১
কিতাবুন নিসা
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৯
হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে নারীদেরকে দোষারোপ করা ঠিক নয়
ইসলামের দুশমনদের মধ্যে কতক লোক রয়েছে, যারা কুরআনের কিছু আয়াত অথবা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কিছু হাদীস উল্লেখ করে এগুলোর ব্যাখ্যা না বলে অথবা ভুল অর্থ গ্রহণ করে নারীদের মধ্যে বিভ্রামিত্ম ছড়ানোর চেষ্টা করে। যেমন এক হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ اَلْخُدْرِيِّ قَالَ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ فِيْ أَضْحًى ، أَوْ فِطْرٍ - إِلَى الْمُصَلّٰى فَمَرَّ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنِّيْ أُرِيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ فَقُلْنَ وَبِمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيْرَ مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِيْنٍ أَذْهَبَ لِلُبِّ الرَّجُلِ الْحَازِمِ مِنْ إِحْدَاكُنَّ قُلْنَ وَمَا نُقْصَانُ دِيْنِنَا وَعَقْلِنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ أَلَيْسَ شَهَادَةُ الْمَرْأَةِ مِثْلَ نِصْفِ شَهَادَةِ الرَّجُلِ قُلْنَ بَلٰى قَالَ فَذٰلِكَ مِنْ نُقْصَانِ عَقْلِهَا أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ قُلْنَ بَلٰى قَالَ فَذٰلِكَ مِنْ نُقْصَانِ دِيْنِهَا .
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে গেলেন। তিনি মহিলাদের নিকট আগমন করলেন, অতঃপর (তাদেরকে সম্বোধন করে) বললেন, হে মহিলার দল! তোমরা (আললাহর রাস্তায়) সাদাকা করো, কারণ আমাকে তোমাদের সবচেয়ে বেশি জাহান্নামী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তখন তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে আমাদের এ অবস্থা? নবী ﷺ বললেন, তোমরা বেশি বেশি অভিশাপ দিয়ে থাক এবং স্বামীদের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আমি জ্ঞান ও ধর্মের দিক থেকে তোমাদের চেয়ে এত কম অন্য আর কাউকে দেখিনি- যে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জ্ঞান বিনষ্ট করতে পারদর্শী। তাঁরা পুনরায় বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দ্বীন ও জ্ঞানের কমতিটা কী? তিনি বললেন, একজন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয় কি? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন নবী ﷺ বললেন, এটাই তার জ্ঞানের ঘাটতি। (পুনরায় বললেন) তোমরা যখন হায়েযগ্রস্ত হও তখন নামায পড় না এবং রোযাও রাখ না- ঠিক নয় কি? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, এটা হলো দ্বীনের ঘাটতি। [সহীহ বুখারী, হা/৩০৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৫০; তিরমিযী, হা/২৬১৩; ইবনে মাজাহ, হা/৪০০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৩৪৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১০০০; বায়হাকী, হা/১৩৭০; জামেউস সগীর, হা/১৩৯৪০; মিশকাত, হা/১৯।]
উক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মহিলার বিবেকের ত্রুটি হচ্ছে এই যে, সে স্মৃতি শক্তির দিক থেকে দুর্বল। আর তার দ্বীনের ত্রুটি হচ্ছে এই যে, সে ঋতুস্রাবকালীন সময় নামায পড়ে না এবং রোযাও রাখে না।
