hadith book logo

কিতাবুন নিসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

মুসলিম নারীকে পাপ থেকে দূরে থাকতে হবে

একজন মুসলিম নারীর দায়িত্ব হলো সে সর্বদা নিজেকে অন্যায় ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করবে। যেমন-

১. আল্লাহ তা‘আলার সাথে সম্পর্কিত ইবাদাতের নির্দেশের ব্যাপারে শৈথিল্যতা প্রদর্শন করা থেকে সতর্ক থাকা।

২. আত্মার দুর্বলতা ও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি আস্থাহীনতা থেকে সতর্ক থাকা।

৩. যাদুকর, ভেল্কিবাজ, ভন্ড ও প্রতারক, জ্যোতিষী, ভবিষ্যদ্বাণী পাঠকারী প্রমুখের মতো কাফির, ফাসিক ও পথভ্রষ্টদের থেকে সতর্ক থাকা। আফসোসের বিষয় হলো, ঐসব ব্যক্তিদের নিকট গমনকারীদের অধিকাংশই হলো নারী।

৪. পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার প্রবণতা থেকে সতর্ক থাকা, যা অধিকাংশ নারীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে তারা খাটো, হালকা-পাতলা, বাহু নগ্নকারক, দৃষ্টি আকর্ষক ও কাফির নারীদের অনুকরণীয় পোশাক পরিধান করতে শুরু করেছে।

৫. বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সর্বক্ষেত্রে কাফির নারীদের অনুসরণ ও অনুকরণ করা থেকে সতর্ক থাকা। তাদের কর্মকান্ডে বিমুগ্ধ হওয়া থেকে সতর্ক থাকা। কারণ মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকাংশ নারী চুল, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং আচার-আচরণ, শিক্ষা-সংস্কৃতি ইত্যাদির ক্ষেত্রে কাফির ও মুশরিক নারীর অনুসরণ করতে শুরু করেছে। অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন,

لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا

যে ব্যক্তি বিজাতির অনুসরণ করে সে আমাদের অর্থাৎ মুসলিম মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। [তিরমিযী, হা/২৬৯৫; মু‘জামুল আওসাত, হা/৭৩৮০; জামেউস সগীর, হা/৯৫৬৫; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২১৯৪; মিশকাত, হা/৪৬৪৯।]

অন্য একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - : مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে। [আবু দাউদ, হা/৪০৩৩; জামেউস সগীর, হা/১১০৯৪; মিশকাত, হা/৪৩৪৭।]

৬. গীবত করা, চোগলখুরী করা, কুৎসা রটনা করা, মিথ্যা কথা বলা ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক কাজসমূহ থেকে সতর্ক থাকা। কেননা এসব কাজের প্রবণতা বর্তমান সমাজের নারীদের মাঝেই বেশি লক্ষ্য করা যায়। অথচ এসব কাজ করলে ধীরে ধীরে তার সকল আমল নষ্ট হয়ে যাবে। অবশেষে শূন্য হাতে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হতে হবে।

৭. অমুসলিম মিশনারীতে চাকুরি নেয়া থেকে সতর্ক থাকা। কেননা তারা তাদের দ্বারা চাকুরির দোহাই দিয়ে এমন কিছু কাজ করিয়ে নেয়, যা পরবর্তীতে মুসলিম জাতির জন্য বিরাট বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন- নারীদেরকে ঘর থেকে বের করে রাস্তায় নিয়ে আসা, ধর্মান্তরিত করা, মুসলিম সমাজে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, নারী স্বাধীনতার নামে নারীদের দ্বারা শরীয়তবিরোধী কাজকর্ম করতে বাধ্য করা, মুসলিম শিশুদেরকে ইসলামী শিক্ষার পরিবর্তে অনৈসলামিক শিক্ষা প্রদান করা ইত্যাদি।

৮. অমুসলিম মিশনারীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে লেখাপড়া করার ব্যাপারেও সতর্ক থাকা। কেননা এর মাধ্যমে তারা মুসলিম নারীদেরকে খুব সহজেই ইসলাম থেকে বিমুখ করে দিতে পারে।

এসব থেকে মুসলিম নারীর সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। যেমনিভাবে শরীয়তের নিয়ম-কানুনের আনুগত্য করলে সওয়াব হয়, ঠিক তেমনিভাবে অন্যায়-অপরাধ পরিত্যাগ করার কারণেও নেকী হয়। সুতরাং আনুগত্যের কাজ সম্পাদনের ব্যাপারে তার যেমন দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে অন্যায়-অপরাধ পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রেও তার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বড়।