদি যা জায়েয নয়। এগুলো সবই ‘হারাম অসীলাহ’ এর অন্তর্ভূক্ত। বিভ্রান্ত সূফীগণ এই প্রকার অসীলাহ্কে বৈধ করতে যেয়ে যা কিছু পেশ করে থাকে তার সিংহভাগই দুর্বল অথবা বানোয়াট দলীল। যা প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা জায়েয নয়। আর ঐ সকল দলীলের মধ্যে যেটি বিশুদ্ধ তাতে মূলতঃ তাদের দাবীর পক্ষে কোনই কথা নেই [এই মর্মে যে আরো অধিক জানতে চায় সে যেন শাইখ আলবানীর বই ‘আত্ তাওয়াস্ সুলু আনওয়াউহূ ওয়া আহক্বামুহু। এটি মুহাম্মাদ ঈদ আল্ আববাসী সংকলন করেছেন। এটি ‘আল্ মাকতাবুল ইসলামীর অন্যতম প্রকাশনা।]।