hadith book logo

শরয়ী ইলম সংক্রান্ত কিছু জরূরী জ্ঞাতব্য বিষয়

লেখকঃ আবু আব্দিল ইলাহ্ ছালেহ্ বিন মুক্ববিল আল্ উছায়মী আত্ তামীমী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৩

ছাহাবায়ে কেরামের ফযীলত সংক্রান্ত দলীলগুলি এবার শুনুন (১) ছাহাবীদের ফযীলত সম্পর্কে কুরআন থেকে দলীলঃ

১-মহান আল্লাহ বলেনঃ

لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحاً قَرِيباً (১৮)[ الفتح ]

‘আল্লাহ রাযী হয়ে গেছেন মুনিদের উপর যখন তারা আপনার হাতে বায়‘আত করছিল বৃক্ষের নীচে। তাদের অন্তরের বিষয়াবলী তাঁর আগেই জানা ছিল। এরই প্রেক্ষিতে তিনি তাদের উপর শান্তি নাযিল করলেন এবং বিনিময় হিসাবে তাদেরকে প্রদান করলেন আসন্য বিজয়। (ফাতহঃ১৮)

২-মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ

مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً [ الفتح :২৯]

মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা রয়েছে -এরা কাফেরদের উপর কঠোর তবে তারা পরস্পরে দয়ালু। আপনি তাদেরকে দেখতে পাবেন রুকূ’ এবং সাজদাহ্ রত অবস্থায় এদ্বারা তারা কামনা করে আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ এবং সন্তুষ্টি। (আল্ ফাতহঃ২৯)

৩-মহান আল্লাহ আরও বলেনঃ

لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلّاً وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ (১০)[ الحديد ]

‘তোমাদের মধ্য হতে যারা বিজয়ের পূর্বে (আল্লাহর পথে) খরচ করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা (অন্যদের) সমান নয়। বরং তাদের মর্যাদা ওদের চেয়েও মহান যারা বিজয়ের পর খরচ করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। অবশ্য প্রত্যেককেই আল্লাহ্ হুসনা তথা জান্নাত প্রদানের ওয়াদা দিয়েছেন। আর আল্লাহ্ তোমাদের কৃত কর্ম সম্পর্কে সম্যক খবর রাখেন। (আল্ হাদীদঃ১০)

৪-মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ

وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (১০০)[ التوبة ]

আর মুহাজির ও আনছারদের মধ্য হতে যারা অগ্রণী ও প্রথম এবং যারা তাদের উত্তমভাবে অনুসরণকারী-আল্লাহ এদের সকলের উপর রাযী হয়েছেন, এরাও আল্লাহর উপর রাযী হয়েছে। এবং তাদের জন্য প্রস্ত্তত করে রেখেছেন জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত সেথায় তাঁরা চিরকাল অবস্থান করবে। এটা হল মহা সফলতা। (আত্ তাওবাহ্ঃ১০০)

উপরোক্ত আয়াত গুলোতে বেশ কিছু বিষয় সন্নিবেশিত হয়েছে আমরা তা থেকে কিছু এখানে উল্লেখ করবঃ

মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাহাবায়ে কেরামের ঈমান, ফযীলত, অগ্রগামীতা প্রভৃতি মর্মে মহান আল্লাহর সাক্ষ্য প্রদান। আর আল্লাহই সাক্ষ্যদাতা হিসাবে যথেষ্ট। এজন্যই খত্বীব বাগদাদী [দ্রঃ আল্ কিফায়াহ্ পৃঃ৯৩] বলেনঃ এই অর্থে পর্যাপ্ত পরিমাণে হাদীছ এসেছে। এগুলোই সবই কুরআনিক দলীলে যা এসেছে তারই অনুকুল। আর এগুলির সবকটি দলীলের এটাই চাহিদা যে ছাহাবায়ে কেরাম পবিত্র এবং তাঁরা সুনিশ্চিতভাবেই ন্যায়পরায়ন। অতএব এদের কেউই তাদের গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত নন। মহান আল্লাহর তাদীল তথা ন্যায়নিষ্ঠতার ঘোষণার পর অন্য কারো সাফাইয়ের তারা মুখাপেক্ষী নন।’’

২-তদ্রূপ উপরোক্ত দলীলাদি এই মর্মের প্রমাণ বহন করে যে, মহান আল্লাহ্ হলেন মহান দাতা, মহা সম্মানিত, মহা ক্ষমাশীল এবং অতীব দয়ালু। তিনি ছাহাবীদের সকলকেই জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, আর তাঁর ওয়াদাহ্ হল সত্য। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ

( وَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ وَعْدَهُ )[ الحج :৪৭]

‘আর আল্লাহ্ কখনই ওয়াদা ভঙ্গ করবেন না। (আল্ হাজ্জঃ৪৭)

মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ

( وَكُلّاً وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى )[ النساء :৯৫]

আর তিনি (ছাহাবীদের) সকলকেই জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। (আন্ নিসাঃ৯৫)

তিনি আরো বলেনঃ

وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (১০০)[ التوبة ]

আর তিনি প্রস্ত্তত করে রেখেছেন তাদের (ছাহাবীদের) জন্য জানণাত যার তলদেশে সমূহ নদীসমূহ প্রবাহিত, সেথায় তারা চিরকাল থাকবে। বস্ত্তত ইহা মহান সফলতা। (আত্ তাওবাহ্ঃ১০০)