কিন্তু এ হাদীস থেকে এ কথা বুঝায় না যে, সর্ব বিষয়েই মহিলারা ত্রুটিপূর্ণ দ্বীন ও বিবেক রাখে। এমনিভাবে এটাও বুঝায় না যে, সে সর্ববিষয়ে পুরুষের নিম্নে অবস্থান করবে আর পুরুষ তার থেকে উচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত থাকবে। নিচের আয়াতটির দিকে লক্ষ্য করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে।
﴿ اَلرِّجَالُ قَوَّامُوْنَ عَلَى النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللهُ بَعْضَهُمْ عَلٰى بَعْضٍ وَّبِمَاۤ اَنْفَقُوْا مِنْ اَمْوَالِهِمْ﴾
পুরুষরা নারীদের কর্তা, আল্লাহ তাদেরকে একে অপরের উপর কিছু শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। কেননা পুরুষরা (নারীদের জন্য) তাদের ধনসম্পদ ব্যয় করে। (সূরা নিসা- ৩৪)
এখানে শ্রেষ্ঠত্ব শব্দটি সম্মান ও মর্যাদা অর্থে ব্যবহার করা হয়নি। বরং এখানে এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তাদের এক পক্ষকে তথা পুরুষদেরকে প্রকৃতিগতভাবে এমনসব বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি দান করেছেন, যা অন্য পক্ষকে তথা নারীদেরকে দেননি অথবা দিলেও প্রথম পক্ষের চেয়ে কম দিয়েছেন। এজন্য পারিবারিক ব্যবস্থাপনায় পুরুষই ‘কাওয়াম’ বা কর্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখে। আর নারীকে প্রাকৃতিক দিক দিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার কারণে পারিবারিক জীবনে তাকে পুরুষের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত।
আবার কিছু বিষয়ে দেখা যায় যে, নারীরা কখনো কখনো পুরুষদের উপর অনেক বিষয়ে প্রাধান্য লাভ করে থাকে। বাস্তবেও অনেক নারী বিবেক, দ্বীন ও ধারণ ক্ষমতার দিক থেকে সাধারণ পুরুষকে ছাড়িয়ে গেছে। এমনিভাবে তার নেক আমলও এমন হারে বৃদ্ধি পেতে পারে যে, এর ফলে সে নেক আমল ও তাকওয়া এবং পরলৌকিক মর্যাদায় অনেক পুরুষকে অতিক্রম করে ফেলবে।
সুতরাং কারো জন্য উচিত নয় যে, দ্বীন ও বিবেকের ত্রুটির কারণে কোন নারীকে সর্ববিষয়ে দোষারোপ করবে। কারণ দ্বীনের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থেকে উত্তম নারী হিসেবে গড়ে উঠাও তার পক্ষে সম্ভব।
عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ اَلْخُدْرِيِّ قَالَ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ فِيْ أَضْحًى ، أَوْ فِطْرٍ - إِلَى الْمُصَلّٰى فَمَرَّ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنِّيْ أُرِيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ فَقُلْنَ وَبِمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيْرَ مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِيْنٍ أَذْهَبَ لِلُبِّ الرَّجُلِ الْحَازِمِ مِنْ إِحْدَاكُنَّ قُلْنَ وَمَا نُقْصَانُ دِيْنِنَا وَعَقْلِنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ أَلَيْسَ شَهَادَةُ الْمَرْأَةِ مِثْلَ نِصْفِ شَهَادَةِ الرَّجُلِ قُلْنَ بَلٰى قَالَ فَذٰلِكَ مِنْ نُقْصَانِ عَقْلِهَا أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ قُلْنَ بَلٰى قَالَ فَذٰلِكَ مِنْ نُقْصَانِ دِيْنِهَا .
