১
শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়
লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭১
পঞ্চমভূমিকা: ইলমুস্ সুন্নাহ বিষয়ক জ্ঞান সম্পর্কে
আভিধানিক অর্থে সুন্নাত হলঃ যে কোন তরীক্বাহ্ বা পদ্ধতি, তা প্রশংসিত হোক বা নিন্দিত হোক। এই অর্থেই নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীটি-
مَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَىْءٌ وَمَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَىْءٌ [ أخرجه مسلم ৩/৮৬ برقم ২৩৯৮]
যে ব্যক্তি ইসলামের মাঝে ‘সুন্নাতে হাসানাহ্ -ভাল সুন্নাত’ জারী করবে সে উক্ত সুন্নাতের নেকী পাবে এবং যারা তার পরে তদানুযায়ী আমল করবে তাদেরও নেকী পাবে। তবে তাদের নেকী থেকে কোন কিছুই হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ইসলামের মধ্যে ‘মন্দ সুন্নাত’ জারী করবে তার উপর উক্ত মন্দ সুন্নাতের পাপ বর্তাবে, অনুরূপভাবে তাদেরর পাপ বর্তাবে যারা তার পরে তদানুযায়ী আমল করবে। অবশ্য এজন্য ঐ লোকদের পাপ থেকে কিছুই কমানো হবে না। (মুসলিম, ৩/৮৬, হা/২৩৯৮)
শরী‘আতের পরিভাষায় সুন্নাত হলঃ
( مَا أُثِرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَوْلٍ أَوْ فِعْلٍ أَوْ تَقْرِيْرٍ أَوْ صِفَةٍ خَلْقِيَّةٍ أَوْ خُلُقِيَّةٍ أَوْ سِيْرَةٍ سَوَاءٌ كَانَ قَبْلَ الْبِعْثَةِ أَوْ بَعْدَهَا ).
যা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা উদ্ধৃত করা হয়েছে, তা কথা হোক বা কাজ হোক, বা সমর্থন হোক, কিংবা তাঁর সৃষ্টিগত বা চারিত্রিক গুণ হোক, অথবা নবী হিসাবে প্রেরিত হওয়ার পূর্বের [যেমন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গারে হেরায় ইবাদত বন্দেগী করার বিষয়টি। যদিও কেউ কেউ মনে করেন যে ‘নবী হিসাবে প্রেরিত হওয়ার পূবের’ মর্মের কথাটি (সুন্নাতের সংজ্ঞায়) যুক্ত করা ছহীহ নয়। ওয়াল্লাহু আলাম।] বা পরের তাঁর জীবনীই হোক না কেন।
১-নবীর ক্বওলী সুন্নাত যেমন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীঃ
( إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ )[ رواه البخاري و مسلم ]
‘আমল মাত্রই নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল।’ (বুখারী,হা/১ ও মুসলিম)।
২-ফে’লী তথা কর্মগত সুন্নাতঃ
ছাহাবায়ে কেরাম-নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্ম হিসাবে ইবাদত প্রভৃতি বিষয় যেমন ছালাত, হজ, সিয়াম মর্মে যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন এই প্রকার সুন্নাতের মধ্যে শামিল রয়েছে।
৩-সমর্থনগত সুন্নাতঃ
এর মধ্যে শামিল রয়েছে ঐ সমস্ত কাজ-কর্ম যা কোন কোন ছাহাবী থেকে সংঘটিত হয়েছে এবং নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা সমর্থন করেছেন। যেমন তাঁর পক্ষ থেকে কতিপয় ছাহাবীর বনু কোরায়যা গৌত্রে আছর ছালাত আদায় করার বিষয়ে ইজতিহাদকে সমর্থন করা। যখন তিনি তাঁদেরকে বলে ছিলেনঃ
لاَ يُصَلِّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْعَصْرَ إِلاَّ فِى بَنِى قُرَيْظَةَ [ رواه البخاري ومسلم برقم ৪৭০১]
‘তোমাদের কেউই যেন বনু ক্বোরায়যা ছাড়া অন্য কোথাও আছর সালাত আদায় না করে। (বুখারী, হা/৪১১৯, মুসলিম, হা/৪৭০১)
কেউ কেউ এই নিষেধাজ্ঞাকে প্রকৃত অর্থেই মনে করে মাগরিবের পরবর্তী পর্যন্ত আছর ছালাত বিলম্বিত করেন। পক্ষান্তরে তাদের কেউ কেউ বুঝলেন যে, এ দ্বারা মূল উদ্দেশ্য হল ছাহাবীদেরকে দ্রুত পথ চলার বিষয়ে উৎসাহ যোগানো। তাই তারা আছর ছালাত সঠিক সময়ে আদায় করে নেন। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উভয় দলের কৃত কর্মের কথা পৌঁছলে তিনি তাদের সমর্থন করেন এবং তাদের কোন প্রতিবাদ করেননি।
مَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَىْءٌ وَمَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَىْءٌ [ أخرجه مسلم ৩/৮৬ برقم ২৩৯৮]
যে ব্যক্তি ইসলামের মাঝে ‘সুন্নাতে হাসানাহ্ -ভাল সুন্নাত’ জারী করবে সে উক্ত সুন্নাতের নেকী পাবে এবং যারা তার পরে তদানুযায়ী আমল করবে তাদেরও নেকী পাবে। তবে তাদের নেকী থেকে কোন কিছুই হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ইসলামের মধ্যে ‘মন্দ সুন্নাত’ জারী করবে তার উপর উক্ত মন্দ সুন্নাতের পাপ বর্তাবে, অনুরূপভাবে তাদেরর পাপ বর্তাবে যারা তার পরে তদানুযায়ী আমল করবে। অবশ্য এজন্য ঐ লোকদের পাপ থেকে কিছুই কমানো হবে না। (মুসলিম, ৩/৮৬, হা/২৩৯৮)
শরী‘আতের পরিভাষায় সুন্নাত হলঃ
( مَا أُثِرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَوْلٍ أَوْ فِعْلٍ أَوْ تَقْرِيْرٍ أَوْ صِفَةٍ خَلْقِيَّةٍ أَوْ خُلُقِيَّةٍ أَوْ سِيْرَةٍ سَوَاءٌ كَانَ قَبْلَ الْبِعْثَةِ أَوْ بَعْدَهَا ).
যা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা উদ্ধৃত করা হয়েছে, তা কথা হোক বা কাজ হোক, বা সমর্থন হোক, কিংবা তাঁর সৃষ্টিগত বা চারিত্রিক গুণ হোক, অথবা নবী হিসাবে প্রেরিত হওয়ার পূর্বের [যেমন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গারে হেরায় ইবাদত বন্দেগী করার বিষয়টি। যদিও কেউ কেউ মনে করেন যে ‘নবী হিসাবে প্রেরিত হওয়ার পূবের’ মর্মের কথাটি (সুন্নাতের সংজ্ঞায়) যুক্ত করা ছহীহ নয়। ওয়াল্লাহু আলাম।] বা পরের তাঁর জীবনীই হোক না কেন।
১-নবীর ক্বওলী সুন্নাত যেমন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীঃ
( إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ )[ رواه البخاري و مسلم ]
‘আমল মাত্রই নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল।’ (বুখারী,হা/১ ও মুসলিম)।
২-ফে’লী তথা কর্মগত সুন্নাতঃ
ছাহাবায়ে কেরাম-নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্ম হিসাবে ইবাদত প্রভৃতি বিষয় যেমন ছালাত, হজ, সিয়াম মর্মে যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন এই প্রকার সুন্নাতের মধ্যে শামিল রয়েছে।
৩-সমর্থনগত সুন্নাতঃ
এর মধ্যে শামিল রয়েছে ঐ সমস্ত কাজ-কর্ম যা কোন কোন ছাহাবী থেকে সংঘটিত হয়েছে এবং নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা সমর্থন করেছেন। যেমন তাঁর পক্ষ থেকে কতিপয় ছাহাবীর বনু কোরায়যা গৌত্রে আছর ছালাত আদায় করার বিষয়ে ইজতিহাদকে সমর্থন করা। যখন তিনি তাঁদেরকে বলে ছিলেনঃ
لاَ يُصَلِّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْعَصْرَ إِلاَّ فِى بَنِى قُرَيْظَةَ [ رواه البخاري ومسلم برقم ৪৭০১]
‘তোমাদের কেউই যেন বনু ক্বোরায়যা ছাড়া অন্য কোথাও আছর সালাত আদায় না করে। (বুখারী, হা/৪১১৯, মুসলিম, হা/৪৭০১)
কেউ কেউ এই নিষেধাজ্ঞাকে প্রকৃত অর্থেই মনে করে মাগরিবের পরবর্তী পর্যন্ত আছর ছালাত বিলম্বিত করেন। পক্ষান্তরে তাদের কেউ কেউ বুঝলেন যে, এ দ্বারা মূল উদ্দেশ্য হল ছাহাবীদেরকে দ্রুত পথ চলার বিষয়ে উৎসাহ যোগানো। তাই তারা আছর ছালাত সঠিক সময়ে আদায় করে নেন। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উভয় দলের কৃত কর্মের কথা পৌঁছলে তিনি তাদের সমর্থন করেন এবং তাদের কোন প্রতিবাদ করেননি।