hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৩

ইলমে তাফসীরের গুরুত্বঃ

নিশ্চয় আল্লাহ্ এই সৃষ্টিকূলকে কুরআন দ্বারা তাঁর ইবাদত করতে বলেছে। কুরআনে শামিল রয়েছে এমন এমন আক্বীদাহ্-বিশ্বাস, বিধি-বিধান এবং আদব-আখলাক যার অধিকাংশই ইলমে তাফসীর ভিন্ন অন্য কোন পথে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয় আর তার কারণ নিম্নরূপঃ

১-কুরআন ভাষা অলংকারের সর্বশীর্ষে উন্নীত। তা বহুবিধ অর্থকে অল্প শব্দে একত্রিত করে। আর এবিষয়টি আল্ কুরআনের সংক্ষিপ্তকে বিস্তারিত এবং দুর্বোধ্যকে খুলে বলার প্রয়োজন।

২-কুরআন অনেক সময় প্রকাশ্য অর্থ ছাড়াও আরো বিভিন্ন বিষয় উদ্দেশ্য সম্বলিত হয়, যা খুলে বলে দেয় এমন বিদ্যার মুখাপেক্ষী।

৩-কিছু কিছু আয়াত নির্দিষ্ট কারণে নাযিল হয়েছে। তাই (এজাতীয়) আয়াতের অর্থ বুঝা সম্ভব নয় যে যাবৎ তার নাযিল হওয়ার কারণ (প্রেক্ষাপট) না জানা যাবে। ইবনু দাক্বীক্বিলঈদ রহ. বলেনঃ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ বর্ণনা দেওয়া কুরআন বুঝার শক্তিশালী মাধ্যম। শাইখুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ্ -রহিমাহুল্লাহ্- বলেনঃ

( معرفة سبب النزول يعين في فهم الآية فإن العلم بالسبب يورث العلم بالمسبب )

‘আয়াত নাযিল হওয়ার কারণ (প্রেক্ষাপট) জানা আয়াত বুঝার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। কারণ কোন বিষয়ের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত হওয়ার মাধ্যমে যে কারণে তা ঘটেছে সে বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা যায়।

৪-ইবনু আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

( الذي يقرأ القرآن ولا يفسر كالأعرابي الذي يهذي بالشعر )

যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে অথচ তার তাফসীর করে না, সে ঐ গ্রাম্য ব্যক্তির ন্যায় যে তাড়াহুড়ার সাথে কবিতা আবৃত্তি করে।

মুজাহিদ বিন জাবর (রহিমাহুল্লাহ্) আরো বলেনঃ

( أحب الخلق إلى الله أعلمهم بما أنزل )

আল্লাহর নিকট সৃষ্টিকূলের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় সে ব্যক্তি যে তাঁর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয় সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।