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে গেলেন। তিনি মহিলাদের নিকট আগমন করলেন, অতঃপর (তাদেরকে সম্বোধন করে) বললেন, হে মহিলার দল! তোমরা (আললাহর রাস্তায়) সাদাকা করো, কারণ আমাকে তোমাদের সবচেয়ে বেশি জাহান্নামী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তখন তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে আমাদের এ অবস্থা? নবী ﷺ বললেন, তোমরা বেশি বেশি অভিশাপ দিয়ে থাক এবং স্বামীদের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আমি জ্ঞান ও ধর্মের দিক থেকে তোমাদের চেয়ে এত কম অন্য আর কাউকে দেখিনি- যে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জ্ঞান বিনষ্ট করতে পারদর্শী। তাঁরা পুনরায় বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দ্বীন ও জ্ঞানের কমতিটা কী? তিনি বললেন, একজন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয় কি? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন নবী ﷺ বললেন, এটাই তার জ্ঞানের ঘাটতি। (পুনরায় বললেন) তোমরা যখন হায়েযগ্রস্ত হও তখন নামায পড় না এবং রোযাও রাখ না- ঠিক নয় কি? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, এটা হলো দ্বীনের ঘাটতি। [সহীহ বুখারী, হা/৩০৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৫০; তিরমিযী, হা/২৬১৩; ইবনে মাজাহ, হা/৪০০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৩৪৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১০০০; বায়হাকী, হা/১৩৭০; জামেউস সগীর, হা/১৩৯৪০; মিশকাত, হা/১৯।]
উক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মহিলার বিবেকের ত্রুটি হচ্ছে এই যে, সে স্মৃতি শক্তির দিক থেকে দুর্বল। আর তার দ্বীনের ত্রুটি হচ্ছে এই যে, সে ঋতুস্রাবকালীন সময় নামায পড়ে না এবং রোযাও রাখে না।
কিন্তু এ হাদীস থেকে এ কথা বুঝায় না যে, সর্ব বিষয়েই মহিলারা ত্রুটিপূর্ণ দ্বীন ও বিবেক রাখে। এমনিভাবে এটাও বুঝায় না যে, সে সর্ববিষয়ে পুরুষের নিম্নে অবস্থান করবে আর পুরুষ তার থেকে উচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত থাকবে। নিচের আয়াতটির দিকে লক্ষ্য করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে।
﴿ اَلرِّجَالُ قَوَّامُوْنَ عَلَى النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللهُ بَعْضَهُمْ عَلٰى بَعْضٍ وَّبِمَاۤ اَنْفَقُوْا مِنْ اَمْوَالِهِمْ﴾
পুরুষরা নারীদের কর্তা, আল্লাহ তাদেরকে একে অপরের উপর কিছু শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। কেননা পুরুষরা (নারীদের জন্য) তাদের ধনসম্পদ ব্যয় করে। (সূরা নিসা- ৩৪)
এখানে শ্রেষ্ঠত্ব শব্দটি সম্মান ও মর্যাদা অর্থে ব্যবহার করা হয়নি। বরং এখানে এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তাদের এক পক্ষকে তথা পুরুষদেরকে প্রকৃতিগতভাবে এমনসব বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি দান করেছেন, যা অন্য পক্ষকে তথা নারীদেরকে দেননি অথবা দিলেও প্রথম পক্ষের চেয়ে কম দিয়েছেন। এজন্য পারিবারিক ব্যবস্থাপনায় পুরুষই ‘কাওয়াম’ বা কর্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখে। আর নারীকে প্রাকৃতিক দিক দিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার কারণে পারিবারিক জীবনে তাকে পুরুষের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত।
আবার কিছু বিষয়ে দেখা যায় যে, নারীরা কখনো কখনো পুরুষদের উপর অনেক বিষয়ে প্রাধান্য লাভ করে থাকে। বাস্তবেও অনেক নারী বিবেক, দ্বীন ও ধারণ ক্ষমতার দিক থেকে সাধারণ পুরুষকে ছাড়িয়ে গেছে। এমনিভাবে তার নেক আমলও এমন হারে বৃদ্ধি পেতে পারে যে, এর ফলে সে নেক আমল ও তাকওয়া এবং পরলৌকিক মর্যাদায় অনেক পুরুষকে অতিক্রম করে ফেলবে।
সুতরাং কারো জন্য উচিত নয় যে, দ্বীন ও বিবেকের ত্রুটির কারণে কোন নারীকে সর্ববিষয়ে দোষারোপ করবে। কারণ দ্বীনের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থেকে উত্তম নারী হিসেবে গড়ে উঠাও তার পক্ষে সম্ভব।