১
কিতাবুন নিসা
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য
আমরা এ পৃথিবীতে নিজে নিজে আসিনি। বরং আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তবে তিনি আমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেননি। তিনি বলেন,
﴿أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَّأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ﴾
তোমরা কি মনে করেছ যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি; আর তোমরা আমার দিকে ফিরে আসবে না? (সূরা মু’মিনূন- ১১৫)
মানুষ যদি কল্যাণ পেতে চায় তবে তাকে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার সেই উদ্দেশ্যকে জানতে হবে এবং সেই উদ্দেশ্য সাধনকে সামনে রেখে নারী-পুরুষ সকলকেই তার জীবনের প্রতিটি কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো :
১. আল্লাহর দাসত্ব করা :
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ﴾
আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদাত করার জন্য।
(সূরা যারিয়াত- ৫৬)
ঈমান এনে নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, তাসবীহ-তাহলীল ইত্যাদি উপাসনামূলক কাজগুলো পালন করার সাথে সাথে আল্লাহর যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ হতে দূরে থাকতে হবে এবং সকল আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। আর জীবনের সকল কাজকে এমনভাবে সম্পাদন করতে হবে, যাতে তা ইবাদাতে পরিণত হয়।
২. আমল সুন্দর করা :
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿تَبَارَكَ الَّذِيْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ ‐ اَلَّذِيْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ﴾
বরকতময় সেই সত্তা যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব; তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, আমলের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে সর্বোত্তম? (সূরা মুলক- ১, ২)
মানুষ তার রবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর প্রেরিত জীবনবিধানকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করছে কিনা এ পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এর উপর ভিত্তি করেই মৃত্যুপরবর্তী জীবনে তার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারণ করে রেখেছেন।
৩. মানুষের কল্যাণ সাধন করা :
আল্লাহ তা‘আলা পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন,
﴿كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ﴾
তোমরা হচ্ছ শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনবে। (সূরা আলে ইমরান- ১১০)
এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা জানিয়েছেন যে, মানুষের কল্যাণ সাধন, ন্যায় কাজের বাস্তবায়ন এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য।
৪. খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা :
আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন তার খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে। পৃথিবীতে এসে আইন বা বিধান তৈরি করার দায়িত্ব আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপর ন্যসত্ম করেননি। বরং আল্লাহ নিজেই বিধান তৈরি করে মানুষের কাছে দিয়েছেন। মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে, আল্লাহর সেই বিধান পৃথিবীতে বাসত্মবায়িত করা। দাউদ (আঃ)-কে সম্বোধন করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَا دَاوُوْدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيْفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوٰى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ إِنَّ الَّذِيْنَ يَضِلُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيْدٌ ۢ بِمَا نَسُوْا يَوْمَ الْحِسَابِ﴾
হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলীফা (প্রতিনিধি) করেছি। অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ভাবে বিচার-মীমাংসা করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। তাহলে তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়- হিসাবের দিন ভুলে যাওয়ার কারণে তাদের জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি। (সূরা সোয়াদ- ২৬)
﴿أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَّأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ﴾
তোমরা কি মনে করেছ যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি; আর তোমরা আমার দিকে ফিরে আসবে না? (সূরা মু’মিনূন- ১১৫)
মানুষ যদি কল্যাণ পেতে চায় তবে তাকে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার সেই উদ্দেশ্যকে জানতে হবে এবং সেই উদ্দেশ্য সাধনকে সামনে রেখে নারী-পুরুষ সকলকেই তার জীবনের প্রতিটি কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো :
১. আল্লাহর দাসত্ব করা :
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ﴾
আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদাত করার জন্য।
(সূরা যারিয়াত- ৫৬)
ঈমান এনে নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, তাসবীহ-তাহলীল ইত্যাদি উপাসনামূলক কাজগুলো পালন করার সাথে সাথে আল্লাহর যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ হতে দূরে থাকতে হবে এবং সকল আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। আর জীবনের সকল কাজকে এমনভাবে সম্পাদন করতে হবে, যাতে তা ইবাদাতে পরিণত হয়।
২. আমল সুন্দর করা :
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿تَبَارَكَ الَّذِيْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ ‐ اَلَّذِيْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ﴾
বরকতময় সেই সত্তা যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব; তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, আমলের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে সর্বোত্তম? (সূরা মুলক- ১, ২)
মানুষ তার রবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর প্রেরিত জীবনবিধানকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করছে কিনা এ পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এর উপর ভিত্তি করেই মৃত্যুপরবর্তী জীবনে তার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারণ করে রেখেছেন।
৩. মানুষের কল্যাণ সাধন করা :
আল্লাহ তা‘আলা পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন,
﴿كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ﴾
তোমরা হচ্ছ শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনবে। (সূরা আলে ইমরান- ১১০)
এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা জানিয়েছেন যে, মানুষের কল্যাণ সাধন, ন্যায় কাজের বাস্তবায়ন এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য।
৪. খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা :
আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন তার খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে। পৃথিবীতে এসে আইন বা বিধান তৈরি করার দায়িত্ব আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপর ন্যসত্ম করেননি। বরং আল্লাহ নিজেই বিধান তৈরি করে মানুষের কাছে দিয়েছেন। মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে, আল্লাহর সেই বিধান পৃথিবীতে বাসত্মবায়িত করা। দাউদ (আঃ)-কে সম্বোধন করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَا دَاوُوْدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيْفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوٰى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ إِنَّ الَّذِيْنَ يَضِلُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيْدٌ ۢ بِمَا نَسُوْا يَوْمَ الْحِسَابِ﴾
হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলীফা (প্রতিনিধি) করেছি। অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ভাবে বিচার-মীমাংসা করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। তাহলে তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়- হিসাবের দিন ভুলে যাওয়ার কারণে তাদের জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি। (সূরা সোয়াদ- ২৬)