hadith book logo

কিতাবুন নিসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৪

ফরয গোসল করার নিয়ম

গোসল করার সময় প্রথমে দু’হাত কব্জি পর্যন্ত তিন বার ধৌত করতে হবে। তারপর লজ্জাস্থান পরিষ্কার করতে হবে। অতঃপর দু’পা ব্যতীত নামাযের ওযুর ন্যায় ওযু করতে হবে। পরে মাথায় তিন বার পানি ঢেলে সম্পূর্ণ শরীর ধৌত করতে হবে, যাতে শরীরের কোন জায়গা শুকনো না থাকে। সব শেষে দু’পা ধৌত করতে হবে। [সহীহ বুখারী, হা/২৪৮; আবু দাউদ, হা/২৪২।]

মহিলাদের চুলের খোপা খোলা জরুরি নয়, বরং চুলের গোড়া ভিজালেই যথেষ্ট হবে।

উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো মাথায় চুলের বেনী গেঁথে থাকি। সুতরাং অপবিত্রতার গোসলের সময় কি আমি তা খুলব? তিনি বললেন, না। বরং তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি মাথার উপর তিন আজলা পানি ঢেলে দিবে। অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢেলে দিয়ে পবিত্র হয়ে যাবে। [সহীহ মুসলিম, হা/৭৭০; আবু দাউদ, হা/২৫১; তিরমিযী, হা/১০৫; নাসাঈ, হা/২৪১; ইবনে মাজাহ, হা/৬০৩।]

হায়েয ও নিফাসের গোসল জানাবাতের গোসলের মতোই। তবে এক্ষেত্রে আরো কিছু কাজ রয়েছে। যেমন- সুগন্ধি জাতীয় কোন কিছু ব্যবহার করা।

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে হায়েয থেকে পবিত্রতার গোসল প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, প্রথমে সুগন্ধি মিশ্রিত তুলা অথবা পশমী কাপড়ের একটি টুকরা লও। তারপর তা দ্বারা পবিত্রতা লাভ করো। মহিলা বলল, আমি কীভাবে এর দ্বারা পবিত্রতা লাভ করব? তিনি পুনরায় বললেন, তুমি তা দিয়ে পবিত্রতা লাভ করো। তারপরও মহিলা বলল, কীভাবে আমি এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করব? উত্তরে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সুব্হানাল্লাহ! তুমি পবিত্রতা অর্জন করো। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তারপর আমি ঐ মহিলাকে টেনে নিয়ে এসে বললাম, তোমার হায়েযের রক্ত যে যে স্থানে লেগেছে খোঁজ করবে এবং মিশক (সুগন্ধি) যুক্ত কাপড়ের টুকরা দিয়ে সে স্থানে মালিশ করবে। [সহীহ বুখারী, হা/৩১৪; নাসাঈ, হা/২৫১; মিশকাত, হা/৪৩৭।]

স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একত্রে গোসল করা বৈধ :

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ একই পাত্র থেকে গোসল করতাম, যা আমার এবং তাঁর মাঝখানে থাকত। তিনি আমার থেকে আগে তাড়াতাড়ি করে ফেলতেন। তখন আমি বলতাম, আমার জন্য একটু রেখে দিন, আমার জন্য একটু রেখে দিন। [সহীহ মুসলিম, হা/৭৫৮; নাসাঈ, হা/২৩৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪২৬; বায়হাকী, হা/৮৫২।]